• প্রচ্ছদ » » জিপিএ ৫ না পাওয়ার জন্য দুঃখ করো


জিপিএ ৫ না পাওয়ার জন্য দুঃখ করো

আমাদের নতুন সময় : 17/05/2019

মারুফ ইসলাম

প্রতিবছর এসএসসি কিংবা এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয় আর আমাদের এক শ্রেণির অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তারা ‘জিপিএ ৫ এর অনাবশ্যকতা’ নিয়ে অনর্গল বক্তব্য প্রচার করতে শুরু করেন। এই প্রবণতা দীর্ঘ কয়েক বছর যাবৎ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কিন্তু এ প্রবণতা যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদেরকে ভুল বার্তা দিচ্ছে এবং প্রকারন্তরে বিভ্রান্ত করছে তা তারা মালুম করতে পারছেন না অথবা মালুম করতে চাইছেন না।
বস্তুত জীবনে জিপিএ-৫ এর গুরুত্ব নেই বলে যে মিথ্যে মোটিভেশনের প্রচার চলছে বছরের পর বছর ধরে তা সঠিক নয়। জীবনের একটা পর্যায় পর্যন্ত জিপিএ-৫ খুবই দরকারী। বিশেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশের সময় জিপিএ-৫ একটি উত্তম প্রবেশাধিকার দেয় অথবা এখন অব্দি দিচ্ছে। তাই অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তাদের অপরিমাণদর্শী অনুপ্রেরণায় মত্ত হয়ে যেসব কিশোর কিশোরী রেজাল্ট খারাপ করেও নির্ভার জীবনযাপন করছে, তাদের ‘এই বেশ ভালো আছি’ টাইপের ভাবনাহীন জীবন সাক্ষাৎ নরকে পরিণত হবে আর মাত্র আট-দশ বছর পরই—-যখন কিনা তাদের সামনে আসবে কর্মজীবনে প্রবেশের সময়।
অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তাদের দেখানো ইউটোপিয়ার বাইরে যে জগৎ সেই জগতের দিকে তাকালে এই কিশোর কিশোরীরা দেখতে পাবে, রিয়েলিটির ফাঁদ পাতা ভুবনে। রিয়েলিটি তথা বাস্তবতা হচ্ছে, ভালো ভালো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ইদানিং তাদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করে দিচ্ছে যে এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ না থাকলে তুমি চাকরিতে আবেদন করতে পারবে না। বিশেষ করে ব্যাংকগুলোতে এই চর্চা এখন রেওয়াজে পরিণত হয়ে গেছে। যেসব ব্যাংক সরাসরি উল্লেখ করে না, তারাও গোপনে গোপনে এই চর্চাই করে। কিছুদিন আগে আমাদের এক বন্ধু জানাল, সে একের পর এক বিভিন্ন ব্যাংকে আবেদন করেই যাচ্ছে, কিন্তু কোনো ব্যাংকই তাকে পরীক্ষার জন্য ডাকে না। শেষে কয়েকটি ব্যাংকের আবেদনপত্রে এসএসসি ও এইচএসসির রেজাল্ট ৫ দিয়ে আবেদন করার পর সেসব ব্যাংক পরীক্ষায় বসার জন্য ঠিকই ডেকেছে তাকে।
অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তারা যেটা বলার চেষ্টা করছেন সেটা হচ্ছে, জীবনে সফল হতে হয় কর্মদক্ষতা ও যোগ্যতা দিয়ে— একাডেমিক রেজাল্ট দিয়ে টিকে থাকা যায় না। কথা সত্য। দ্বিমত করার অবকাশ নেই। কিন্তু তুমি যদি কর্মক্ষেত্রে প্রবেশই না করতে পারো তাহলে দক্ষতা প্রমাণ করবে কীভাবে? সাকিব আল হাসান যদি দলে ঢুকতেই না পারে তাহলে সেরা পারফরমেন্স দেখাবে কীভাবে? সুতরাং সবার আগে দরকার প্রবেশাধিকার। আর সেই প্রবেশাধিকার দেয় ভালো রেজাল্ট। জিপিএ-৫। আচ্ছা, ব্যাংকের কথা বাদ। তুমি যদি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাও, তোমার দরকার জিপিএ-৫। বেশ কজন পিএইচডি ডিগ্রিধারীর স্ক্রিনশট ঘুরে বেড়াচ্ছে ফেসবুকে, সেখানে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর বিখ্যাত বিখ্যাত ইউনিভার্সিটি থেকে তাঁরা পিএইচডি সম্পন্ন করেছেন কিন্তু বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি পাচ্ছেন না, কারণ তাঁদের এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ-৫ নেই! তোমার রেজাল্ট যদি জিপিএ-৫ এর কাছাকাছি না থাকে তুমি বাংলাদেশের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল ভর্তি হতে পারবে না। অনার্স ও মাস্টার্সেও থাকতে হবে জিপিএ-৪ এর কাছাকাছি। বিশ্বাস না হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে ঢুঁ মেরে দেখ।
আর এসএসসি-এইচএসসির রেজাল্ট যদি এতই অগুত্বপূর্ণ হয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার নম্বরের সঙ্গে কেন এসএসসি ও এইচএসসির রেজলাল্ট যোগ করা হয়? প্রশ্ন তোল। কেন শুধু জিপিএ ৫ এর উপর ভিত্তি করেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে থাকে, প্রশ্ন তোল।
প্রশ্ন তোল, যারা গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ক্যারিয়ার গড়তে চায়, আন্তর্জাতিক এনজিওতে চাকরি করতে চায়, মাল্টি ন্যাশনাল কোম্পানির মার্কেটিং, সেলস বা অন্যান্য সেক্টরে ক্যারিয়ার গড়তে চায় কিংবা চিকিৎসক, প্রকৌশলী হতে চায়, তাদের একাডেমিক রেজাল্ট কেন জিপিএ-৫ এর কাছাকাছি হতেই হবে?
যতদিন পর্যন্ত এসব প্রশ্ন তুলতে না পরছ, ততদিন তোমার খারাপ রেজাল্টের জন্য দুঃখ করো। জিপিএ-৫ না পাওয়ার জন্য দীর্ঘশ্বাস ফেলো। আর হ্যাঁ, পাশাপাশি অনুপ্রেরণাদায়ী বক্তাদের বলো, আমাদের জন্য অনেক তো লিখলেন। অনেক মোটিভেশন দিলেন। এবার নিযোগদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য দয়া করে কিছু লিখুন। আপনার মোটিভেশনাল আফিম এবার তাদের কাছে বিক্রি করুন, প্লিজ!
লেখক : জনসংযোগ কর্মকর্তা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
সধৎঁভ১৯০২@মসধরষ.পড়স




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]