• প্রচ্ছদ » আমাদের বিশ্ব » ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ১৪৪ কোটি ডলার লোকসান দিয়েছে ব্রিটিশ অর্থনীতি


২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের পর থেকে প্রতি সপ্তাহে ১৪৪ কোটি ডলার লোকসান দিয়েছে ব্রিটিশ অর্থনীতি

আমাদের নতুন সময় : 25/05/2019

নূর মাজিদ : ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ব্রেক্সিট আলোচনায় নিজ পার্লামেন্টের মনঃপুত চুক্তি করতে তিনবার ব্যর্থ হওয়ার পর অবশেষে ব্রেক্সিট যুদ্ধ থেকে অবসর পাচ্ছেন থেরেসা মে। আগামী ৭ই জুন তিনি পদত্যাগ করবেন যা গতকালই নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট ভোটের পর থেকেই চলমান এই অচলাবস্থা ব্রিটিশ অর্থনীতিকে দারুন নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করেছে। মে’র পদত্যাগ নিশ্চিত হওয়ার পরেই ব্রিটিশ গণমাধ্যমসূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ভোটের পর থেকে বর্তমান সময় নাগাদ সাপ্তাহিক ৮০ কোটি ইউরো বা ১৪৪ কোটি মার্কিন ডলার হারাচ্ছে ব্রিটিশ অর্থনীতি। এটা দেশটির বিপুল অংকের আর্থিক ক্ষতির একটি সংক্ষেপ অর্থবহ দিক নির্দেশ করছে। যার পেছনে মূল অবদানটাই ব্রেক্সিটের। সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান, স্ট্রেইটস টাইমস, বিবিসি, ফিনান্সিয়াল টাইমস।

যে পরিমাণ সাপ্তাহিক ক্ষতি হয়েছে এটা অর্থনীতিতে যুক্ত হলে ২০১৬ সালের পর থেকে টানা তিন বছর ব্রিটিশ অর্থনীতি আরো ২ শতাংশ বেশি উৎপাদন প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারত। বিষয়টি গতমাসেই নিশ্চিত করেন ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতি নির্ধারক গার্টজান ভিলেগে।

সেসময় শীর্ষ ব্রিটিশ আর্থিক ব্যবসায়ের প্রতিষ্ঠান লয়েডস ব্যাংকিং গ্রুপ এর সঙ্গে একমত পোষণ করে। তারা আরো জানায়, ব্রেক্সিট ভোটের পর থেকেই ব্যবসায়ী এবং উদ্যোক্তাদের আস্থা, এক দশক আগের তুলনায় অনেক নিচে নেমে এসেছে।  এক দশক আগে বিশ্বমন্দার সময়ে অর্থনীতির অবস্থা নিয়ে ব্রিটিশ উদ্যোক্তাদের মাঝে এই ধরণের অনাস্থা দেখা গিয়েছিলো। এদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা ব্যাংক অব ইংল্যান্ড আরো জানায়, ব্রেক্সিট নিয়ে অনিশ্চয়তা না কাটলে, সকল ধরনের বিনিয়োগ থেকে মুনাফা করা ব্যবসায়ীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।

২০১৬ সালের পর থেকে ইউরোর বিপরীতে ব্রিটিশ পাউন্ডের দর কমেছে ১০ শতাংশ। এটা ব্রিটিশ আমদানিকারকদের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ এখন পণ্য আমদানিতে দূর্বল মুদ্রার কারণে আমদানি খরচ বাড়ছে। এটা ভোক্তাদের ওপরও সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। অনেকক্ষেত্রে ভোক্তাব্যয়ও কমেছে। যা আবার স্থানীয়ভাবে পণ্য উৎপাদন প্রক্রিয়ায় স্থবিরতা যুক্ত করে। অবশ্য, বিনিয়োগের প্রবাহ কমে আসায় মুদ্রাস্ফীতির সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশ কো¤পানিগুলো প্রত্যাশিত পরিমাণে রপ্তানি বাড়াতে পারেনি।

বিনিয়োগের অবস্থা যে খুব নিচের দিকে সেটা চলতি মাসে এক বিশেষ প্রতিবেদনে নিশ্চিত করে ফিনান্সিয়াল টাইমস। ব্রিটিশ অর্থনৈতিক দৈনিকটি বলছে, গত মার্চের শেষ নাগাদ যুক্তরাজ্যে অবস্থিত বিনিয়োগ তহবিলগুলো থেকে ৩ হাজার কোটি ডলার বিদেশে বিনিয়োগ করা হয়েছে। ব্যাংকিংখাতেও একই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। ট্রান্সফারওয়্যার নামক একটি আর্থিক সংস্থা এই জানায়, ২০১৬ সালের পর থেকে ব্যাংকগুলো সাপ্তাহিক ২শ কোটি ইউরো যুক্তরাজ্যের বাহিরে সরিয়ে নিয়েছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]