Brain drain কে brain gain-এ রূপান্তরের তরিকা

আমাদের নতুন সময় : 20/05/2019

কামরুল হাসান মামুন : ভারতের বিখ্যাত সাহা ইনস্টিটিউট অফ নিউক্লিয়ার ফিজিক্সের সাবেক ডিরেক্টর অধ্যাপক বিকাশ সিনহার একটি সাক্ষাৎকার ভারতীয় পত্রিকা ‘ঞযব ঞবষবমৎধঢ়য’-এ প্রকাশিত হয়। সেই সাক্ষাৎকারে সাংবাদিক অধ্যাপক সিনহাকে প্রশ্ন করেছিলেন ‘আমাদের ভারতীয় বিজ্ঞানীরা বিদেশে খুব ভালো করছে, কিন্তু তাদের নিজ দেশের গবেষণার উন্নতিতে কিছু কি করছে?’ এর উত্তরে অধ্যাপক সিনহা যা বলেছেন সেখানে ভারতের স্থলে বাংলাদেশ বসিয়ে উত্তরটি পড়লে আমাদের নীতিনির্ধারকরা অনেক কিছু শিখতে পারবেন বলে আমি মনে করি।

উনার উত্তরটি ছিলো : ‘আমি এই ক্ষেত্রে আমি একতরফা ট্রাফিককে দায়ী করবো কারণ এটি দ্বিপাক্ষিক নয়। ৬০-এর দশকেও এই অবস্থা ছিলো না। সেই সময়ে, হোমি ভাভা, মেঘনাদ সাহা, প্রশান্ত মহালানব্বিসের মতো অসাধারণ বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক গবেষণা উন্নয়নের জন্য তারা উন্নত গবেষণার জন্য তাদের নিজস্ব উদ্যোগে কিছু ইনস্টিটিউট গড়ে তুলেছিলেন এবং তাদের প্রতিষ্ঠানগুলো একটি খোলা দরজা নীতি গ্রহণ করেছিলো।

ভাবা, মেঘনাদ সাহা ও মহালানব্বিস তাদের সেন্টারগুলোতে গবেষণার জন্য নিবেদিত একদল বিজ্ঞানীর সন্নিবেশ ঘটাতে পেরেছিলেন আর তারা নিজেরাও ছিলেন বড় মাপের একেকজন বিজ্ঞানী। আর্থিক টানাপোড়ন সত্ত্বেও তারা ভালো মানের গবেষককে আকৃষ্ট করতে পেরেছিলেন। কিন্তু এখন যখন আমরা আর্থিকভাবে অনেক ভালো আছি তখন আমাদের সেরা বিজ্ঞানীরা যারা বিদেশে ভালো করছে তাদের আকৃষ্ট করতে পারছি না। আমরা খুবই সুখবোধ করি যখন আমরা আমাদের সন্তানদের বিদেশে উচ্চ শিক্ষার্থী পাঠাতে পারি, কিন্তু এই একঘেঁয়ে ট্র্যাফিকটি সেইখানেই থেমে যায়। আমরা তাদের দেশে ফিরে আসার এবং এসে তাদের নিজ দেশে মৌলিক গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি করতে কোনো পদক্ষেপ নেই না। আমরা তো ইগনোর করতে পারি না যে, বিজ্ঞান ইউনিভার্সাল এবং এজন্য আমাদের দরজা-জানালা সবসময় খোলা রাখতে হবে। এই উন্মুক্ত প্রবেশদ্বার এবং কো-অপারেটিভ রিসার্চই কেবল বিজ্ঞান এবং গবেষণাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের দেশি বিজ্ঞানীরা যারা বিদেশে আছে তাদের ফিরিয়ে এনে যথাযোগ্য পদ ও সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।’

