• প্রচ্ছদ » » সংসদীয় রাজনীতি করতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে, নির্বাচন না করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো উপায় নেই, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি সংকটের মধ্যে পড়েছে


সংসদীয় রাজনীতি করতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে, নির্বাচন না করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো উপায় নেই, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি সংকটের মধ্যে পড়েছে

আমাদের নতুন সময় : 16/05/2019

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আশিক রহমান

২০-দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের যারা আছেন বিএনপির প্রতি তাদের অভিযোগ হচ্ছেÑসংসদে না যাওয়ার ব্যাপারে তাদের ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত ছিলো। কিন্তু সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে শরিকদের সঙ্গে কোনো রকম আলোচনা না করে এককভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এতে শরিকেরা মনোক্ষুণœœ হয়েছে। ২০-দলীয় জোটের মধ্যে বিএনপিকে বাদ দিলে বাকিরা তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয় রাজনীতিতে। খুব বেশি উচ্চবাচ্য না করলেও বিজেপি জোট ছেড়ে চলে গেছে। দুদিন আগে ২০-দলীয় জোটের মিটিং হয়েছে, সেখানে কী আলাপ হয়েছে সেটা তো জানি না। তবে হয়তো বিএনপি তাদের বোঝানোর চেষ্টা করেছে কী কারণে, কোন প্রেক্ষাপটে সংসদে যোগ দিয়েছে।
বিএনপির যারা সংসদে যোগ দিয়েছেন তারা দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত না হলেও যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন না। যোগ দিয়ে দিলে তখন সেটা বিএনপিরই যোগদান হয়ে যেতো। তখন পার্টি ধানের শীষেরই হতো। দলের মধ্যে হয়তো অন্যরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হতো, ভাঙনের বিষয়টাও সামনে আসতো। আমার ধারণা, সে কারণেই শেষ মুহূর্তে তড়িঘড়ি করে দলটি তাদের শপথের অনুমতি দিয়েছে। অনুমতি না দিলেও অনুমতির তোয়াক্কা করতো না বিএনপির সংসদ সদস্যরা। এটাই আসলে ভেতরের কথা, বাইরে কেউ তা বলছে না। তবে এ ব্যাপারটা নিয়ে এখনো অনেক ধোঁয়াশা আছে।
ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে প্রথম থেকেই একধরনের বিভ্রান্তি ছিলোÑসংসদে যাবে কি যাবে না। কিন্তু তাদের বিভিন্ন কথাবার্তা ও কর্মকাÐে প্রথম থেকে মনে হচ্ছিলো তারা সংসদে যাবে, কিন্তু পরে সম্ভবত তারা ঐক্যের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলো এবং সুলতান মোহাম্মদ মনসুরকে বহিষ্কার করেছিলো। কিন্তু মোকাব্বির খানের বেলায় এসে দেখা গেলো ঐক্যফ্রন্ট বেশ নমনীয়। বিশেষ করে গণফোরাম। এখন তো গণফোরাম অনেক স্বস্তিতে আছে বলে মনে হয়। তারা যে মোকাব্বির খানকে বহিষ্কার করেনি, এটা একদিক দিয়ে তাদের স্বস্তিকর হয়েছে। এখন বিএনপি যাকে বহিষ্কার করেছিলো, তাকে কেন বহিষ্কার করেছিলো এই জবাব তো তাদের দিতে হবে। তবে তারা হয়তো বলবে, দলের নির্দেশ অমান্য করে সংসদে যোগ দেওয়াটা ভুল ছিলো, অন্যরা দলের নির্দেশ মেনে যোগ দিয়েছে। এভাবেই হয়তো একটা ব্যাখ্যা তারা দেবেন।
সংসদে যোগ দেওয়া নিয়ে দলের মধ্যেও কোনো আলোচনা হয়েছে বলে আমরা শুনিনি। এখন যে ধরনের বক্তব্য পাচ্ছি মহাসচিব বা বিভিন্নভাবে তা ব্যক্তিগত মতামত, কিন্তু স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে বা দলের সিদ্ধান্ত তা আসছে না। যেমন মহাসচিব বলেছেন, আগে সংসদে যোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিলো ভুল। কিন্তু এটা স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত তা আমরা জানি না। কেউ কেউ বলছেন, উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করাটা ছিলো ভুল। এটাও কি বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত নাকি ব্যক্তিগতভাবে কেউ কেউ তা বলছেন? এ বিষয়গুলো এখনো খাপছাড়াভাবে আছে বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের বাইরে, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যারা তাদের একটা প্ল্যাটফরম ছিলো বিএনপি। একটা প্ল্যাটফরম তো লাগবে আওয়ামী লীগবিরোধী। এ রকম আরেকটি প্ল্যাটফরম যতোদিন গড়ে না উঠবে ততোদিন বিএনপি টিকে থাকবে। ২০-দল হচ্ছে একটা নামকাওয়াস্তে জোট। ২০-দলের তো অনেকের নামই আমরা জানি না। কিছু কিছু হয়তো জানি। কিন্তু বেশিরভাগের তো নাম মানুষ জানে না। তারা ২০-দলীয় জোটের বাইরে গিয়ে কি করবে? ঐক্যফ্রন্টেও ব্যক্তি পরিচিতি কিছু নাম বা ব্যক্তি রয়েছে। গণফোরাম আছে, নাগরিক ঐক্য