• প্রচ্ছদ » » সিপিএমের মৃত্যু এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ


সিপিএমের মৃত্যু এবং তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ

আমাদের নতুন সময় : 25/05/2019

বিপ্লব পাল

মানুষের সিদ্ধান্তের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ‘ভয়’। এটা আমার না, ফ্রেড্রিক নিৎসের কথন। এই ভয় থেকেই তৈরি হয়… ভিক্টিমহুডের দর্শন… যে আমরা নির্যাতিত। ভিক্টিমহুডের দর্শন সভ্যতার আদিকাল থেকেই বিদ্যমান। খ্রিস্টান, ইসলাম, কমিউনিজম, অধুনা ফেমিনিজম… সবই সেই মায়ার খেলা। নির্যাতন বা নির্যাতিত হওয়ার ভয়। সেই ‘ভিক্টিমহুডের’ খেলার সাফল্যের তালিকায় নতুন এবং শক্তিশালী সংযোজন হিন্দুত্ববাদ। হিন্দু খতরে মে হ্যায়। ব্যস ডেভেলেপমেন্ট অর্থনীতি সব মায়া। ‘ভয়’ হয়ে উঠে নির্ধারক শক্তি। কারণ দেশভাগের স্মৃতি এখনো টাটকা। সুতরাং দেখা যাচ্ছে ‘ভয়’ দিয়েই রাজনৈতিক বি¤েøষণ করা ছাড়া উপায় নেই।মুসলমানরা বিজেপির ভয়ে বাংলায় তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। ফলে তৃণমূল এখনো ৪৩ শতাংশ ভোট ধরে রাখতে পেরেছে। যেহেতু কংগ্রেস এবং সিপিএম বাংলা থেকে নিশ্চিহ্ন বা অস্তিত্ব রক্ষার খাতিরে পার্টিগুলোকে তৃণমূলের সঙ্গেই জোট বাঁধতে হবে (সেই ভয়) সেহেতু তৃণমূলের ভোট শেয়ার বাড়ানোর সুযোগ আছে। কিন্তু সেটা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ এক. মুকুল রায়ের মতো সংগঠক তৃণমূলে নেই। দুই. মমতা ব্যানার্জি আমরা একাই পারবো বা শুধু মমতা ব্যানার্জির নামেই ভোট আসবে এই ভুল ধারণার বশবর্তী হলে মুশকিল আছে। গ্রামের দিকে তৃণমূলের থেকে বিজেপি এগিয়ে। সিঙ্গুর তারা হারিয়েছে। সেই বিশ্লেষণ আগে করুক। তৃণমূল আরেকটা ভয়কে একদমই কাজে লাগাতে পারেনি। সেটা হচ্ছে বাঙালি সংস্কৃতির উপর আক্রমণের ভয়। গর্গদের প্রো-বাঙালি লবিটাকে কাজে লাগানোর চেষ্টাই করেনি তৃণমূল। সেই এরোগ্যান্স। যার জন্য কংগ্রেসের সঙ্গে জোট তারা করেননি। অন্যদিকে বিজেপির ভোট ইঞ্জিন… দুই প্রকৃতির ভয়। এক. মুসলমানের ভয়। দুই. তৃণমূলের গুÐাদের ভয়। প্রথমটা শহরে ভোট টানে, দ্বিতীয়টা গ্রামে। আর মুসলিম ভোট টানার জন্য, মুসলমানদের মধ্যে মৌলবাদী সম্প্রদায়টাকে তুষ্ট করার অভ্যাস না ছাড়লে মুসলমানরা তাদের ছেড়ে চলে যাবে। নুসরতকে দেখুন। সে কালী মন্দির পূজো দিতে গিয়েছিলো বলে তার বিরুদ্ধে একাধিক লিফলেট দেয় মুসলমান মৌলবাদীরা। নুসরত কিন্তু প্রচুর ভোটে জিতেছে। বোঝা যাচ্ছে মৌলবাদীদের মুসলমানরা পাত্তা দিতে চায় না। কিন্তু কংগ্রেস, তৃণমূল, সিপিএম এরা মুসলিম মৌলবাদীদের হেগো পোঁদে চুমু খেতে গিয়ে হিন্দু ভোট ক্রমাগত হারিয়েছেন এবং আজ বিজেপির কাছে কোণঠাসা। মুসলিম ভোট টানতে মৌলবাদীদের প্রশ্রয় দেয়ার কোনো দরকার নেই। এগুলো বারবার প্রমাণিত। এই ভুল করে চললে বাকি হিন্দু ভোটগুলোও বিজেপিতে চলে যাবে। তৃণমূলের এখন মূল সমস্যা সংগঠন। মুকুল রায়ের মতো সংগঠক নেই। এখন বোঝা যাচ্ছে মুকুল রায় পার্টিটাকে কীভাবে টেনে ছিলেন। ৫০-১০০ বিধায়কের ডিফেকশন হতে পারে। একদিকে ভালো হলো। বোঝা যাচ্ছে বাংলায় হিন্দু ভোট এখন ফ্লোটিং। তৃণমূল খুব দ্রæত আলাদা বাঙালি হিন্দুত্বের ন্যারেটিভ তৈরি করতে না পারলে আগামী নির্বাচনে কঠিন সমস্যা। কারণ অমিত শাহ হোম মিনিস্টার হচ্ছেন। সি বি আই আরো কঠিনভাবে সারদা নিয়ে লাগবে। রাজীব কুমার জেলে ঢুকবে… এতে বাংলার আই পি এসদের আর কেউ টিমসস্যার লেঠেল হওয়ার সাহস করবে না। ফলে আগামী দিনগুলোতে লুম্পেন দিয়ে জেতার দিন শেষ। যে কোনো ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হতে পারে। দুই. এই ভোটে ভারতে বামপন্থী আন্দোলন কিন্তু বেঁচে গেলো। কারণ সিপিএমের মৃত্যু। এই পার্টিটা সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে নতুন ধারার বাম আন্দোলন আসার সুযোগ পাচ্ছিলো না। সেই মাও-লেনিন-স্টালিনদের বাতিল আইডিওলজি নিয়েও লেফট মুভমেন্ট হয় না। আমেরিকার মতো দেশেও বামেরা ১০-২০ শতাংশ ভোট টানে। ভারতে ৫ শতাংশ টানার ক্ষমতাও বামেদের নেই। কারণ সেই সিপিএম। সইফুদ্দিন চৌধুরীর পথে চললে আজকে পশ্চিমবঙ্গসহ ভারতে সিপিএমদের একটা উল্লেখযোগ্য ভোট শেয়ার থাকতো। এসবের জন্য সিপিএমের পলিট বুররা দায়ী। এরা এখনো বাতিল নোট গুনছে। আর হারলেই বলে আত্মসমীক্ষা। আবার হারলে কঠিন আত্মসমীক্ষা। এখন বলে কঠিনতর আত্মসমীক্ষা। কিন্তু কিছু বদলায় না। সেই ভেনেজুয়েলাতে মার্কিন আগ্রাসন, মুসলিম ভোটব্যাংক তোষণ, সরকারি চাকরি পাইয়ে দেয়ার প্রতিশ্রæতি। এর বাইরে এদের কোনো রাজনীতি নেই। পরিবেশ, প্রাইভেট হাসপাতালগুলোর ডাকাতি ইত্যাদি এদের নজরে আসে না। সুতরাং এক অর্থে সিপিএম না মরা পর্যন্ত নতুন বাম আন্দোলন আসবে না। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]