দুদকের বার্ষিক প্রতিবেদনমামলা, গ্রেপ্তার ও সাজার হার কমেছে

আমাদের নতুন সময় : 15/05/2019

তাপসী রাবেয়া : ২০১৮ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা ও গ্রেপ্তারের সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় কম ছিলো। মামলায় অভিযোগপত্রও দেয়া হয়েছে কম। কমেছে সাজার পরিমাণও। সংস্থার ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

দুদক সূত্র বলছে, প্রমাণযোগ্য (পর্যাপ্ত দলিলপত্র আছে এমন) মামলা করার বিষয়ে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন করার কারণে মামলার সংখ্যা কিছুটা কমেছে। একই অবস্থা অভিযোগপত্রের ক্ষেত্রেও। ২০১৮ সালে দুদক ২১৬টি মামলা করেছে। কিন্তু ২০১৭ ও ২০১৬ সালে এ সংখ্যা ছিলো যথাক্রমে ২৭৩ ও ৩৫৯টি। একইভাবে অভিযোগপত্র অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে দুদক পিছিয়ে ছিলো গত বছর। ২০১৮ সালে ২৩৬টি অভিযোগপত্র অনুমোদন করেছে তারা। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ছিলো ৩৮২ এবং ২০১৬ সালে ৫৩৫টি।

এবিষেয়  দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, দলিলপত্র ও সাক্ষ্যপ্রমাণ আরও নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তাই মামলা মোকদ্দমা বা প্রতিরোধমূলক কাজের পরিমাণ কিছুটা কম মনে হচ্ছে। গত তিন বছরে দুদকের গ্রেপ্তার অভিযান বেশ আলোচনায় এসেছে। তবে গত বছর গ্রেপ্তারের পরিমাণ কম ছিলো। দুদকের তথ্য অনুসারে ২০১৬ সালে  গ্রেপ্তার করা হয় ৩৮৮ জন, ২০১৭ সালে ১৮২ জন, ২০১৮ সালে ৫৭ জন।

গত বছরের অক্টোবরে সরকারি কর্মচারী আইন পাস হওয়ার পর দুদকের গ্রেপ্তার অভিযানে কিছুটা ভাটা পড়ে। এ আইন থাকার কারণে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গ্রেপ্তার করা যাবে কি যাবে না, সেই বিতর্কের মধ্যে ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের একজন রাজস্ব কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে দুদক। এর কিছুদিন পর ২৪ জানুয়ারি দুদকের এক কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হন আনসার-ভিডিপির জেলা কমান্ড্যান্ট।

২০১৮ সালে দুদকে লিখিত অভিযোগ আগের বছরের তুলনায় কম এসেছে। এসব অভিযোগের একটি বড় অংশ দুদকের তফসিলভুক্ত না হওয়ায় সেগুলো আমলে নেয়নি তারা। দুদক মনে করছে, তাদের হটলাইন চালু হওয়ার পর লিখিত অভিযোগ দেড় হাজার কম এসেছে। বিনা খরচে এবং যেকোনো মোবাইল বা টেলিফোন থেকে ১০৬ নম্বরে ফোন করে দুদককে দুর্নীতির তথ্য, অভিযোগ জানানো যায়।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গত বছর দুদককে সেভাবে সক্রিয় দেখা যায়নি। নিয়ন্ত্রণমূলক কাজের চেয়ে প্রতিরোধমূলক কাজে সক্রিয় ছিলো বেশি। তারা যেসব মামলা বা অনুসন্ধানে সক্রিয় ছিলো, সেগুলো মূলত মধ্যম ও ছোটখাটো দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে। উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তেমন সক্রিয় দেখা যায়নি। ব্যাংক খাতের মতো আলোচিত অনেক বিষয়েই তারা সক্রিয় ছিলো না। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]