আছে। কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ হুমকি দিয়েছে জোট ছেড়ে চলে যাবে, শপথের ব্যাপারে ব্যাখ্যা চেয়েছে দলটি। আর আছে আ স ম আবদুর রব। তাদের কেউই তো এখন রাজনীতিতে দৃশ্যমান নয়। ঐক্যফ্রন্ট ছিলো একটা নির্বাচনী জোট। তাদের মূল শক্তি ছিলো বিএনপি। ঐক্যফ্রন্ট থেকে বিএনপিকে আলাদা করলে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো তেমন কার্যকর নয়। বিএনপি আর ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে আদর্শগত কোনো মিল নেই। এটা নির্বাচনী ঐক্য হিসেবে গড়ে উঠেছিলো, নির্বাচন শেষ হয়ে যাওয়ার পরে এই জোটের প্রাসঙ্গিতা অনেকটাই হারিয়েছে। দেশে সংসদীয় রাজনীতির কোনো বিকল্প নেই। সবাই এ ব্যাপারে একমত। এখন সংসদীয় রাজনীতি করতে হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে হবে। নির্বাচন না করে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো উপায় নেই। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বয়কট করে বিএনপি একটা সংকেটর মধ্যে পড়েছে। আমরা দেখেছি এর আগে নির্বাচন বর্জন করে ১৯৭০ সালে ভাসানী ন্যাপ সক্রিয় রাজনীতিতে তার যতোটুকু ভ‚মিকা ছিলো সেটা অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিলো। এর পর থেকেই তাদের আমরা আর তেমনটা শক্তিশালী হিসেবে দেখিনি। সংসদীয় রাজনীতি আপনি করবেন, কিন্তু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না-এ রকম হলে সেই দল একধরনের সংকটে পড়ে। বিএনপি ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করা থেকেই সংকটে আছে। ওই নির্বাচনে যদি তারা অংশগ্রহণ করতো, জিততে নাও পারতো তাহলে আজকে যে সংকটে আছে তারা সে ধরনের কোনো সংকটে হয়তো পড়তো না। বেগম খালেদা জিয়াকেও আজকে কারাগারে থাকতে হতো না। বিএনপি সংসদে অনুপস্থিত থাকার কারণে একচেটিয়া কর্তৃত্ব পেয়ে গেছে আওয়ামী লীগ। সেই একই সুযোগ আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনে নিয়েছে। পুরো প্রশাসন, রাষ্ট্রশক্তি প্রায় সবকিছু ক্ষমতাসীন দল ব্যবহার করেছে। একচেটিয়াভাবে নির্বাচন করে আওয়ামী লীগ, কিন্তু সেটা তো বিএনপি প্রতিরোধ করতে পারছে না। যা করতে পেরেছিলো আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের ১৫ নির্বাচনের পর, নতুন নির্বাচন তারা আদায় করেছিলো। আওয়ামী লীগ যা করতে পারছে বিএনপি তা করতে পারছে না। কারণ সাংগঠনিকভাবে তারা রাজনীতিটাও ঠিকমতো করতে পারছে না। তারেক রহমান দলের সম্পদ নাকি বোঝা তা দলটিকেই বুঝতে মূল্যায়ন করতে হবে। যারা বিএনপি করেন তারাই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গঠনতন্ত্রে তাকে একচ্ছত্র ক্ষমতা দেওয়ার ব্যাপারে। দলটির গঠনতন্ত্রের এ নিয়ম জেনেই অন্যরা দল করে। তারা সবাই জানেন দলটি তারেক রহমান নিয়ন্ত্রণ করছেন। বুঝেই তারা দলটি করছেন। যে দলে এক ব্যক্তি সিদ্ধান্ত নেন, বাকিদের কোনো অংশগ্রহণ নেই সেরকম একটি দল গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য লড়াই করতে পারবে কিনা, এটাই হচ্ছে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। যদি নিজেরা দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা না করেন তাহলে দেশে গণতন্ত্রের চর্চা হবে কি করে? পারিবারিক উত্তরাধিকার নিয়ে যারা নেতা হন তাদের ব্যাপারে আমার একটা রিজার্ভেশন আছে। আমি মনে করি, এটা কোনো সুস্থ রাজনৈতিক লক্ষণ নয়। যারা মনে করেন যে নেতৃত্ব দিয়েই পরিবার থেকে আসতে হবে তারা আসলে সামন্তবাদী চিন্তাভাবনায় আক্রান্ত। আবদ্ধ। সুস্থ গণতন্ত্রের সঙ্গে তা যায় না। মাঝে মাঝে মনে হয় সবাই গণতন্ত্রের কথা বলেন, কিন্তু এই দলটা হচ্ছে রাজতন্ত্রের ধারাবাহিকতায়…। আওয়ামী লীগও দল হিসেবে এখন খুব একটা কার্যকর নয়। যেহেতু তারা সরকারে আছে অনেক বছর ধরে, এখন দল সরকার চালায় না, সরকারই দল চালাচ্ছে। প্রশাসন, রাষ্ট্র এবং দলÑসব একাকার হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ কতোটুকু কার্যকর তা বোঝা যায় তারা যখন বিরোধী দলে থাকে। এখন পর্যন্ত তা কিন্তু দৃশ্যমান হচ্ছে না। আমি কোথাও দেখিনি। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর ছাত্রলীগের মধ্যে যে মারামারিটা হলো তা দেখলেই বোঝা যায় যে, দলের মধ্যে কোনো রকমের নিয়ম-শৃঙ্খলা নেই। আমিও তো একসময় ছাত্রলীগ করেছি, আমাদের সময় তা অকল্পনীয় ছিলো, এখন যা অনেকটাই স্বাভাবিক। একটা পদের জন্য এ ধরনের মারামারির মতো ঘটনা ঘটতে পারে। পদবঞ্চিতদের অনেক ক্ষোভ থাকতেই পারে এটা অভাবনীয়, কিন্তু এ ধরনের ঘটনা অনাকাক্সিক্ষত।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]