ইসলামপুর থেকে মিরপুর, আজিজ সুপার মার্কেট, গুলশান পিংক সিটি জমজমাট ঈদ শপিং

আমাদের নতুন সময় : 25/05/2019

তাপসী রাবেয়া : দেশের অন্যতম বড় পাইকারী কাপড়ের বাজার হচ্ছে পুরান ঢাকার ইসলামপুর। ষোল শতকের শেষ থেকে একবিংশ শতকে এসেও কমেনি এই কাপড় ব্যবসার জনপ্রিয়তা। কম দাম আর আধুনিকতার মিশেলে এখানকার কাপড় রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও।

ইসলামপুরের কাপড় ব্যবসায়ী সাঈদ মুন্না বলেন, এখানে ১২ হাজার ছোট বড় কাপড়ের দোকান রয়েছে। সারাবছর এখানে দিনে কয়েক কোটি টাকার কাপড় বিক্রি হয়। আর রমজান আসলে সেই বিক্রি বেড়ে ১০০ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। এবারেও তার ব্যতিক্রম নেই। এখানে অবশ্য রোজার শুরু থেকেই বিক্রি শুরু হয়। তিনি বলেন, খুচরা বিক্রির তুলনায় এই মার্কেটে পাইকারি বিক্রি বেশি।

কলাবাগান, ধানমন্ডি, সিটি কলেজ এলাকার বাসায় বাসায় কাপড়, থ্রি পিস বিক্রি করেন লাভলী আক্তার। তিনি জানান, রমজানের শুরুতেই ইসলামপুর থেকে কাপড় নিয়ে আসেন তিনি। ৫০০ টাকা করে আনা থ্রিপিস অনায়াসেই ৯০০-১০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ইসলামপুর থেকে কেনাকাটা করতে বরগুনা থেকে এসেছেন সানিয়া ইসলাম। তিনি বলেন, ঈদে আত্মীয়-স্বজন সবাইকে কাপড় দিতে হয়। তাই রাতের লঞ্চে ঢাকা এসে ইসলামপুরে কেনাকাটা শেষ করে আবার চলে যান তিনি। হাজারো রকমের কাপড় পাওয়া যাচ্ছে এখানে। যা দামেও সাশ্রয়ী।

একপ্রান্তে ইসলামপুর আর অন্যপ্রান্তের মিরপুর ২, ১০, ১১ সারাদিনই ভিড়ভাট্টা। রোজার দশদিন পর থেকেই শুরু হয়েছে এই ভিড়।

মিরপুর ২-এ টোকিও চাইনিজ রেস্টুরেন্টের এক কর্মী এ প্রতিবেদককে জানান, মিরপুর দশের গোলচত্বরে শপিং করতে আসা ক্রেতাদের গাড়ি মিরপুর দুই পর্যন্ত চলে আসে। তিনি বলেন, মিরপুর ১১ বেনারসী পল্লীতো রোজার প্রথম দিন থেকেই সরগরম।

বেনারসী পল্লীর চোখ ফ্যাসনের কর্ণধার, ইসমাইল রুমি বলেন, রোজায় যা বিক্রি হয় তা সারাবছরের ক্ষতি পুষিয়ে যায়।

মিরপুর এলাকার বাসিন্দারা বলেন, স্টেডিয়াম হবার পর এখানে এতো শপিং সেন্টার হয়েছে যে শান্তিতে থাকার উপায় নেই। এখানে রয়েছে আড়ং-এর শোরুম। আড়ং-এ আসা এক ক্রেতা বলেন, আগে তো গুলশান বা ধানমন্ডির আড়ংয়ে যেতো হতো। এখন বাসার কাছে আড়ং। তাই কষ্টও কমেছে।

বইয়ের দোকান খ্যাত শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট গেলো একদশকে কাপড়ের ব্যবসায়ও করেছে সুনাম। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়, বদরুন্নেসা কলেজ, ইডেন কলেজ আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে কম খরচে নিজেদের কেনাকাটা করছেন।

এই মার্কেটে সবই দেশীয় পণ্যের দোকান। দেশাল, মেঘদল, মেঘ, গেরুয়া, মেঠোপথ, কুর্তিবাড়ি ঘুরে দেখা গেছে অধিকাংশই ছাত্রছাত্রীরা কেনাকাটা করছেন। বিক্রেতারা বলছেন সারা রমজানে বিক্রি চললেও ১৫ রোজা থেকে বেড়েছে বিক্রি আর ভিড়।

ঢাকার অভিজাত বিপণীবিতান আর দেশি-বিদেশি ব্র্যান্ডের পণ্যর জন্য বিখ্যাত গুলশানের পিংক সিটি। সুগন্ধি থেকে শুরু করে বিদেশী ব্রান্ডের শার্ট পোলো শার্ট, টি শার্ট সবই মিলছে এ মার্কেটে।

ভিড় লেগেছে এই মলেও। দোকানীরা বলছেন, ক্রেতাদের ভিড়ের কারণে কয়েকবছর ধরে এখানে খাবারের দোকানও তৈরি হয়েছে। রোজা রেখে ক্রেতারা হাতের নাগালে যেন ইফতার করতে পারেন সে ব্যবস্থাও আছে।

এই মলে কেনাকাটা করতে আসা স্কলাসটিকা স্কুলের সাবেক শিক্ষক নাজিয়া মুনমুন বলেন, আনকমন ড্রেস, শো বোতাম, লেস এসব পিংক সিটি ছাড়া পাওয়াই যায় না।

সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ইন্ডিয়া, পাকিস্তানী কাপড়ের জন্যও এই মল অনেকের পচ্ছন্দ বলে জনান ক্রেতারা।

রাজধানীর এসব জমজমাট বেচাকেনায় রোজার প্রথম দিন থেকে সাপ্তাহিক ছুটি পাচ্ছেন না বিক্রয়কর্মীরা। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]