ঈদ বাজার জমছে না রাজধানীর মার্কেটগুলোতে

আমাদের নতুন সময় : 21/05/2019

রমজান আলী : রমজানের প্রায় অর্ধেক পার হতে চললো। ঈদ সামনে রেখে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন দোকানিরা। তবে কেনাকাটার ধুম বলতে যা বোঝায় মার্কেটগুলোতে এখনও তা শুরু হয়নি।

অবশ্য বিক্রেতারা বলছেন, রোজার প্রথম ১৫ দিন বেচাবিক্রি হয় না তেমন। এসময়গুলোতে ক্রেতারা শুধু বিভিন্ন মডেল দেখে দেখে চলে যায়। মূলত, ঈদবাজার শুরু হয় ২০ রোজার পর থেকে। গতকাল সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন নামিদামি শপিংমল ঘুরে ঠিক তেমন চিত্রই দেখা গেলো। ক্রেতাদের উপস্থিতির রয়েছে অনেক কমতি। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এখনও জমে ওঠেনি রাজধানীর বিপণী বিতানগুলোয় বেচাকেনা। দোকানে বসে বসে অলস সময় পার করছে বিক্রেতারা। নগরীর কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।

ঢাকার নিউমার্কেটের চিত্রও এর ব্যতিক্রম। তবে ভিড় এড়াতে কিংবা একটু সস্তায় পণ্য পাওয়ার আশায় অনেকেই আসছেন এখানে। বিক্রেতারা বলছেন,  সপ্তাহখানেক পর জমবে বেচাকেনা।

এছাড়া মার্কেট ব্যবসায়ীরা বলেন, রাজধানীর ফুটপাতেগুলোতে জমজমাট বিক্রি হচ্ছে। আসলে মার্কেট আর ফুটপাতের ক্রেতা এক নয়। ফুটপাতে সাধারণ মানুষই বেশি কিনে থাকে। আর মার্কেটে এ্যালিট শ্রেণীর লোকজন আসে। আর তাঁরা ২০ রোজার পর  থেকেই মার্কেট করা শুরু করে।

ঈদের বেচাকেনা নিয়ে রাজধানীর গাউছিয়া মার্কেটের বিচিত্রা স্টোরের কর্ণধার আবুল হোসেন সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, বেচাকেনার নাজুক পরিস্থিতি। অন্যান্য বছরের তুলনায় বেচাকেনা কম। ২০ রমজানের পর বেচাকেনা বাড়তে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

এছাড়া বেচাকেনা কেনো কম এমন এক প্রশ্নের জবাবে দোকানী আবুল হোসেন বলেন, আমাদের দেশের অনেকেই এখন ভারত থেকে কেনাকাটা করে নিয়ে আসে। অনলাইনে ব্যবসার কারণে মার্কেটে ক্রেতাদের আসা-যাওয়াও কমে গেছে।

নিউ সুপার মার্কেটের পাঞ্জাবী বিক্রেতা এইচ এম সাগর বলেন, বেচাকেনা নাই বললে ভুল হবে না। কিছু ক্রেতা দোকানে এসে মাল (পাঞ্জাবী) দেখে দাম শুনে চলে যায়। মার্কেটে কাষ্টমার কম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, রোদ ও গরমের তাপে হয়তো ক্রেতারা বাসা থেকে বের হয় না। তবে রমজানের শেষ ১০ দিন বেচাকেনা ভালো হবে বলে আমি আশাবাদী।

একই মার্কেটের মেমোরি ফেব্রিক্সের বিক্রয়কর্মী আকাশ  বলেন, আমরা থান কাপড়, টু-পিছ, থ্রী-পিছ বিক্রয় করি। ১৫ রোজার মধ্যেই আমাদের আইটেমগুলো ভালো চলে। তবে এবার বেচাকেনা ঠান্ডা। গতবছর থেকে এবার বেচাকেনা নিচে নেমে গেছে বলেও জানান আকাশ। মানুষের পকেটে টাকা নাই তাই কেউ কিনতে আসেনা বলে দাবি করেন এ বিক্রেতা।

রাজধানীর নয়া পল্টনের সিটি হার্ট শপিং কমপ্লেক্স। প্রতি ঈদে ক্রেতাদের আগমনে সরগরম থাকে মার্কেটটি। তবে এবার রোজার ঈদে জমছে না এই মার্কেটের কেনাকাটা। ফলে অনেকটা অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ীরা।

মার্কেটের দোকান মালিক অহিদুল ইসলাম বলেন, গতবার তিন রোজা থেকেই ক্রেতাদের চাপ থাকলেও এবার ১৩ রোজায়ও ক্রেতা নেই। সকালে দোকান খুললেও প্রথম ক্রেতার দেখা মেলে বিকালে। এবার ৪৮ লাখ টাকার মালামাল তুলেছি, এখনো টুকটাক মাল আসছে। কিন্তু ক্রেতাই তো নেই মাল উঠিয়ে কী করব? সম্পাদনা : আবদুল অদুদ




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]