শান্তি নিকেতনে সবার প্রাণের মানুষ, আত্মার আপনজন রামকিঙ্কর বেইজ-এর জন্মদিন আজ

আমাদের নতুন সময় : 25/05/2019

বাবলু ভট্টাচার্য : ‘হারিয়ে গেলে মনের মানুষ খুঁজলে মেলে না…’ ভরা গলায়, গুরুগম্ভীর রোদে দাঁড়িয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে গাইতেন চিত্রী-ভাস্কর রামকিঙ্কর বেইজ। রামকিঙ্কর বেইজ ১৯০৬ সালের আজকের দিনে (২৫ মে) পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার যুগীপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। শান্তি নিকেতনে সবার প্রাণের মানুষ, আত্মার আপনজন রামকিঙ্কর। এক রক্তিম প্রাণউচ্ছ্বাসমাখা কর্মনিপুণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। আশ্রমের ফাঁকা আকাশের নিচে, পাখির কাকলিতে গলা মিলিয়ে গাইতেন কখনো লালন, কখনো রবীন্দ্রনাথ। প্রথমদিকের শান্তি নিকেতনকে যারা দু’হাত দিয়ে ভরিয়ে গেছেন রামকিঙ্কর তাদের একজন।

রামকিঙ্করের পেশাগত জীবনের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় ১৯৩৪ সালে। তিনি কলাভবনের স্থায়ী শিক্ষক হিসাবে নিয়োজিত হন। ১৯৩৫ এবং ১৯৩৬ সালে অনেকগুলো কাজ তিনি শেষ করেন। রামকিঙ্করের বাবা চ-ীচরণ ও মা সম্পূর্ণা দেবীর কোলে রামকিঙ্করের জন্ম। বড় অভাবী পরিবার, ক্ষৌরকর্মই জীবিকা। মামার বাড়ি বিষ্ণুপুরের কাদাকুলি যাওয়ার পথে, সূত্রধরদের বাস। সেসময়ই অনন্ত সূত্রধর নামের এক মিস্ত্রীর কাছে শিল্পী রামকিঙ্করের মূর্তি গড়ার প্রথম পাঠ। সেসময় বিষ্ণুপুরের মন্দিরের কাজও তাকে টেনেছে। মন্দিরের পোড়ামাটি আর পাথরের কাজের নকল করেই শিল্পীর পথ চলা শুরু।

লেখাপড়া যতোটুকু করেছেন তাতে সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়ার প্রতি তার ঝোঁক ছিলো না। ছবি আঁকা আর মূর্তি গড়াতে ছিলো তার আসল মনোযোগ। বাড়িতে লেখাপড়া করতে বসলে লেখাপড়ার কথা ভুলে শুরু করে দিতেন ছবি আঁকা। বাড়ির দেওয়ালে ঝোলানো দেবদেবীর ছবিগুলো দেখে দেখে আঁকতেন প্রায়শই। আর্থিক অনটনের কারণে কিশোর রামকিঙ্করের হাতে নরুন দিয়ে বসিয়ে দেয়া হয় দোলতলার এক গাছতলায়, যদি কিছু আয় হয়। কিন্তু ক্ষৌরকর্ম বাদ দিয়ে নরুন দিয়ে গাছের গায়ে অনুবাদ করে চলেন তার মনে তৈরি ছবি।

লেখক : চলচ্চিত্র গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]