বিদেশে পিএইচডি করেছে এবং এখন ফেরার সময় বা ফিরে এসেছে এ রকম অনেকের কাছ থেকেই আমি প্রায়ই আমার মেসেঞ্জারে মেসেজ পাই। এসে তারা বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার জন্য দরখাস্ত করে কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো তাদের অধিকাংশই চাকরি পায় না। তাদের স্থলে আমরা কাদের নেই যারা কেবল মাস্টার্স পাস করেছে। মানে বিদেশে পিএইচডি করা একজন রেডি মেড শিক্ষককে না নিয়ে আমরা সদ্য মাস্টার্স পাস কাউকে নিচ্ছি। প্রথম রিস্ক হলো সে অদৌ পিএইচডি করতে যেতে পারবে কিনা। সে যদি দেশের কোনো ফেলোশিপ নিয়ে যায় সে ফিরে আসবে কিনা। ফিরে না আসলে তার পেছনে দেশ যে বিনিয়োগটা করলো পুরোটাই অপচয়। তাছাড়া তাকে নিলে সে যখন পিএইচডির জন্য বিদেশে যাবে সেই সময়টা বিশ্ববিদ্যালয় তার সার্ভিস থেকে বঞ্চিত হবে উল্টো তাকে বেতন দিতে হবে। ঠিক আছে, কিন্তু আমার কথা হলো আমি যদি একজন রেডি পিএইচডি পাই আমি কেন তাকে নেবো না। ভারত কি করেছে? এলান জারি করে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডিবিহীন কোনো নিয়োগ নয়। আরো এলান জারি করেছে যে, টপ পাঁচশো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করলে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ।

আমরা টপ পাঁচশো না বরং বলতে পারি টপ আটশো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি থাকলে রিসার্চ স্টেটমেন্ট আর সুপারভাইজরসহ তিনজন প্রথিতযশা বিজ্ঞানীর কাছ থেকে রেকমেন্ডেশন সাপেক্ষে সরাসরি সহকারী অধ্যাপক হিসাবে নিয়োগ দিতে আপত্তি কোথায়? কারণ আমরা প্রভাষক নিয়োগ দিয়ে তাদের এক বছরের প্রবেশনারী পিরিয়ডের নামে তাদের পিএইচডি’র পথে অন্তরায় তৈরি করছি। এছাড়া এই এক বছর থাকতে গিয়ে তাদের রাজনীতির প্রতি আসক্তি সৃষ্টি করছি যেগুলো তার ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার কারণ। এ সঙ্গে নিচে একজন বঞ্চিতের বঞ্চনার কথা কাট এন্ড পেস্ট করছি :

‘আমি ঢ বিশ্ববিদ্যালয়ের ণ বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স উভয় পরীক্ষায় ফ্যাকাল্টিতে সর্বোচ্চ সিজিপিএ পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করি। এরপর জাপানের ত ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করে গত বছর দেশে ফিরে আসি। এ বছরের শুরুতে নিজ বিভাগে দু’জন প্রভাষক নিয়োগের আবেদন আহ্বান করা হলে আবেদন করি। গত সপ্তাহে ভাইভা নেয়া হয় এবং গতকাল দু’জনকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। সকল আবেদনকারীর মধ্যে একাডেমিক রেজাল্টের ভিত্তিতে আমার অবস্থান ছিলো সর্বপ্রথম। একমাত্র আমারই বিদেশি কোনো ইউনিভার্সিটি হতে পিএইচডি ডিগ্রি ছিলো সঙ্গে অনেকগুলো পাবলিকেশনও ছিলো। কিন্তু নিয়োগ বোর্ড আমাকে প্রভাষক পদের জন্য যোগ্য মনে করেনি। এমন দু’জনকে নিয়োগ দেয়া হয় যাদের পিএইচডি তো দূরের কথা, শুধু একাডেমিক রেজাল্ট বিবেচনা করলেও আমার থেকে অনেক পেছনে থাকে। আমার দশ বছরের স্বপ্ন ও স্বপ্ন পূরণের পেছনে যে ঐকান্তিক শ্রম ও প্রচেষ্টা ছিলো, আমারই প্রিয় শিক্ষকেরা এক কলমের খোঁচায় নিমেষেই তা চূর্ণ করে দিলেন।’ এবার একটু ভাবুন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেমন নিয়োগ প্রমোশন চলছে? ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]