ট্রেনে টিকিট কাটতে তৃতীয় দিনেও ভোগান্তি, বাড়তি টাকায় মিলছে বাসের টিকিট 

আমাদের নতুন সময় : 25/05/2019

সুজন কৈরী : ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রির তৃতীয় দিনেও শুক্রবার সকাল থেকে কমলাপুরে টিকিট প্রত্যাশীদের জন¯্রােত সৃষ্টি হয়। কেউ মধ্যরাতে আবার কেউবা ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। টিকিট কিনতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বলে অভিযোগ টিকিট প্রত্যাশীদের। এদিকে বাস টার্মিনালগুলোতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও কাক্সিক্ষত টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না, তবে কাউন্টারের লোকজনকে বাড়তি টাকা দিলেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন টিকিট প্রত্যাশীরা।

শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশনসহ পাঁচটি স্থানে টিকেট বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এদিন দেয়া হয় ২ জুনের টিকেট। কমলাপুর রেলস্টেশনে খুলনা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নীলফামারী ও সিরাজগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। তেজগাঁও স্টেশন থেকে জামালপুরগামী পাঁচটি, বিমানবন্দর স্টেশন থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী ট্রেনের টিকিট, বনানী স্টেশন থেকে মোহনগঞ্জ রুটের দুটি, ফুলবাড়িয়া পুরাতন রেলভবন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জ রুটের সাতটি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে টিকিট কেনার পদ্ধতি চালু করায় এবার কালোবাজারিদের উৎপাত কম। মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে টিকিট কিনতে পারছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে একজন সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারছেন। তৃতীয় দিনেও অ্যাপ থেকে টিকেট কিনতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন টিকেট প্রত্যাশীরা।

কমলাপুর স্টেশনে সেহরির পর থেকে লাইনে দাঁড়ানো রাশেদুল আলম বলেন, বৃহস্পতিবার অনলাইন বা মোবাইল অ্যাপ থেকে চেষ্টা করেও টিকেট কেনা সম্ভব হয়নি। বেসরকারি চাকরিজীবী মো. বাপ্পী ইসলাম সকাল ৬টার দিকে কমলাপুর গিয়ে বেলা সাড়ে ১২টায়ও লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তিনিও মোবাইল অ্যাপে টিকিট পাননি।

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, অনলাইনের সমস্যা কেটে যাবে। বিশেষজ্ঞ দল সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। এখন লোকজন টিকেট পাচ্ছে। কমলাপুরে নারীদের আরেকটি কাউন্টার খুলে দেয়ার কথাও জানান তিনি।

এদিকে শুক্রবার সকাল থেকে রাজধানীর সায়েদাবাদ টার্মিনালের বাস কাউন্টারগুলোর সামনে টিকিট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। যাত্রীদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তারা কাক্সিক্ষত টিকিট পাচ্ছেন না। তবে কাউন্টারের লোকজনকে বাড়তি টাকা দিলেই টিকিট পাওয়া যাচ্ছে। বাস টার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারের সামনে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।

টিকিট প্রত্যাশী রফিকুল ইসলাম জানান, মাদারীপুরে যাওয়ার জন্য ২ জুনের টিকিট কিনতে ভোররাতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। সৌদিয়া পরিবহনের কাউন্টারে সকাল ৮টায় বলা হচ্ছে টিকিট শেষ। পরে কাউন্টারের লোকজনকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট সংগ্রহ করেছেন। তিনি বলেন, দ্বিগুণ টাকা দিলে পাওয়া যাচ্ছে। ৩৫০ টাকার টিকিট ৭০০ টাকায় নিচ্ছে। সৌদিয়া পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আব্দুল হক জানান, ২৯ মে থেকে ৫ জুনের টিকিটের চাহিদা বেশি।  ঢাকা-মাদারীপুর ভাড়া ৩০০ টাকায় টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। কারো কাছ থেকে বাড়তি টাকা নেয়া হচ্ছে না। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]