ডব্লিউআরসি’র প্রতিবেদনে মজুরিসংক্রান্ত বিষয়গুলোর বেশিরভাগই বিতর্কিত, দাবি বিজএমইএ-এর

আমাদের নতুন সময় : 15/05/2019

স্বপ্না চক্রবর্তী : ওয়ার্কার রাইট কনসোর্টিয়াম (ডব্লিউআরসি) কর্তৃক সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত ‘ব্যানি হোপ : বাংলাদেশ গার্মেন্ট ওয়ার্কাস, সিকিং আ ডলার অ্যান আওয়ার ফেইস মাস ফায়ারিং, ভায়োলেন্স অ্যান্ড ফরস অ্যারেস্টস’ শিরোনামের এক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। বিজিএমইএ দাবি করছে, ডব্লিউআরসির প্রতিবেদনে মজুরিসংক্রান্ত বিষয়গুলোর বেশিরভাগই বিতর্কিত।

গতকাল মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিএমইএ বলে, উচ্চহারে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে তৈরি পোশাক খাতে কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পাঁচটি কেস স্টাডি নিয়ে তৈরি হওয়া প্রতিবেদনটির কেসগুলো নিয়ে তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।

ডব্লিউআরসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ন্যূনতম মজুরি শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও লিভিং ওয়েজের তুলনায় অপর্যাপ্ত। বিশ্বে লিভিং ওয়েজ নিয়ে কোনো গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা না থাকলেও প্রতিবেদনে এমন অনেক বিষয় উপেক্ষা করা হয়েছে যেগুলো বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। এর প্রতিবাদে বিজিএমইএ জানায়, ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেকোনো দেশে গুরুত্ব দেয়া হয় সেখানকার জনগণের অর্থনৈতিক অবস্থা এবং আয়ের স্তরে। এক্ষেত্রে ডব্লিউআরসির প্রতিবেদনে শ্রমিকদের চাহিদা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় হিসাবে নেয়া হলেও উৎপাদনশীলতার হার, বিশাল কর্মসংস্থানকে অক্ষুণœ রেখে উৎপাদন কর্মকা- পরিচালনা, জনগণের গড়পড়তা অবস্থান ও আয় একই রকম গুরুত্ব নিয়ে বিবেচনা করা হয়নি। এছাড়া মূল্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কখনোই এ ধরনের প্রতিবেদনগুলোতে উঠে আসে না। সার্বিক বিবেচনায় মনে রাখা জরুরি উচ্চহারে ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হলে তা কর্মসংস্থানের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে বলে মনে করছেন দেশের পোশাক মালিক উদ্যোক্তারা।

ডব্লিউআরসির প্রতিবেদনে বলা নির্বাচনপূর্ব সহিংসতা প্রসঙ্গে বিজিএমইএ বলেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার সময় ন্যূনতম মজুরি নিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষোভ হয়। নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতির স্পর্শকাতর হওয়ায় বিক্ষোভ সৃষ্টির মাধ্যমে এ খাতকে শঙ্কার দিকে ঠেলে দেয়া খুবই সহজ। প্রতিবেদনে এই স্পর্শকতার বিষয়টি উঠে আসেনি বলেও অভিযোগ করে বিজিএমইএ। প্রতিবেদনে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ধর্মঘটের কারণে সাড়ে ৭ হাজার থেকে ১১ হাজার ৬০০ শ্রমিক ছাঁটাই হয়েছে বলা হলেও তা যাচাইয়ের উপযুক্ত সূত্র নেই বলে দাবি করে বিজিএমইএ।

প্রতিবেদনে মাহমুদ ফ্যাশনসের দায়ের করা এক মামলায় ভুলে আতাউর ও সবুজ, সেবল্টের দুই কর্মীকে গ্রেপ্তার, অবন্তী কালার টেক্সের ১ হাজার ২০০ কর্মী বরখাস্তের বিষয়ে বিজিএমইএ জানায়, মামলাটি প্রত্যাহারের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। আর অবন্তী কালার টেক্সের কর্মী ছাঁটাইয়ের ক্ষেত্র যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিলো কিনা সে বিষয়ে আলোচনা করছে বিজিএমইএ। এ ছাড়া ডব্লিউআরসির বলা অন্য বিশেষ কেসগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোর কাছে সিসি ক্যামেরা ফুটেজ চেয়েছে বিজিএমইএ। কারখানাগুলোতে কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা সংশোধনে উদ্যোগ নেয়ার কথা বলেছে সংগঠনটি। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]