গৃহস্থালী কাজে সাড়ে তিনগুন বেশি কাজ করে মজুরি পান না নারী

আমাদের নতুন সময় : 17/05/2019

তাপসী রাবেয়া : পুরুষের তুলনায় সাড়ে তিন গুণ বেশি মজুরিবিহীন কাজ করেন এ দেশের নারীরা। একজন নারী এক সপ্তাহে গড়ে ২৪ ঘণ্টা গৃহস্থালির কাজ করেন, কিন্তু কোনো মজুরি পান না। সেই হিসাবে দিনে প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা মজুরিবিহীন কাজ করেন তিনি। এসব কাজের মধ্যে আছে রান্নাবান্না, কাপড় ধোয়া, বাজার-সদাই করা, বাচ্চাদের আদর-যতœ, স্কুলে আনা নেয়া ইত্যাদি। অন্যদিকে একজন পুরুষ সপ্তাহে এমন কাজ করেন মাত্র সাত ঘণ্টা। দিনে করেন গড়ে এক ঘণ্টা।

নারী-পুরুষদের নিয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তৈরি পরিসংখ্যান-বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। বিবিএস গত বুধবার এ প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনটিতে বিবিএস ৫২টি সূচক দিয়ে নারী-পুরুষের তুলনামূলক অবস্থান তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষদের চেয়ে পিছিয়ে আছে।

বিবিএসের সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুযায়ী গত ২০১৭ সাল শেষে সারা দেশে ৭২ লাখ নারী-পুরুষ মজুরিবিহীন কাজ করতেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৫৪ লাখ। আর ১৮ লাখ পুরুষ এমন কাজ করেন।

গৃহস্থালির কাজে বেশি সময় দেয়ার কারণে অনেক নারী চাকরি করতে পারেন না। আবার শিশুসন্তান লালন-পালনের জন্য অনেকে চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন কিংবা চাকরি করতে পারেন না। এসব ক্ষেত্রে পুরুষদের তেমন কোনো সমস্যা হয় না। এ ছাড়া রান্নাবান্নাসহ বাসার আনুষঙ্গিক কাজ করতে হয় বলে নারীদের পক্ষে নিয়মিতভাবে কোনো কাজ বা ব্যবসা-বাণিজ্য করা সম্ভব হয় না। কিন্তু গৃহস্থালির কাজের জন্য নারীরা কোনো মজুরি পান না। সামাজিক কারণে মজুরি দেয়ার প্রচলনও তৈরি হয়নি।

এবিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অফ ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, একটা বড় সংখ্যক শিক্ষিত নারী মজুরিহীন কাজ করে চলছে। শুধুমাত্রা গৃহস্থালী কাজের কারণেই মূল ধারার অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত হতে পারছেন না তারা। এক্ষেত্রে মজুরিহীন কাজে পারিবারিক শেয়ারিং বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তিনি। কাজ ভাগাভাগি করলে এই বিশাল শ্রমশক্তিকেও মূল ধারায় আনা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, গৃহস্থালি কাজগুলোকে কমর্সিয়াল কাজে কনভার্ট করার সুযোগ তৈরি করা উচিত। অর্ধেক জনশক্তিকে কাজে লাগাতে না পারলে জনমিতির সুবিধা নিতে পারা যাবে না বলেও মনে করেন তিনি। তাই নারীর জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি যাতায়াত, শিশু দিবাযতœ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সুবিধা তৈরি করতে হবে। এ ছাড়া ঘরের কাজে পুরুষের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে বলেও মনে করেন তিনি। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]