মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয় কবে দেখবে আলোর মুখ?

আমাদের নতুন সময় : 15/05/2019

মোহাম্মদ আলী বোখারী, টরন্টো থেকে : এ বিষয়টি আপনার দৃষ্টিগোচর করছি এই জন্য যে, প্রস্তাবিত বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোক্তা ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন সম্প্রতি নিরুপায় হয়ে ফেসবুকে আপনার প্রতি আকুল আবেদন জানিয়েছেন। তারপরও প্রবাস থেকে লিখছি। এর কারণ, শিক্ষা প্রসারে আপনার আগ্রহ প্রশংসনীয়। সেটা যেমন জনসভা ও জাতীয় সংসদে নিজের সন্তানের সাফল্যের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তেমনি জনগণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনেও তুলে ধরেন।ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন আর কেউ নন, একজন মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক এবং বঙ্গবন্ধুর অকুণ্ঠ সমর্থকের সন্তান। কিশোর বয়সেই বাবাকে হারিয়ে অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষায় মানুষ হয়েছেন।

বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে প্র্যাকটিসরত। শুরুতে স্বল্পকাল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগে শিক্ষকতা করেছেন। প্রায় ৮ বছর আগে ঢাকার অদূরে গাজীপুরে ‘বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন এবং ২০১০ সালের আইনানুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন প্রত্যাশায় প্রয়োজনীয় ফি সহকারে আবেদন জমা দেন। সেক্ষেত্রে ২০১৬ সালে আপনি ও তারও আগে ২০১২ সালে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান শিক্ষা সচিবকে প্রয়োজনীয় নির্দেশপত্র দেন। এতে ছিলো তৎকালীন সংসদীয় ভূমি বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ও বর্তমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আকম মোজাম্মেল হক স্বাক্ষরিত ‘ডিও’ এবং ধামরাই আসন থেকে নির্বাচিত সাংসদ বেনজির আহমদের সুপারিশ। উপরন্তু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) দুই দফা প্রস্তাবিত ক্যাম্পাস পরিদর্শন শেষে সন্তুষ্টিপূর্ণ মতামত দেয়। তারপরও এই অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।এতে উদ্যোক্তার প্রশ্নÑ কতো টাকা সচিবালয়ের সচিব ও কর্মকর্তাদের দিলে বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনটি পাওয়া যাবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার এবং অন্যদেরও সোচ্চার হতে উৎসাহিত করেন।

তাই আমাদের বিস্মৃত হলে চলবে না যে, ড. সৈয়দ জাভেদ মোহাম্মদ সালেহউদ্দিনের প্রয়াত পিতা ব্যারিস্টার সৈয়দ কামরুল ইসলাম মোহাম্মদ সালেহউদ্দিন ছিলেন একজন আদর্শিক জীবনের অধিকারী মানুষ।তার নির্লোভ ও সহায়-সম্পত্তিহীন রাজনৈতিক জীবনে আওয়ামী লীগ থেকে ১৯৭০ সালে ফরিদপুর আসনে জাতীয় পরিষদ সদস্য (এমএনএ), ১৯৭২ সালে গণপরিষদের সদস্য (এমসিএ) এবং ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।

তারও আগে বঙ্গবন্ধু আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হলে সংগ্রামী সেই মানুষটি লন্ডন থেকে স্যার উইলিয়াম থমাসকে ঢাকায় পাঠানোর বন্দোবস্ত করেন। ১৯৭৪ সালে ওআইসি-তে বাংলাদেশের অর্ন্তভুক্তি ও বঙ্গবন্ধুর যোগদানের পেছনে মওলানা ভাসানী ও তার একান্ত পরামর্শ ছিলো।এমনকি ১৯৭৫ সালের বাজেট বক্তৃতায় তিনি বঙ্গবন্ধুকে দেশি-বিদেশি চক্রান্ত থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।   ফলশ্রুতিতে বাবার মতোই ড. জাভেদ সৎ ও নির্লোভ এবং বাবার মুক্তিযোদ্ধা ভাতাটিও গ্রামীণ গরিব সন্তানের শিক্ষাবৃত্তিতে খরচ করেন। অনুগ্রহ করে দেখবেন কী, কেন শিক্ষাসচিব তার প্রস্তাবিত বেঙ্গল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনটি আটকে রেখেছেন?




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]