• প্রচ্ছদ » » নীতিনির্ধারকদের ভুল নীতির কারণে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররাও এখন তাদের নিজের প্রফেশন ছেড়ে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকছে


নীতিনির্ধারকদের ভুল নীতির কারণে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররাও এখন তাদের নিজের প্রফেশন ছেড়ে প্রশাসনের দিকে ঝুঁকছে

আমাদের নতুন সময় : 17/05/2019

কামরুল হাসান মামুন

‘সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা এখন প্রশাসনে আসছে’ প্রতিমন্ত্রী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। কি ভয়াবহ কথা! কথাটা সত্যি ধরে নিলে এই কথার ভয়াবহতা বুঝতে পারছেন? অর্থাৎ আজকে যারা শিক্ষক তাদের তৈরি করা সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক (ইনক্লুডিং ডাক্তার শিক্ষক, ইঞ্জিনিয়ার শিক্ষক) না হয়ে প্রশাসনে গেলো এবং মধ্যম মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হলো। এই মধ্যম মেধাবী শিক্ষকরা যেই শিক্ষার্থী তৈরি করবে তাদের মধ্যে যারা মেধাবী তারা প্রশাসনে গেলো এবং তাদের মধ্যে মধ্যম মেধাবী শিক্ষার্থীরা শিক্ষক হলো। এই ধষমড়ৎরঃযসটা যদি বেশ কয়েকবার রঃবৎধঃব করি তাহলে রাষ্ট্রের মেধা তৈরির কারখানার কি অবস্থা হবে সেটা কি আঁচ করা যাচ্ছে? বর্তমান শিক্ষক নিয়োগ সিস্টেম এবং একই সঙ্গে বিসিএস প্রীতি প্রমাণ করে আমরা এই ভয়াবহতার দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। এটা কি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ নাকি কেবলই মূর্খতার বিষয় সেটা ভেবে দেখার সময় দ্রæতই পেরিয়ে যাচ্ছে।
আচ্ছা শিক্ষক না হয় বাদ দিলাম। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার তারা? উপজেলা পর্যায়ে যারা ডাক্তার আছেন বা ইঞ্জিনিয়ার আছেন তারা কারা একটু ব্যবচ্ছেদ করে ভাবুন তো? এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই যে, আমাদের সমাজে এসএসসি এইচএসসিতে মোটা দাগে যারা সেরা তারাই ডাক্তারি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যায়! সেই সেরারা যখন উপজেলা লেভেলে চাকরিতে যায় তাদের হালটা একটু ভাবুন তো? এই যে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পিএইচডি করার জন্য ‘প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ’ দেয়া হলো ডাক্তারদের উচ্চ শিক্ষার জন্য কেন দেয়া হলো না। তাদের উচ্চ শিক্ষা দিলে দেশ কি বেশি উপকৃত হতো না? এদের উচ্চ শিক্ষা পারহেপস বেশি জরুরি। পিএইচডি করার জন্য বরং ফেলোশিপ পাওয়া যায়। সরকারি কর্মকর্তা হোক কিংবা শিক্ষক অথবা ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার যে কেউ নিজ যোগ্যতায় টোয়েফল জিআরই দিয়ে ফেলোশিপ/টিএ/আরএ নিয়ে ইউরোপ আমেরিকায় বিদেশের ফেলোশিপ নিয়ে পিএইচডি করে আসুক তাতে কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু রাষ্ট্রীয় টাকার শ্রাদ্ধ করে এই পিএইচডি কিসের লাভের তরে? গতকাল তানভীর হানিফ একটি ভালো কথা বলেছে ‘যদি ভিন্ন পেশার কেউ শখ করে নিজের পকেটের পয়সা খরচ করে নিজের পেশাগত দক্ষতা বাড়বে এটা ভেবে পিএইচডি করতে চায় তাহলেও তাকে কোন শিক্ষকেরই শরণাপন্ন হতে হবে… নিজ পেশার পিএইচডি ডিগ্রিধারীর নয়’।
এসব কথা বলে এবং রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের এসব চিন্তার কারণে রাষ্ট্রের যে একটি বড় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে সেটা কি টের পাচ্ছেন? নীতিনির্ধারকদের ভুল নীতির কারণে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়াররাও এখন তাদের নিজের প্রফেশন ছেড়ে প্রাশাসনের দিকে ঝুঁকছে। কি ভয়াবহ ব্যাপার! একজন ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার তৈরি হওয়ার পর সে ডাক্তারি কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং পেশায় গেলো না। তার শিক্ষার কি বিশাল অপচয় ভাবা যায়? হ্যাঁ ব্যতিক্রম হিসাবে দুয়েকজন যেতে পারে। পৃথিবীর সকল নিয়মের ব্যতিক্রম থাকে বা থাকতে হয়। কারো কারো ক্ষেত্রে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে যাওয়াটা হয়তো ভুল সিদ্ধান্ত ছিলো কিন্তু বাবা-মায়ের চাপে পরে সেই বয়সে তার নিজের ইচ্ছার গুরুত্ব দিতে হয়তো পারেনি। কিংবা সে নিজেই জানতো না কিসে তার সত্যিকার কার আগ্রহ। ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হওয়া, পদার্থবিদ হওয়া, গণিতবিদ হওয়া, অর্থনীতিবিদ হওয়া, রসায়নবিদ হওয়া ইত্যাদি অনেক ছাত্রের স্বপ্ন হতে পারে, কিন্তু প্রশাসনে যাওয়া কারো স্বপ্ন হতে পারে এ রকমটি কখনো শুনিনি। তবে এখন শুনছি। প্রশাসনে যাওয়ার স্বপ্ন আসে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার পর যখন সে বৈষয়িক হয়ে উঠতে থাকে। জানি এসব কথায় অনেকে হার্ট হবেন, কিন্তু এসব কথা কাউকে না কাউকে বলতে হবে না হলে পরিবর্তন আসবে কোথা থেকে। এসব আলোচনা কোনো ঈর্ষার বিষয় নয়। এটা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে কোন দিকে ধাবিত করবো সেটা ভাবার বিষয়। যুক্তিসঙ্গত আলোচনা চলুক। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]