• প্রচ্ছদ » » শুভ জন্মদিন অন্নদাশঙ্কর রায়


শুভ জন্মদিন অন্নদাশঙ্কর রায়

আমাদের নতুন সময় : 16/05/2019

বাবলু ভট্টাচার্য

উনিশ শতকের বাঙালি রেনেসাঁ ঐতিহ্যের শেষ বুদ্ধিজীবী হিসেবে যার নাম উচ্চারণ করা হয়, তিনি অন্নদাশঙ্কর রায়। অন্নদাশঙ্করের পূর্বপুরুষের আদিনিবাস ছিলো পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কোতরং গ্রামে। কর্মসূত্রে তারা বসবাস শুরু করেন ওড়িশার ঢেঙ্কানালে। জমিদার হিসেবে তার পূর্বপুরুষেরা ছিলেন প্রজাহিতৈষী, মানবতাবাদী ও অসাম্প্রদায়িকতায় বিশ্বাসী। তাদের পরিবারে নিয়মিত চর্চা হতো সাহিত্য-সংস্কৃতির।
অন্নদাশঙ্করের শিক্ষাজীবন আরম্ভ হয় ঢেঙ্কানালের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ১৯২৫ সালে তিনি পাটনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে অনার্সসহ বিএ পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম হন। এমএ (ইংরেজিতে) শ্রেণিতে পড়াকালে ১৯২৭ সালে অন্নদাশঙ্কর রায় আইসিএস পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকার করে প্রশিক্ষণের জন্য চলে যান ইংল্যান্ডে। সেখানে তিনি লন্ডনের ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ’, ‘কিংস কলেজ’, ‘লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস’, ‘লন্ডন স্কুল অব ওরিয়েন্টাল স্টাডিজে’ পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
১৯২৯ সাল থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে নয় বছর পশ্চিমবঙ্গে এবং নয় বছর পূর্ববঙ্গে বিভিন্ন পদে নিয়োজিত ছিলেন তিনি। অবিভক্ত বঙ্গের মুর্শিদাবাদ, বাঁকুড়া, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, ঢাকা, ময়মনসিংহ, কুষ্টিয়া, নদীয়া, ত্রিপুরা, মেদিনীপুর, হুগলি এবং হাওড়ায় তিনি নিযুক্ত ছিলেন কখনো শাসন বিভাগে, কখনো বিচার বিভাগে যথাক্রমে ম্যাজিস্ট্রেট ও জজ হিসেবে।
চাকরি ছাড়ার পর অন্নদাশঙ্কর বসবাস শুরু করেন শান্তি নিকেতনে। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রæয়ারি বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বাঙালির আত্মদান তার মনে গভীরভাবে রেখাপাত করে।
বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অন্নদাশঙ্কর রায় ওড়িয়া সাহিত্যিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মাত্র ২০ বছর বয়সেই। তার প্রথম কবিতা রচিত হয়েছে ওড়িয়া ভাষায়। বাংলা, ইংরেজি, ওড়িয়া, সংস্কৃত, হিন্দি-সব ভাষায় পারদর্শী হলেও বাংলাকেই তিনি সাহিত্যচর্চার মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন। বাড়ির ও কলেজের গ্রন্থাগারে তিনি সুযোগ পান ভারতীয় এবং ইউরোপীয় সাহিত্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার। অন্নদাশঙ্কর রায় কোনো গোষ্ঠীভুক্ত লেখক ছিলেন না। দীর্ঘজীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে প্রায় সত্তর বছর ধরে প্রবন্ধ, উপন্যাস, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনী, ছড়া, কবিতা, নাটক, পত্রসাহিত্য, আত্মজীবনীমূলক রচনা প্রভৃতি লিখে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেন তিনি। সব মিলিয়ে তার গ্রন্থের সংখ্যা বাংলায় ১২৩টি। ইংরেজিতে ৯টি এবং ওড়িয়া ভাষায় ৩টি। তার সাহিত্য সৃষ্টি বৈচিত্র্যপূর্ণ। গদ্য ও পদ্য উভয় ক্ষেত্রেই ভ‚মিকা রেখেছেন তিনি। কেবল আঙ্গিকে নয়, ভাববৈচিত্র্যেও তার রচনা কালোত্তীর্ণ। বহুমুখী ভাবানুভ‚তি তার রচনার বিশেষত্ব। বিষয়বৈচিত্র্যে তার রচনা সমৃদ্ধ। বাংলা ভাষা ও বাংলাভাষী মানুষের প্রতি তার দরদ ও সহমর্মিতা ছিলো আজীবন অটুট। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালে এবং ১৯৯৬ সালে অন্নদাশঙ্কর দুইবার এ দেশে আসেন সরকারের অতিথি হিসেবে। সাহিত্যকর্মের জন্য তিনি বহু পুরস্কারে ভ‚ষিত হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে জগত্তারিণী পুরস্কারে ভ‚ষিত করে ১৯৭৯ সালে। বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় তাকে প্রদান করে দেশিকোত্তম সম্মান। বর্ধমান, রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় ও যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় তাকে প্রদান করে সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি। অন্যান্য পুরস্কারের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য আকাদেমি পুরস্কার (১৯৬২), আনন্দ পুরস্কার (দুইবার-১৯৮৩, ১৯৯৪), বিদ্যাসাগর পুরস্কার, শিরোমণি পুরস্কার (১৯৯৫), রবীন্দ্র পুরস্কার, নজরুল পুরস্কার, বাংলাদেশের জেবুন্নিসা পুরস্কার। ২০০২ সালের ২৮ অক্টোবর কলকাতায় অন্তিমশ্বাস ত্যাগ করেন এই বহুমুখী প্রতিভাধর মানুষটি। অন্নদাশঙ্কর রায় ১৯০৪ সালের ১৫ মে ভারতের ওড়িশায় জন্মগ্রহণ করেন। লেখক : চলচ্চিত্র গবেষক ও সাংস্কৃতিক কর্মী




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]