অনলাইনে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট কিনতে চরম ভোগান্তিতে যাত্রীরা

আমাদের নতুন সময় : 26/05/2019

তাপসী রাবেয়া : কাউন্টারে সুদীর্ঘ লাইন, অনলাইনে সার্ভার সমস্যা ও মোবাইল ফোনে ব্যর্থ ‘রেল সেবা’ অ্যাপ দিয়েই চলছে ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় ঢাকার কমলাপুর, বিমানবন্দর, বনানী, তেজগাঁও ও ফুলবাড়িয়া স্টেশন থেকে একযোগে শুরু হয় অগ্রিম টিকেট বিক্রি। একই সময়  শুরু হয় অনলাইন, এসএমএস ও সেলফোন অ্যাপে বিক্রিও।

২০১২ সালে ট্রেনে ই টিকেটিং এর ব্যবস্থা চালু হলেও দীর্ঘ সাত বছরে এ সেবা কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে নি। এবছর ৫০ শতাংশ টিকেট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, তবে তা পেতে চরম বিড়ম্বনা আর ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে যাত্রীদের। গতকাল দেয়া হয় ৩ জুনের টিকেট।

শনিবার সকালে কমলাপুর স্টেশনে লাইনে দাঁড়ানো তাজবিউল হাসান বলেন, অনলাইনে দুইদিন চেষ্টা করেছি। না পেয়ে গাজীপুর থেকে কমলাপুর এসে টিকেট সংগ্রহ করতে লাইনে দাঁড়িয়েছি। পঞ্চগড়েরর টিকেট প্রত্যাশী মনিরুজ্জামান বলেন, মোবাইল ফোনে রেল সেবা আ্যাপটি ইন্সটল ই করা যায় নি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ডেইলি স্টার পত্রিকার সাংবাদিক অধরা মাধুরী পরমা জানান, অনলাইনে অ্যাপস বাটন ক্লিক করলে শুধু সার্কেল হয় কিন্তু অ্যাপস ওপেন হয় না। তিনি বলেন, শুধু অনলাইনে রেল সেবা অ্যাপটি কাজ করে না।

রাজশাহীর আরেক যাত্রী পারিজাত বলেন, অনলাইনে টিকেট বুকিং দিতে না পেরে ই-কর্মাস ব্যবসায়ীর মাধ্যমে টিকেট কিনতে চাইলে ১৩শ টাকার টিকেট ৫০০০ টাকা দাবি করা হয়।

তারাবির নামাজ পড়ে মগবাজারের বাসিন্দা আব্দুস শহিদ কমলাপুরে এসেছেন। তিনি বলেন, প্রতিটি লাইনে ৩০০ মানুষ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কাওসার আহমেদ স্টেশনে চলে আসেন শুক্রবার মধ্যরাতে।  ১৩ নম্বর কাউন্টারে প্রথম ২০ জনের মধ্যেই দাঁড়ানোর সুযোগ পান কাওসার। তিনি বলেন, অনলাইনে টিকেট কাটতে পারব কিনা, তা নিয়ে সংশয়ে ছিলাম। তাই ঝুঁকি না নিয়ে কাউন্টারে এসেছি।

যাত্রীদের অভিযোগ কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন হলেও টিকেট পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু অনলাইন বা সেলফোন আ্যাপে টিকিট কেনার আশা এবার ব্যর্থ হয়েছে।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ফাতিউস ফাহমিদ। তিনি বলেন, ওয়েবসাইটে শুরুতে লগইনই করতে পারছিলাম না। ঘণ্টাখানেক পর যখন লগইন হলো, তখন দেখি সিট সিলেকশন আর হয় না। খালি ঘোরে। টিকিট বিক্রির সেলফোন অ্যাপ রেল সেবায় তো ঢুকতেই পারিনি।

মোফাজ্জল নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা খুলনার চিত্রা এক্সপ্রেসের ১ জুনের টিকিটের জন্য তার বাসায় কম্পিউটারে দীর্ঘ সময় ধরে অনলাইনে টিকেট কাটার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বলেন, ‘অনেকবার চেষ্টা করেও অনলাইনে টিকিট কিনতে পারিনি। এজন্য কমলাপুর চলে আসি। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে কাংক্ষিত টিকেট হাতে পাই। শনিবার ৩ জুনের টিকেট বিক্রি করা হলেও কোন স্টেশন থেকে কোন অঞ্চলের টিকেট বিক্রি হবে তার নির্দেশনা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। যাত্রীসেবার মান বাড়াতে এ বছরই প্রথম কমলাপুর, বিমানবন্দর, বনানী, তেজগাঁও এবং গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়ায় টিকেট বিক্রি কার্যক্রম সম্প্রসারিত করা হলেও পর্যাপ্ত প্রচার না থাকায় তা ভোগান্তির কারণ হয়েছে বলে অভিযোগ যাত্রীদের।

সার্ভারে ত্রুটি, বিক্রি শুরুর আগেই টিকেট শেষ, টিকিট না দিয়েই টাকা কেটে রাখাসহ সংকটে পড়েছে যাত্রীরা। এসব বিষয় স্বীকার করে নিয়েছেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। তিনি জানান, ২০০৭ থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাজ করছে কম্পিউটার  নেটওয়ার্ক সিস্টেম (সিএনএস) লিমিটেড বাংলাদেশ। এবছর সেপ্টেম্বরের পর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে কাজ না করার ঘোষণাও দিয়েছে রেল মন্ত্রনালয়। এসব বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সিএনএস কর্তৃপক্ষ নিজেদের দোষ এড়িয়ে যান। বলেন, একই সময়ে ২০ হাজার একসেস দেয়া সম্ভব। কিন্তু বাংলাদেশে একই সময়ে দেড় থেকে দুই লাখ একসেস ইন করে। ফলে সংকট তৈরী হয়।

উল্লেখ্য, আজ ২৬ মে ৪ জুনের টিকেট বিক্রি করা হবে। আর ২৯ মে ৭ জুনের, ৩০ মে ৮ জুনের, ৩১ মে ৯ জুনের, ১ জুন ১০ জুনের এবং ২ জুন ১১ জুনের ফিরতি টিকেট রাজশাহী, খুলনা, রংপুর, দিনাজপুর ও লালমনিরহাট রেলওয়ে স্টেশন থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় বিক্রি করা হবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]