মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স ফ্রেমে বাধা যাবে না সরকারি পরিবত্র হাইকোর্টে অবৈধ ঘোষণা

আমাদের নতুন সময় : 20/05/2019

নূর মোহাম্মদ : মুক্তিযোদ্ধাদের ন্যূনতম বয়স নির্ধারণ করে সরকারের জারি করা তিনটি গেজেট ও পরিপত্র অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। পৃথক ১৫টি রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গতকাল রোববার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট আইন, ২০১৮ এর সংজ্ঞা সংক্রান্ত ২ ধারার এরপর পৃষ্ঠা ২, সারি

(প্রথম পৃষ্ঠার পর) ১১ উপধারা অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। এছাড়া রায় পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধদের সম্মানী পরিশোধ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের বয়স নিয়ে রায় দিতে গিয়ে অনেকটা আবেগাপ্লুত হয়ে এক পর্যায়ে কেঁদে ফেলেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘আমি একটু ইমোশনাল হয়ে গেছি। আমার মনে হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ২৬ মার্চ দেয়া স্বাধীনতার এ ঘোষণাটি পড়লে যে কেউই আবেগপ্রবণ হয়ে যাবে।’ এ সময় তিনি বারবার চোখ মোছেন।

উষ্মা প্রকাশ করে আদালত বলেন, যেটার ওপর ভিত্তি করে আমাদের দেশ গঠন হয়েছে, মুক্তিযোদ্ধাদের যদি আমরা অস্বীকার করি তাহলে দেশ হিসেবে আমরা সামনে যেতে পারবো না। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে ধর্ম-বর্ণ, বয়স ভেদাভেদ ভুলে সব বয়সী মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সেখানে বয়স দিয়ে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভক্ত করা বেআইনি এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এমনকি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

রায়ে বলা হয়, শহীদুল ইসলাম লালু একজন বীর প্রতীক, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিলো ১০ বছর। বঙ্গবন্ধু তাকে কোলে তুলে নিয়েছিলেন এবং বীর প্রতীক খেতাব দিয়েছিলেন। সরকারের এই সিদ্ধান্তের কারণে বীর প্রতীক তো ননই, তিনি আজ মুক্তিযোদ্ধা হিসেবেও বিবেচিত হবেন না। ফলে তাকে যে অবজ্ঞার শিকার হতে হয়েছে, এটা মেনে নেয়া যায় না। শুধু বাংলাদেশে না, পৃথিবীর কোথাও মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সের ফ্রেমে বাধা যায় না। ঐতিহাসিক দলিল, প্রমাণের ভিত্তিতেই মুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ মানুষ আবেগ দিয়ে করে, দেশ প্রেম থেকে করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ৭-৮ বছর বয়সী যোদ্ধা ছিলো। বাংলাদেশে বই আছে শিশু মুক্তিযোদ্ধাদের ওপরে। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]