‘রক্তে যাদের ছাত্রলীগ তারা বাদ যায় রূপে যাদের জাদু আছে তারা পদ পায়’

আমাদের নতুন সময় : 15/05/2019

বিভুরঞ্জন সরকার : জাতীয় সম্মেলনের এক বছর পর গত ১৩ এপ্রিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্য বিশিষ্ট  কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষিত হয়েছে। ছাত্রলীগের এই কমিটি অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কিন্তু কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়েছে। যারা প্রত্যাশিত পদ পেয়েছেন তারা খুশি আর যারা পদবঞ্চিত হয়েছেন অথবা প্রত্যাশিত পদ পাননি তারা স্বাভাবিকভাবেই বেজায় অখুশি। এই ‘অখুশি’র দল কমিটি ঘোষণার ঘন্টা দুয়েকের মধ্যেই বিক্ষোভ মিছিল করেছেন, মধুর ক্যান্টিনে সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন, নারী কর্মীসহ ১০-১২ জান আহত হয়েছেন। পরের দিন সংবাদ সম্মেলন করে এই ‘অখুশি’র দল ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ‘বিতর্কিত’  কমিটি বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। না হলে তারা আমরণ অনশনসহ আন্দোলনের কর্মসূচির ঘোষণারও হুমকি দিয়েছেন। তাদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকৃত তথ্য পৌঁছলে তিনি এই কমিটি ভেঙ্গে  দেবেন।

এখন প্রশ্ন হলো, কমিটি গঠনের আগে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কি তথ্য গোপন করা হয়েছে? বিক্ষুব্ধদের অভিযোগ, কমিটিতে এমন কেউ কেউ স্থান পেয়েছেন যারা ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, বয়স্ক, বিভিন্ন মামলার আসামি, পরীক্ষায় নকলের অভিযোগে বহিষ্কৃত, সরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা এবং বিএনপি-জামায়াত পরিবারের সদস্য। যোগ্যতা অনুসারে পদ দেয়া হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘টাকা, রূপের টান এবং পকেট কমিটিকারীদের হাতে’ ছাত্রলীগ জিম্মি বলেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এছাড়া পদ দেয়ার ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতিরও অভিযোগ আনা হয়েছে। সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীর জেলা থেকে ২২ জন নতুন কমিটিতে স্থান পেয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ছাত্রলীগের মতো একটি বড়ো সংগঠনের ‘বিশাল’ কমিটি গঠন নিয়ে কিছু ক্ষোভ-অসন্তোষ থাকা স্বাভাবিক। যারা নিয়মিত সাংগঠনিকভাবে কাজে যুক্ত তারা যেমন মূল্যায়ন চান, কমিটিতে স্থান পেতে চান, তেমনি নেতাদের পেছনে পেছনে ঘুরে সময় ব্যয় করেন যারা তারাও  পদ-পদবি পেতে চান। সবাইকে সন্তুষ্ট করা যায় না। আবার কমিটি গঠনের সময় নীতি-নির্ধারকদেরও নানা কিছু বিবেচনা করতে হয়। এই সব বিবেচনায় কখনো কখনো যোগ্যরা বাদ পড়েন। তবে এই বাদ পড়ার সংখ্যা যদি বেশি হয় তাহলে কমিটি গঠন করে খুব বেশি সুফল পাওয়া যায় না। ছাত্রলীগের নতুন কমিটি গঠনে যদি বড়ো ধরনের ‘গোলমাল’ হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার।

ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আক্তারুজ্জামানের পুত্র আশিক খান ছাত্রলীগের কমিটিতে স্থান পাওয়া নিয়ে কথা উঠেছে। কিন্তু আশিক যদি ছাত্রলীগের সদস্য হয়ে থাকেন এবং তিনি  পদ পাওয়ার যোগ্য হয়ে থাকেন তাহলে ভিসির পুত্র হওয়ার কারণে তার পদ বঞ্চিত হয়ে বাঞ্ছনীয় নয়। ভিসির পুত্র ছাত্রলীগ করতে পারবেন না, এমন কোনো বিধি-নিষেধ কি আমাদের সংবিধান বা ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্রে আছে? সমালোচনার জন্য সমালোচনা না করে প্রকৃত ভুলত্রুটি শোধরানোর পথে হাঁটাই উত্তম।

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]