বিজেপি বিরোধী সরকার গঠনে তৎপর ভারতের বিরোধীদলগুলো, মমতা-চন্দ্রবাবু বৈঠক

আমাদের নতুন সময় : 21/05/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : ভারতে লোকসভা নির্বাচনের বুথফেরত ফল প্রকাশের পর বিজেপি বিরোধী সর্বভারতীয় একটি জোট গঠনে এখন তৎপর বিরোধীদলীয় নেতারা। ভোট শুরুর আগে একবার কংগ্রেস বিরোধী দলগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আনার চেষ্টা করেছিলো। কিন্তু মমতা-মায়াবতীর অনিচ্ছায় তা আর হয়ে উঠে নি। সেবার কংগ্রেসের হয়ে দূতিয়ালি করেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডু। এবারও তিনি সেই দায়িত্ব পালন করবেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরাই। সে লক্ষেই নাইডু সোমবার কলকাতা সফরে এসে মমতার সঙ্গে বৈঠক করেন। তবে পূর্বনির্ধারিত সোনিয়া-মায়াবতী বৈঠক বাতিল করা হয়েছে। এ কারণে বৃহত্তর জোট তৈরীর ক্ষেত্রে শঙ্কা তৈরী হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কলকাতায় এসে মমতার কালীঘাটের বাড়িতে যান চন্দ্রবাবু। সেখানেই বৈঠক হয় এই দুই মুখ্যমন্ত্রীর। এ দিন বিকেল ৫টা নাগাদ কলকাতা বিমানবন্দরে নামেন চন্দ্রবাবু। সূত্রের খবর, নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়েই আলোচনা হয় তাঁদের মধ্যে। ২৩ মে বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরে কোন পথে এগোবে মহাজোট, সেই স্ট্র্যাটেজি নিয়েও কথা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। কলকাতা সফরের আগে সংবাদমাধ্যমে চন্দ্রবাবু জানান, নির্বাচন কমিশনের কাছে ইভিএমে কারচুপি নিয়ে তাঁদের আশঙ্কার কথা জানাবেন। ইভিএমে কারচুপি নিয়ে চন্দ্রবাবু তো বটেই, মমতার মুখেও শোনা গিয়েছে আশঙ্কার কথা। পাশাপাশি, বুথফেরত সমীক্ষাকেই ‘গসিপ’ বা গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা। চন্দ্রবাবু জানিয়েছেন, আগামী বুধবার ইভিএম নিয়ে দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকতে মমতাকে অনুরোধ করেছেন তিনি।

এর আগেও মমতার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন চন্দ্রবাবু। শুধু মমতা নয়, সারা ভারত ঘুরে স্থানীয় প্রভাবশালী সকল দলের সঙ্গেই আলোচনা করেন তিনি। বলা হচ্ছিলো তিনি মূলত কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীর হয়েই দূতীয়ালি করেছেন। এরপর কোলকাতায় সফর করেন আম আদমি পার্টির সভাপতি অরবিন্দ কেজরিওয়াল, এসপি সভাপতি অখিলেশ যাদব, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী, কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খড়েন। তারা কলকাতায় মমতার সঙ্গে একমঞ্চে সভায় করেন। নির্বাচনের সময়ও দূতিয়ালী চালিয়ে গেছেন চন্দ্রবাবু। এসময় তিনি দেখা করেন এসসিপি সভাপতি শরদ পাওয়ার এবং সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরির সঙ্গেও।

তবে সমীক্ষার ফলাফল দেখার পর চন্দ্রবাবুর এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বিজেপির শরিক শিবসেনা। শিবসেনার মুখপত্র সামনায় দলের প্রধান উদ্ধব ঠাকরে লিখেছন, ‘অকারণে নিজেকে দূর্বল করছেন কেন চন্দ্রবাবু? আশা করি, আগামী ২৩ মে পর্যন্ত তাঁর এই উৎসাহ বজায় থাকবে! আমাদের শুভেচ্ছা রইল।’ মমতা-চন্দ্রবাবুর এই সাক্ষাৎ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষও। মহাজোটের গুরুত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। দিলীপবাবু বলেন, ‘বুথফেরত জরিপের পর এই বৈঠকের বা ফেডারেল ফ্রন্ট-এর কোনও গুরুত্ব আছে কি?’

তবে জোট গঠনের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মায়াবতী-সোনিয়া গান্ধী বৈঠক বাতিলের ঘোষণা।  সোমবার বিএসপির পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়, এ ধরণের কোন বৈঠকের পরিকল্পনা তাদের নেই। তাই সোনিয়া মায়াবতী বৈঠক হচ্ছে না। লোকসভা নির্বাচনী প্রচারে বিজেপির পাশাপাশি কংগ্রেসকে আক্রমণ করলেও মায়াবতী সচেতন ভাবেই গান্ধী পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য করা এড়িয়ে চলেছেন। এমনকি, মহাজোটের সমর্থকদের তিনি অমেথি ও রায়বরেলিতে যথাক্রমে রাহুল গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীকে ভোট দেওয়ায় উৎসাহিত করেছেন। শনিবার লক্ষৌতে গিয়ে মায়াবতীর সঙ্গে দেখা করার পর চন্দ্রবাবু নাইডু জানিয়েছিলেন, দিল্লিতে এ দিন সোনিয়ার সঙ্গে বিএসপি নেত্রী বৈঠক হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি বুথ ফেরত ফলাফলে কিছুটা গড়মিল হয়, আর বিজেপি নিরঙ্কুশ সংক্যাগরিষ্ঠতা না পায়, তবেই এই জোটগঠন প্রক্রিয়া কাজে লাগবে। আগামী বৃহস্পতিবার লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষিত হবে। এর আগেই কাজ গুছিয়ে রাখতে চায় কংগ্রেস। বলা হচ্ছে বিজেপিকে হঠাতে কর্ণাটকের ধারাকেই অনুসরণ করতে চায় ভারতের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলটি। এজন্য মমতা বা মায়াবতীকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে। কর্ণাটকে একইভাবে বেশি আসন পেয়েও কুমারাস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছিলো। তবে এতো কিছুর আগে একটি দোদুল্যমান পার্লামেন্টের প্রয়োজন হবে। সেজন্য বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অপেক্ষা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]