সকল ঔদ্ধত্য খর্ব করার ঘোষণা, কলকাতায়  হামলার জেরে মমতার হুঁশিয়ারি

আমাদের নতুন সময় : 16/05/2019

সান্দ্রা নন্দিনী : কলকাতায় বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের মিছিলে হামলার পর তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যকার সংঘর্ষের জেরে বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে বিদ্যাসাগরের ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিক্রিয়ায়, সকল ঔদ্ধত্য খর্ব করার ঘোষণা দিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ওরা বাংলার ঐতিহ্য, বাংলার মনীষীর গায়ে হাত দিয়েছে। আমার থেকে ভয়ঙ্কর কেউ হবে না। ঔদ্ধত্য খর্ব করবই।’ এনডিটিভি, আনন্দবাজার

মঙ্গলবার বিজেপি’র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহের নেতৃত্বে শহিদ মিনার থেকে উত্তর কলকাতাগামী মিছিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এরপরই মিছিলকারীরা বিদ্যাসাগর কলেজে ঢুকে এলোপাথাড়ি ভাঙচুর চালিয়ে বিদ্যাসাগরের ভাস্কর্য ভেঙে ফেলা হয়।

সেসময় মমতা দক্ষিণ কলকাতায় নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি বলেন, ‘তারা বিদ্যাসাগর কলেজে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে। এত বড় লজ্জার ঘটনা কলকাতায় কখনও ঘটেনি। বিজেপি জেনে রাখুক, প্রতি ইঞ্চিতে ইঞ্চিতে এর জবাব নেওয়া হবে। কোনও ঔদ্ধত্য সহ্য করা হবে না।’

এদিকে, বিজেপি’র তরফ থেকে হামলায় ঘটনায় তৃণমূলকেই দায়ী করা হয়েছে। বিজেপি’র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা  কলেজের ভেতরে ঢোকেনি। কলেজের সব দরজা-জানালা বন্ধ ছিল। পুলিশের ব্যারিকেড ছিল। তৃণমূল কিছু গুন্ডারাই এসব করে বিজেপি’র ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’

মমতা আরও হুঁশিয়ারি দেন, ‘আপনার ভাগ্য ভাল, আমি এখনও ঠা-া আছি। দিল্লিতে আপনার ঘর দখল করতে পারি। বিজেপি অফিস নিতে আমার এক সেকেন্ড সময় লাগলেও আমি ছুঁই না। আমার প্রশ্ন হলো, পুলিশ কেন ওখানে ওদের অনুমতি দিয়েছিল মিছিল করতে যেখানে আমার মিছিল করার কথা ছিলো? নির্বাচনের নামে  কোনও গুন্ডামি বরদাস্ত করব না।’

বুধবার বিদ্যাসাগরের ছবি নিয়ে মিছিল করার কথাও বলেন মমতা। মঙ্গলবার রাতেই নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টের প্রোফাইল পিকচার বদলে ফেলেন তিনি। সেখানে বিদ্যাসাগরের ছবি ব্যবহার করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।

এদিকে, মঙ্গলবারের হামলার জন্য মমতা ও তার দলকে দায়ী করেছেন বিজেপি প্রেসিডেন্ট অমিত শাহ। বুধবার দিল্লিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি সেখান থেকে আহত না হয়ে বের হতে পারতাম না যদি না আমার সাথে সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স-সিআরপিএফ নিরাপত্তা থাকতো। মমতাদিদি, আপনি একটি রাজ্যের মাত্র ৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন। আর বিজেপি প্রতিটি রাজ্যে লড়ছে। কেবল বাংলায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে আর সেটি কেবলমাত্র তৃণমূলের জন্য হচ্ছে। তবে ২৩ মে’র পরেই সেখানকার জনগণ দিদির দিন শেষ করে দেবে।’

একইসাথে নির্বাচন কমিশন ‘সম্পূর্ণ বোবা দর্শকে’র ভূমিকা পালন করছে বলে অভিযোগ করেন বিজেপি প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘ছয়দফা ভোটে কেবলমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর কোনও ভূমিকা রাখতে দেখা যায়নি।’




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]