অতিরিক্ত সংখ্যালঘু তোষণেই হারহয়েছে মমতার, তসলিমা নাসরিনের টুইট

আমাদের নতুন সময় : 26/05/2019

হ্যাপি আক্তার : তসলিমা নাসরিনের ইঙ্গিত সর্বধর্ম নয়, বেশি সংখ্যালঘু তোষণেই নির্বাচনে খারাপ অবস্থা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। শুক্রবার রাতে করা তার ট্যুইট পুরোদস্তুর কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে সামনে রেখে। তসলিমার বক্তব্যে স্পষ্ট সংখ্যালঘু, সংখ্যাগুরু রাজনৈতিক মেরুকরণের কথা। তিনি মনে করছেন মেরুকরণের ধারা পশ্চিমবাংলায় চলছে। বরাবরই সোজাসুজি কথা বলেন বিখ্যাত লেখিকা। এবারও তার অন্যথা হয়নি। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা এতদিনে জেনে গিয়েছি যে, শুধুমাত্র মুসলিমদের সন্তুষ্ট করে সবসময় নির্বাচনে জেতা যায় না। এই বিষয় এবং ধারনা যদি মুছে গিয়েই থাকে, তাহলে হয় তো আমাকে কলকাতা প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হতো না।’ কলকাতা ২৪।

এই লেখার মাধ্যমে তসলিমার প্রথম আক্রমণ যেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই। কারণ একের পর এক ইস্যুতে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত সংখ্যালঘু ভোট পাওয়ার প্রচেষ্টার অভিযোগ এনেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। সেদিক থেকে তসলিমা নিজে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হলেও তিনি নিজেকে সব সময়েই সংখ্যালঘু গুরু এই মেরুকরণের বাইরে রেখেছেন। মুক্তকণ্ঠে তিনি বলতে চেয়েছেন মনের কথা।

মুসলিম সম্প্রদায়ের হয়েও সম সম্প্রদায়েরর হাতেই তার অত্যাচারিত হওয়ার কথা সব সময় তার লেখায় ফুটে উঠেছে। লেখায় বারবার স্পষ্ট হয়েছে। মহিলা হয়েও মহিলার লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে পশ্চিম বঙ্গে এসেও তাকে বাধা পেতে হয়েছে। তার প্রিয় শহর কলকাতাতেও তিনি থাকতে পারেননি।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের আসন সংখ্যা ২০১৪সালের ৩৪ থেকে কমে ২২টিতে এসে ঠেকেছে। তসলিমা যেন তার ওই পোস্টে বলতে চেয়েছেন যে, মুসলিমদের এতো সুযোগ সুবিধা দিয়েও মানুষের ভালোবাসা পাওয়া গেল না। ভোট পাওয়া গেল না। সবধর্মের মানুষকে সমান চোখে দেখা হয়নি বলেই তৃণমূলের এই ভরাডুবি হয়েছে বলে ইঙ্গিত তসলিমার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেকটি নির্বাচনী সভায় গিয়ে সর্বধর্মের প্রতি তার সহাবস্থানের কথা বলেছেন কিন্তু তসলিমা মনে করছেন আদৌ সেটা হয়নি। তাঁর দাবি, সর্বধর্ম এবং সেক্যুলার ভাবনা যদি বিরাজ করত এই রাজ্যে তাহলে তাঁকে তাঁর প্রিয় শহর কলকাতায় প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হতো না।

প্রসঙ্গত এই ট্যুইটের পিছনে তসলিমার খোঁচা দিয়েছেন বামকেও। কারণ সেই সময় থেকেই তিনি কলকাতায় বারংবার বাধা পেয়েছেন। এবারের লোকসভা নির্বাচনে তাঁর টার্গেটের একজনের আসন সংখ্যা প্রচুর কমে গিয়েছে, অপর দল বামেদের আসন সংখ্যা শূন্য।

পিছনে ফিরে দেখলেই তসলিমার বক্তব্যের সঙ্গে মিল স্পষ্ট হয়ে যাবে। তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে বিক্ষোভ সামাল দিতে সেনা তলব এবং পত্রপাঠ তসলিমা বিদায় ২০০৭-এর ঘটনা। তখন রাজ্যে বামেরা। আরও পিছিয়ে ২০০৩ সালের ২৮ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ করা হয় তসলিমার লেখা বই ‘দ্বিখ-িত।’ ২০০৮ সালের ১৯ মার্চ তসলিমা ভারত ছাড়তে বাধ্য হন।

এরপর মমতা-জমানায় কলকাতা বইমেলায় তসলিমার সেই বিখ্যাত ‘নির্বাসন’-বই প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি। ২০১২ সালের কলকাতা বইমেলায় ‘নির্বাসন’ প্রকাশ হওয়ার কথা থাকলেও পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের নির্দেশে তা বাতিল হয়ে যায়। তারপর থেকেই বারংবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বামেদের প্রতি নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন তসলিমা। এবারও তার অন্যথা হল না। সম্পাদনা : কায়কোবাদ মিলন

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]homoy.com