• প্রচ্ছদ » » ভ‚মধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া মানুষ এবং ভেবে দেখার গল্প


ভ‚মধ্যসাগরে ডুবে যাওয়া মানুষ এবং ভেবে দেখার গল্প

আমাদের নতুন সময় : 16/05/2019

কাকন রেজা

এক. ভ‚মধ্যসাগরে ডুবে মারা গেছেন সাঁইত্রিশজন বাংলাদেশি। না তারা টাইটানিকের মতো ঘটনায় প্রাণ হারাননি। তাদের ভ্রমণ প্রমোদের ছিলো না। তারা অর্থ উপার্জনের আশায় বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন। নিজ ও পরিবারের জীবন নিরাপদ করতে ছিলো তাদের এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রা। কিন্তু তারা সফল হননি। সফল হলে দশ টাকার হকার থেকে দশ হাজার কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ার সাফল্যের গল্প ছাপা হতো কাগজে।
গণমাধ্যম লিখেছে, ‘সাগরে স্বপ্নের সমাধি, সিলেটে আহাজারি’। এই যে, আহাজারির কথা ছাপিয়ে গেলো সাফল্যের গল্পকে, এর মধ্যে কি কোনো অসঙ্গতি চোখে পড়ে না আপনাদের? প্রশ্ন উঠে না, মধ্যম আয়ের একটি দেশ থেকে কেন এতো মানুষ মরিয়া হয়ে, নিজের জীবনের পরোয়া না করে অভিবাসনের চেষ্টা চালায়। মারা গেছেন সাঁইত্রিশজন, উদ্ধার হয়েছেন আরো চৌদ্দজন মানুষ, এটা তো ভ‚মধ্যসাগরের সদ্যসমাপ্ত গল্প। এই গল্পের সঙ্গেই আরেকটি গল্প রয়েছে। তাতে উঠে এসেছে ভানুয়াতু নামে একটি রাষ্ট্রে আটকে থাকা একশো একজন বাংলাদেশির কথা। ভানুয়াতু এই খবরের আগে এর নাম হয়তো অনেকেই শোনেননি, আমিও না। ভানুয়াতু ওশেনিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র, মানে অস্ট্রেলিয়া মহাদেশে আর কি।
এই যে, একশো একজন বাংলাদেশি তারাও হয়তো ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়ার কোনো দেশে যেতে চেয়েছিলেন। উদ্দেশ্য একটাই, নিজ পরিবারের নিশ্চিত ও নিরাপদ জীবন। এর আগেও ডুবে গেছেন অনেকে। থাইল্যান্ডে, ইন্দোনেশিয়ার কারাগারে এমনকি বনজঙ্গলেও আটকে রয়েছেন অনেক মানুষ। এসব খবরও জানিয়েছে গণমাধ্যম। এরা সবাই অভিবাসী হবার চেষ্টায় ছিলেন। কেন ছিলেন, এমন প্রশ্নটা এই সময়ে সঙ্গত। দেশ ছেড়ে কেন মানুষ প্রাণ হাতে নিয়ে কখনো বৈধ, কখনো অবৈধ উপায়ে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছেন, এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার সময় এসেছে। শুধু রেমিটেন্সের গুণগান এবং প্রবাসীদের জন্য স্তুতিবাক্যই যথেষ্ট নয়। মনে রাখতে হবে, তারা দেশকে দিয়ে যাচ্ছেন, তারা সফল। কিন্তু তাদের আত্মঘাতী অভিযাত্রা রুখতে রাষ্ট্র কতোটা সফল, তাও ভেবে দেখতে হবে। না হলে ভ‚মধ্যসাগরের ট্র্যাজেডি বারবার ফিরে আসবে।
দুই. মূলত অসঙ্গতির কথা লিখতে বসা আজকে। আরেকটি গল্পের কথা বলি। চাকরি না থাকায় সুপার শপ থেকে এক অসহায় বাবার দুধ চুরির কাহিনী সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। সেই পিতার চাকরি ছিলো না, কিন্তু সন্তানের মুখে খাবার তুলে দিতে হয়, তাই চুরি করা। এর মধ্যে হয়তো কেউ অন্য অর্থ বের করতে চাইবেন, কিন্তু এর ট্র্যাজিক দিকের কাছে আপনি যে অর্থই বের করুন না কেন, সবই নিষ্প্রভ হয়ে যাবে। বিষয়টি ভাইরাল হবার পর সেই সুপার শপেই ওই বাবার চাকরি হয়েছে। তাই সুপার শপ নিয়ে আপাত সমালোচনায় যাই না। তবে সমালোচনার পাশাপাশি আলোচনারও অনেকে আছেন, তেমনি সেই পুলিশ অফিসার। যার পোস্টের কারণে বিষয়টি ভাইরাল হয়েছিলো। সালাম তাকে।
সামাজিক মাধ্যম মনে করিয়ে দিলো আরেক অসহায় পিতা হযরতের কথা। যার সাত বছরের শিশু কন্যা আয়েশা ধর্ষিতা হয়েছিলো। বিচার না পেয়ে কন্যাসহ ট্রেনের চাকায় আত্মাহুতি দিয়েছিলেন সেই হযরত। কতোটা বিপর্যস্ত হলে একজন পিতা নিজ কন্যাসহ আত্মহননের পথ বেছে নেন! অবশ্য আত্মহনন এখন গণমাধ্যমের কমন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র থেকে ভ্যানচালক অনেকেই খবরের শিরোনাম হচ্ছেন! কেন হচ্ছেন? তবে কী বেঁচে থাকার জায়গাগুলো ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে! তবে কী এতো আলোচনা, এতো গল্পের ফানুষ সবই মিথ্যা! হাতিরঝিলের আলোর নাচনের সঙ্গে যায় কী ভ‚মধ্যসাগরের প্রলয় নাচন! যায় কী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রের সুইসাইড নোট! না গেলে, নিশ্চয়ই আছে কোথাও অসঙ্গতি। আত্মহননের অভিযাত্রা রুখতে সে অসঙ্গতি চিহ্নিত করার কোনো বিকল্প আছে কি? লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]