অনলাইন বাজার জনপ্রিয় তবে কেনা-বেচায় প্রভাব পড়ে না শপিং মল বা মাকের্টের দোকানে

আমাদের নতুন সময় : 20/05/2019

তাপসী রাবেয়া ও রমজান আলী : দেশি-বিদেশী নানান স্টাইলের পণ্য পাওয়া যায়, আর যাতায়াততের ঝক্কি না থাকায় অনলাইনে কেনাকাটা এক শ্রেণির ক্রেতার কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। সহজে ঘরে বসে কাক্সিক্ষত পণ্য পেতে বেশ কিছু অনলাইন শপ গড়ে উঠেছে। পোশাক, শাড়ি, সালোয়ার কামিজ, বাচ্চার গুড়ো দুধ, কসমেটিক্স, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবধরনের পণ্য পাওয়া যাচ্ছে অনলাইন কেনাকাটায়। সাইটে গিয়ে অর্ডার করার পর ঠিকানা অনুয়ায়ী বাসায় চলে আসে।

ঈদবাজার ধরতে অনলাইন ব্যবসায়ীরাও ব্যস্ত হয়ে পড়েছে শপিং মলের মতোই। নিজেদের পণ্যের বিজ্ঞাপন, পেজে নতুন নতুন পণ্যের প্রচারে ঘাটতি রাখছেন না তারাও। তবে অনলাইন বাজার জনপ্রিয় হলেও ঈদের কেনা-বেচার তেমন প্রভাব পড়েনা শপিং বা মার্কেট দোকানেগুলোতে। প্রতিবছরের মতোই এবারও ভিড় রয়েছে শপিং মল ও মার্কেটে। অনলাইনে সীমিত আর নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্রেতারাই বেশি কেনাকাটা করেন বলে জানিয়েছেন অনলাইনের সত্ত্বাধিকারীরা।

অনলাইনভিত্তিক দেশীয় পোষাকের হাউজ গুটিপোকার সত্ত্বাধিকারি আফসানা সুমী বলেন, সারাবছর নির্দিষ্ট শ্রেণির ক্রেতারাই এখান থেকে কাপড় কেনেন। তবে ঈদে কিছু অর্ডার বেশি হয়। অনলাইনের বিক্রির সঙ্গে মার্কেটের দোকানগুলোর কোনো দ্বৈরত নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে পাস করে অনলাইন ব্যবসা চালু করেছেন জমজ দুই বোন অন্তরা মেহরুখ আজাদ ও অন্যন্যা মেহপার আজাদ। তারা এ প্রতিবেদককে বলেন, দেশি মসলিনের উপর হ্যান্ডপেইন্টের শাড়ি আর ওড়না করি। ফেসবুক বা ইন্সটাগ্রামে বিজ্ঞাপন দেই। পরিচিত আর আত্মীয় স্বজনরাই ক্রেতা। মার্কেটের সঙ্গে এই ব্যবসা কোনো কনফ্লিক্ট তৈরি করে না।

রাজধানীর মৌচাক মার্কেট, নিউ মার্কেট, আজিজ সুপার মার্কেট, গুলিস্তান পীর ইয়ামেনী মার্কেট, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখা যায়, পুরোদমে জমে উঠেছে ঈদ মার্কেট।

মৌচাক মার্কেটের বিউটি পাঞ্জাবি কর্নারের বিক্রেতা ইকবাল হোসেন জানান, অনলাইনের কারণে তেমন কোন প্রভাব নেই। কারণ অনলাইনে খুব কম সংখ্যক লোক কাপড়-চোপড় কেনে। আমরা রমজানের প্রথম সপ্তাহ থেকেই ভালো বিক্রি করছি এবং ক্রেতাদের ভিড়ও হচ্ছে। বিক্রিও ভালো। সামনের দিনগুলোতে আরো ভিড় বাড়বে বলেও জানান তিনি।

মৌচাক মার্কেটের মেহেনাজ ফ্যাশনের মালিক শাহ আলম বলেন, অনলাইন মার্কেটের কারণে তাদের বিক্রির কোন ক্ষতি হচ্ছে না।

এছাড়া মতিঝিলে ফুটপাতের বিক্রেতা নজরুল বলেন, আমাদের পণ্যের দাম অনেক কম। অনলাইনে কারণে কোন প্রভাব পড়ে না।

স্বপ্না চক্রবর্তী নামের এক ক্রেতা জানালেন, অনলাইন মার্কেট থেকে পোশাক কিনে প্রতারণার শিকার হয়েছি। ৪টি থ্রিপিস কিনে যা পরতে পারিনি। প্রতারণার শিকার হওয়ার পর থেকে দোকান থেকে কিনছি।

অনলাইনভিত্তিক ব্যবসায়ী আবু বকর বলেন, আমরা যারা অনলাইনে কেনা-বেচা করি সবাই এক রকম না। মাঝে মাঝে কিছু সমস্যার কথা শুনছি। ক্রেতাদের কাছে আরো আস্থা অর্জন করতে হবে।

এছাড়া রাজধানীর মতিঝিল, গুলিস্তান, পল্টন ও ফার্মগেটসহ বিভিন্ন এলাকার ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা বলেন. অনলাইন মার্কেটের কারণে ঈদের বেচা-কেনায় কোন প্রভাব নেই।

তন্দ্রা ফ্যাশন নামে অনলাইন মার্কেটের ব্যবসায়ী দীপা ঘোষ রীতা বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সঠিক পণ্য পৌঁছে দেয়া, মার্কেটের চাইতে কম দামে। আমরা শুধু লাভটুকু রাখি। আমাদের দোকান ভাড়া, কর্মচারী বেতন, ইউটিলিটি বিল নেই। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]