রাজধানীতে ৩৪ পয়েন্টে ওয়াসার পানি পরীক্ষা করে ২ জুলাইয়ের মধ্যে রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

আমাদের নতুন সময় : 22/05/2019

নূর মোহাম্মদ : রাজধানীতে ওয়াসার ৪টি সোর্স পয়েন্ট, ১০টি জোনের ৩৪ পয়েন্ট থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পানি পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশে গঠিত কমিটিকে বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইসিডিডিআরবি’র ল্যাবে ওয়াসার খরচে পানি পরীক্ষা করে ২ জুলাইয়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান ড. সাবিতা রিজওয়ানা রহমান আদালতে তার মতামত তুলে ধরার পর গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

প্রতিটি নমুনা পরীক্ষায় ৫ হাজার টাকা খরচ ধরে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ওয়াসাকে দিতে বলা হয়েছে। আর স্থানীয় সরকার সচিবকে বলা হয়েছে ওয়াসার কাছ থেকে এ টাকা আদয় করে দিতে।

অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান আদালতের নির্দেশে গঠিত ওয়াসার পানি পরীক্ষা কমিটির সদস্য। আদালতের নির্দেশে গতকাল তিনি হাজির হন। আদালত বলেন, মূলত বেশি বাজেট সম্পর্কে জানতে আপনার মতামত জানতে চাচ্ছি। আমাদের মূল উদ্দেশ্যে দূষিত পানি সরবরাহের বিষয়টি নিয়ে। কেন এটি সাপ্লাই হচ্ছে? এটা এক্সামিনের জন্য স্যাম্পল কিভাবে নেয়া হবে। পরীক্ষায় খরচ কিভাবে কমানো যায়। সে বিষয়ে জানতে আপনাকে আসতে বলেছি।

এ সময় অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা রহমান বলেন, পানি দূষিত এমন ঢালাও অভিযোগের কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বিগত দিন গুলোতে অর্থাৎ ২০০৯ সালে ঢাকা ওয়াসার সংযোগ ছিলো ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৪৪টি। যার বর্তমান সংখ্যা ৩ লাখ ৮৭ হাজার ১৭৭টি। সুপেয় পানিতে কোন রকম রং, গন্ধ বা অস্বচ্ছতা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, যেসব পানিতে ময়লা দেখা যাচ্ছে বা ঘোলা সেটাতো পরীক্ষার দরকার নেই। সেটা রিজেক্টেড। যেটা সাধারণত স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন পরিষ্কার পানি পরীক্ষায় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকি যা পান করে কোন এলাকার রোগ ছড়াবার তথ্য মেলে।

দূষণের প্রকৃত চিত্র পাওয়ার জন্য অভিযোগ আছে এমন এলাকার পানি সাত দিনের মধ্যে পরীক্ষা করার ওপর জোর দেন অণুজীব বিজ্ঞানের এই অধ্যাপক।

সাবিতা রিজওয়ানা বলেন, ওয়াসা যে রিপোর্ট দিয়েছে ৫৯ এলাকা নিয়ে সেটা কয়েকমাস আগের। ওয়াসার পানির উৎস হলো ভূমিস্থ, ভূগর্ভস্থ, শীতলক্ষা বা বুড়িগঙ্গা। এসব উৎসের পানি সীজন টু সীজনে তারতম্য থাকতে পারে। ঢাকা ওয়াসার ১০টি জোনের ৩ লাখ ৬০ হাজার ৩৪৩টি আউটলেট আছে। আমরা জানিয়েছি ৯৯ ভাগ আস্থা অর্জন করতে হলে ১৫ হাজার ৮৫৮ আউটলেট পরীক্ষার প্রয়োজন। অন্তত ৯৫ ভাগ আস্থা অর্জনে এক হাজার ৬৫ আউটলেট পরীক্ষা করা আবশ্যক।

এসময় আদালত বলেন, টেস্টের মাধমে বিশুদ্ধ পানি পাওয়া যাবে না। জানার জন্য এত টাকা খরচের দরকার নেই। উদ্দেশ্যে পানি দূষিত আছে কিনা? জবাবে সাবিতা রিজওয়ানা বলেন, চারটি সোর্সে পানি আসে। প্রতি স্যাম্পলে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হবে। সে ক্ষেত্রে মোট ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ হবে।

আদেশের পরে অধ্যাপক সাবিতা রিজওয়ানা সাংবাদিকদের বলেন, পানির প্রক্রিয়া হচ্ছে একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আজকে যে পানি সুপেয় ২ দিন পরে কোনো রকম জটিলতার কারণে সে পানি সুপেয় নাও হতে পারে। তাই এককালীন পরীক্ষা করে পানির বিষয়টি সমাধান করা যাবে না। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]