• প্রচ্ছদ » » আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিশেষ করে প্রশাসনে যারা আছেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের চাকরি নিয়ে মাথা ঘামান না


আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিশেষ করে প্রশাসনে যারা আছেন, আমাদের ছেলেমেয়েদের চাকরি নিয়ে মাথা ঘামান না

আমাদের নতুন সময় : 21/05/2019

কামরুল হাসান মামুন

ইউনিভার্সিটি ৎধহশরহম-এর সঙ্গে ফ্যাশন তারকার ৎধহশরহম-এর একটি মিল আছে। ফ্যাশন তারকার ৎধহশরহম করা হয় তার উচ্চতা, ব্রা সাইজ, নাকের উচ্চতা, কোমরের সাইজ, চোখের ব্যাস ইত্যাদি ডাটার উপর ফলে যেমন মডেলের সত্যিকারের ভেতরের সৌন্দর্য সঠিকভাবে মূল্যায়ন হয় না তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৎধহশরহম ও করা হয় কিছু ডাটার উপর যেখানে তার আসল অবস্থান সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সত্যিই কঠিন। এর একটা স্ট্যাটিসটিকাল মূল্য আছে যার বৎৎড়ৎ নধৎ হয়তো বেশ বেশি কিন্তু তাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়া যায় না। এটা এখন একটি বাস্তবতা। পৃথিবীর প্রায় সব কিছুকেই আমরা মূল্যায়ন করে একটি ধারণা সূচক বা ৎধহশরহম করি যা একটি সংখ্যার দ্বারা প্রকাশ করি। আমরা জিডিপির সংখ্যা দিয়ে অর্থনীতি মাপি, কিন্তু এটা নিয়ে বিতর্ক আছে। প্রতি বছর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল পৃথিবীর অনেক দেশের মধ্যে দুর্নীতির ধারণা সূচক দেয়। যেটা আমাদের সরকার গ্রহণ করে যদি ভালো করি আর বর্জন করে যদি খারাপ করি। এছাড়া সুখী মানুষের দেশের ৎধহশরহম হয়, পৃথিবীতে ষরাবধনষব শহরগুলোর একটি ৎধহশরহম করা হয়। গ্রহণ বর্জন বিতর্ক থাকলেও এগুলোকে বাদ দিয়ে চলা সম্ভব নয়। কিন্তু মোটা দাগে এগুলোর মূল্য আছে। আমরা মানুষেরা কোনো কিছুকে সংখ্যায় প্রকাশ করতে না পারলে ওই জিনিসটা সম্পর্কে আমাদের ধারণা সবধমৎব বা অপ্রতুল ধরে নেই। যেকোনো কিছুকে একটি সংখ্যায় প্রকাশ করতে পারলে তুলনা করতে সহজ হয়। আমরা মানুষেরা যা কিছু করি সব কিছু শেষ পর্যন্ত তুলনা করেই বিচার-বিশ্লেষণ করি। তাই আমাদের ৎধহশরহম-এর দরকার নেই বা এসব ৎধহশরহম বাণিজ্যিক ইত্যাদি বলে গালি দিয়ে বরং আমরা প্রতিযোগিতা থেকে নিজেদের তুলে নেয়ার পাঁয়তারা করছি যার ফল কখনোই মঙ্গলজনক হতে পারে না।
এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৎধহশরহম-এর দুটো সংস্থা আছে একটি হলো ছঝ ৎধহশরহম আরেকটি হলো টাইমস হাইয়ার এডুকেশন দ্বারা পরিচালিত ৎধহশরহম! দুটো একেবারে একই জিনিস নয়। ডাটার কোন জিনিসের উপর বেশি গুরুত্ব দেবে এই বিবেচনায় দুটি বেশ আলাদা ফলে এই দু’জনের ৎধহশরহম-এ আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থানও এক নয়। যেমন ছঝ র‌্যাংকিং বেশি গুরুত্ব দেয় ছাত্র-ছাত্রীদের দেশ ধর্ম সংস্কৃতির ভিন্নতা, ছাত্র-শিক্ষক রেশিও, বড় বড় চাকরিদাতাদের মাঝে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেপুটেশন। অর্থাৎ এরা গবেষণাটাকে এতো বেশি গুরুত্ব দেয় না। অন্যদিকে টাইমস হাইয়ার এডুকেশন সিস্টেম আবার গবেষণাকে একটু বেশি গুরুত্ব দেয়। প্রশ্ন হলো ৎধহশরহম করার জন্য এরা ডাটা কোথায় পাবে? আমাদের এখানে বর্তমান বিতর্ক এখানে এসে ঠেকেছে এবং সেই বিতর্কটা টাইমস হাইয়ার এডুকেশন সিস্টেম কর্তৃক সদ্য প্রকাশিত ৎধহশরহম কে ঘিরে। এরা যেহেতু গবেষণাকেই মূল গুরুত্ব দেয় তাই সাধারণভাবে ১-৮০০ বা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের যেই ৎধহশরহম এরা করে এরা সেই ডাটা তারা ংপড়ঢ়ঁং ডাটা নধংব থেকেই সংগ্রহ করে। এরা কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টাকা খেয়ে ডাটা ম্যানিপুলেট করে না। বুঝতে হবে এরা আমরা বাংলাদেশিদের মতো এতো অসৎ নয়। আর তারা জানে একবার এ রকম করে ধরা খেলে আমও যাবে ছালাও যাবে। তাই তারা এ রকম রিস্ক জীবনেও নেবে না। অন্যদিকে ছঝ ৎধহশরহম সংস্থা পৃথিবীর ১-৮০০ বা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৎধহশরহম-এর পাশাপাশি আরেকটি কাজ তারা করে সেটি হলো ‘গোল্ড স্টার’ সংখ্যা। যারা ওই ৎধহশরহম-এর বাইরে তারা এই প্রজেক্টের মাধ্যমে গোল্ড স্টার দ্বারা নিজেদের ৎধহশরহম একটি ব্যবস্থা করে যাতে ছাত্র-ছাত্রীরা ভর্তির পূর্বে তাদেরও তুল্য মূল্যায়ন করতে পারে। এইটা তারা করে কনসালটেন্সির মাধ্যমে টাকার বিনিময়ে। কিন্তু আমাদের আলোচনা কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘গোল্ড স্টার’ নিয়ে নয়। তাই টাকার প্রশ্ন আসলো কেন এইটাই আমি বুঝতে পারছি না।আমরা কি এসব ৎধহশরহমকে পড়মহরঃরড়হ-এ নিয়ে ভবিষ্যতে উন্নতির রূপকল্প তৈরি করে সামনে এগোনোর পরিকল্পনা নেবো নাকি আরো ছিটকে পড়বো? এই সিদ্ধান্ত আমাদের আজকেই নিতে হবে। দৈনিক বণিকবার্তায় ‘অগ্রগামিতায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা’ শিরোনামে একটি আর্টিকেল দেখলাম। পড়ার পর আমাদের পাবলিক বা জনবিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থা দেখে মনটা বিষিয়ে উঠলো। ইতোমধ্যেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েটরা জব মার্কেট থেকে ছিটকে পড়ছে। পাস করার স্বল্প সময়ে চাকরি পাবার ক্ষেত্রে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে। এর একটি কারণ হয়তো আমাদের ছাত্ররা সরকারি চাকরির পেছনে বেশি থাকে। পাস করার পর দুই-তিন বছর তারা বিসিএস গাইড পড়াতেই তারা ব্যস্ত থাকে। আর সরকারি চাকরি পাওয়ার প্রসেসটা দীর্ঘ হওয়ায় আমাদের ছেলেরা পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু একটা কথা তো সত্যি যে, আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা বিশেষ করে প্রশাসনে যারা আছে আমাদের ছেলেমেয়েদের চাকরি নিয়ে মাথা ঘামায় না কারণ তাদের মাথা ঘামানোর জন্য অন্য অনেক কাজ আছে যা কেবল তাদের ব্যক্তি লাভ অথবা দলের লাভকেন্দ্রিক। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]