পাপের ঘড়া পূর্ণ হলো!কাকলী সাহা, কলকাতা থেকে

আমাদের নতুন সময় : 25/05/2019

সীতাহরণে যেমন সোনার লংকা ধ্বংস হয়েছে, তেমনি নড়ে গেছে সৌভ্রাতৃত্বের সংজ্ঞাও। যেমন বালি-সুগ্রীব, রাবণ-বিভীষণ, ভরতরাÑএরা একে অপরের পরিপূরক নয় বরং শত্রুতায় উন্নীত হয়েছে তাদের সম্পর্ক। কুরুসভায় দ্রৌপদীর অপমান, তাতেই কুরুক্ষেত্র। কেবল কুরুবংশই ধ্বংস হয়নি পা-বপুরীও খা খা করতো ধর্মযুদ্ধ নামক মিথ্যার আড়ালে। দরিদ্র পৃথিবীর প্রাতঃস্মরণীয় দেশ সোভিয়েত রাশিয়া নিজ কলেবরের আদলেই লেনিনের মূর্তি ভেঙে, গৌরব হারিয়ে অচিরেই ছিন্নভিন্ন  হয়ে গেছে।

ঠিক একইভাবে দুটি দলের কোন্দলে, মাটি দখলের লড়াইয়ে বাঙালির ঈশ্বরকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হলো; আর বাঙালি নাকে-কানে সরষের তেল দিয়ে ঘুমিয়ে থাকবে, এ কি হতে পারে? কিছুতেই বাঙালি সহ্য করতে পারে না, রবীন্দ্রনাথ, বিদ্যাসাগর, নেতাজী সুভাষের মূর্তি ভেঙে গুঁড়িয়ে যাবে! তারা রাজনীতির গুটিতে পরিণত হবেন, আর বাঙালি জাতি নপুংসক হয়ে কারো আঁচলে মুখ ঢাকবে, এ হতে পারে না। বিশ্বকবি একবার বঙ্গজননীর কাছে বাঙালির বাঙালিয়ানায় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, “রেখেছো বাঙালী করে, মানুষ করোনি।” আজ সেই বাঙালির মানুষ হয়ে দেখাবার সময় এসেছে।

সময় যাদের কাছে হার মেনেছে, যুগ যুগ ধরে যাদের উন্নত মাথা এতোটুকু নোয়াতে পারেনি কোনো স্বৈরাচারী শাসক। আজ কেবল ক্ষমতার দখল নিতে গুঁড়িয়ে দিলো বাঙালির প্রথম অক্ষর পরিচয় ঘটিয়েছেন যিনি. তাঁর মূর্তি? বাঙালির হৃদয় আজও মরুভূমি হয়ে যায়নি, মস্তিষ্ক হয়ে যায়নি বদ্ধভূমি, তাই এ-যন্ত্রণা একদিন অবশ্যই আগ্নেয়গিরি হয়ে উঠবেই। সেদিন নিশ্চয়ই আজ হতেই পারে। কারণ এই স্বৈরাচারী শক্তির পাপের ঘড়া পূর্ণ হয়েছে আজ। কারো নিস্তার  নেই এর থেকে, যারা শূর্পনখাকে অপমান করেছে আর যারা সীতাকে অপমান করেছে, উভয়েই সমান অপরাধী। যিনি নারীশিক্ষা প্রচলন করে, বাল্যবিবাহ রোধ করে এবং বিধবাবিবাহ চালু করে, বাঙালির অর্ধেক আকাশ মেঘমুক্ত করে তারায় তারায় সাজিয়ে দিয়েছেন, তাঁর অপমান সমগ্র নারী জাতির শিক্ষা, স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত, চরম অবমাননার।

দুদলের ক্ষমতা দখলের লড়াইটা অন্যভাবেও হতে পারতো, ভোটের ওপর তারা আস্থা রাখতে না পেরেই শেষ পর্যায়ে এসে, দুষ্কর্মের আশ্রয় নিয়েছেন, যেমন করে কুরুক্ষেত্রের অন্তিমলগ্নে এসে যুধিষ্ঠিরকে সত্যভঙ্গ করতে হয়েছে, কুন্তীকে মাতৃত্ব বিসর্জন দিতে হয়েছে ধ্বংসকে ত্বরান্বিত করতে। তেমন করেই নিজেদের ধ্বংসের সোচ্চার দামামা বাজাতেই এমন কুৎসিত অপকর্মের আশ্রয় নিতে হলো।  স্বৈরাচারের পাপের ঘড়া পূর্ণ হতে বাকি ছিলো না। তাই তাদের ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী ও অনিবার্য। আমরা শুধু একবার মানুষ হবার দায় স্বীকার করতে পারি কিনা, সেটাই দেখার ব্যাপার। মনে রাখতে হবে, এ অন্যায় যুদ্ধে বাদী-বিবাদী, উভয়েই মানুষের শত্রু, তাই কারোরই নিস্তার নেই।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]