প্রিয় সম্পাদকবৃন্দ, আপনাদের নতুন পাতা খুলতে হবে

আমাদের নতুন সময় : 17/05/2019

ড. সা’দত হুসাইন : দৈনিক পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর উপর আলাদা পৃষ্ঠা থাকে। যেমন খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র-বিনোদন, শিক্ষাঙ্গন, অর্থনীতি ইত্যাদি। এ বিষয়গুলো পাঠককে আকর্ষণ করে। এগুলো আমাদের ব্যক্তি এবং সমাজ-জীবনের অংশ হয়ে গেছে। সম্পাদকবৃন্দ তাই বিষয়ের গুরুত্ব অনুভব করে এগুলোর প্রত্যেকটির জন্য আলাদা পাতা সংযোজন করেছেন। পাঠক বিভিন্ন পৃষ্ঠায় খোঁজ না করে একসঙ্গে ওই বিষয়ের উপর খবরগুলো দেখে নিতে পারেন।

সময় বদলে গেছে। এখন খবরের কাগজ খুললে যে বিষয়য়গুলোর প্রতি পাঠকের চোখ পড়বে, তাহলো নারী ও শিশু নির্যাতন, গুম-খুন-অপহরণ এবং সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু, ক্ষয়ক্ষতি, সড়কপথে যাত্রার বিড়ম্বনা। অন্যান্য খবর, বিশেষ করে রাজনৈতিক খবরও থাকে। কিন্তু সব খবরকে ছাপিয়ে উপর্যুক্ত খবরগুলো পত্রিকার পাতায় ভেসে থাকে। মনে হয় দেশে এসব খারাপ খবরের মহামারী শুরু হয়েছে। এ মহামারী দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন। কর্তৃপক্ষ কখনো বলছে সব ঠিক হয়ে যাবে, আবার কখনো বলছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে। সাধারণ পাঠক পরিস্থিতির কোনো উন্নয়ন দেখছে না। তাদের কানে বাজছে ণই ুবধঃং এর সেই অসাধারণ বর্ণনা ‘ঞযরহমং ভধষষ ধঢ়ধৎঃ, ঃযব পবহঃবৎ পধহহড়ঃ যড়ষফ. গবৎব ধহধৎপযু রং ষড়ড়ংবফ ঁঢ়ড়হ ঃযব ড়িৎষফ. ঞযব নষড়ড়ফ-ফরসসবফ ঃরফব রং ষড়ড়ংবফ, ধহফ বাবৎু যিবৎব ঃযব পবৎবসড়হু ড়ভ রহহড়পবহপব রং ফৎড়হিবফ.’

অপরাধীরা যেন পাল্লা দিয়ে তাদের কর্মকা- চালিয়ে যাচ্ছে। তারা বেপরোয়া, বেরোখো, তাদের কোনো ভয়-ভীতি নেই। এক একটি ঘটনা ঘটে, আর অপরাধীরা যেন আরো পৈশাচিক ঘটনা ঘটানোর জন্য তৎপর হয়ে উঠে। রাকিবের পেটে পাম্পের সাহায্যে বাতাস টুকিয়ে তাকে খুন করা হলো। সবাই স্তম্ভিত হয়ে এই অভিনব কায়দায় শিশু (কিশোর) হত্যার খবর জানলো। লক্ষ্য করুন, তারপর কিন্তু এ ধরনের ঘটনা অনেক ঘটেছে। এখনও ঘটছে। এই সেদিন আরো একটি কিশোরকে এভাবে মারা হয়েছে। অপরাধীরা যেন ক্ষিপ্র গতিতে এ টেকনিক রপ্ত করে ফেলেছে। দু-তিন বছরের শিশুকে ধর্ষণ করা হচ্ছে, ধর্ষণের পর হত্যা করা হচ্ছে। একি বিশ্বাসযোগ্য কথা? অথচ এটি এখন বাস্তুবতা। খবরের কাগজের পাতাজুড়ে এসব খবর ভরা থাকে। মনে হচ্ছে, পিশাচবৃত্তি আমাদের সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে। আমরা কি সহজে এর থেকে মুক্তি পাবো?

নারী নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণ ও হত্যা আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মধুপুরের বাসে রূপা হত্যার পর এরূপ অপরাধ কিন্তু থামেনি। নদ্দায় গারো কিশোরীর ওপর নির্যাতন, মানিকগঞ্জের বাসে কিশোরীর উপর আক্রমণ এবং সম্প্রতি কিশোরগঞ্জে নার্স তানিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা পুরো জাতির বিবেককে সজোরে নাড়া দিয়েছে। নুসরাত হত্যার পর এরূপ হত্যা অকল্পনীয়। স্বর্ণলতা বাসের চালক এবং হেলপারের এমনটি জানার কথা যে এ অপরাধ করে তারা পার পাবে না। ধরা তারা পড়বে এবং এরপর তাদের কঠোর শাস্তি হবে। তারপরও তারা কোন সাহসে এমন নৃশংস অপরাধ করতে পারলো? তবে কি সুবর্ণচর, কবির হাট, ফেনী এবং দেশের অন্যান্য জায়গায় সংঘটিত ঘটনাসমূহ তাদের কোনো না কোনোভাবে অনুপ্রাণিত করেছিলো?

সড়কে দুর্ঘটনা, মৃত্যু এবং নৈরাজ্য খবরের একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিমাসে শত শত প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। শত শত নাগরিক পঙ্গু হয়ে পড়েছে। অথচ এর কোনো সুরাহা করা যাচ্ছে না। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নানা রকম আশার বাণী শোনাচ্ছে। সবই অসার প্রমাণিত হচ্ছে। মানুষ মরছে তো মরছেই। পরিবহন মালিকরা লম্ফঝম্ফ দিচ্ছে। বারবার নিয়মনীতি ভঙ্গ করে চলছে। তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনা, সড়কে নৈরাজ্য খবরের এক বিশাল অংশজুড়ে থাকছে।

এরপর রয়েছে গুম, খুন, অপহরণ। কতোভাবে যে লোক খুন হচ্ছে তার ইয়ত্তা নেই। মানুষের জীবন যেন সবচেয়ে কম দামি বস্তু। এটিও সামাজিক সমস্যা। শাসকদলের লোকদেরও খুন করা হচ্ছে। কেউ নিস্তার পাচ্ছে না। আইনশঙ্খলা বাহিনী কিংবা সমাজ রক্ষীরা অসহায় নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে পারছে না। খবরের পর খবর আসছে। অন্য খবরকে পিছে ফেলে কাগজের দখল নিচ্ছে গুম, খুন, অপহরণের খবর। প্রিয় সম্পাদকবৃন্দ, আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে নতুন পাতা খোলার। পত্রিকার আঙ্গিকে পরিবর্তন আনার।

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]