• প্রচ্ছদ » » দরিদ্রদের ঈদ উদ্যাপন : বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ


দরিদ্রদের ঈদ উদ্যাপন : বিত্তবানদের দৃষ্টি আকর্ষণ

আমাদের নতুন সময় : 26/05/2019

প্রফেসর ড. এম. শাহ্ নওয়াজ আলি

ঈদ আসন্ন। খুব বেশিদিন আর নেই। একমাস সিয়াম সাধনার পর আমরা ঈদ উদ্যাপন করবো। এ সময়ে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য কতোটুকু লাভ করতে পারবো তা নির্ভর করছে যার যার এবাদত-বন্দেগীর উপর। যে যতোটুকু এবাদত করছি সে অনুযায়ী প্রাপ্য দেবেন মহান প্রভু, এটা আমরা বিশ্বাস করি। আমরা আমাদের চেষ্টা করে যাবো কাজের মধ্য দিয়ে। তিনি মহান, আমাদের তিনি করুণা করবেন নিশ্চয়ই।
ঈদ আসে সাম্যের ডাক নিয়ে। যেখানে ধনী-দরিদ্র বলে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না। সবাই মিলেমিশে আনন্দ করবো। ঈদের দিনটি কাটাবো। আমরা হয়তো এমনটি মুখে মুখে বলি, কিন্তু বাস্তবে কি তা খুব একটা দেখা যায়? খুবই কম। আমরা ইফতার করি বহু কিছু দিয়ে, অসহায় দরিদ্ররা হয়তো নিয়মিত খেতেই পায় না। ইফতার বিলাসিতা করার সুযোগ তো দূরের স্বপ্ন। এটা সত্য আমরা এগিয়েছি, অর্থনৈতিকভাবে আমাদের অগ্রগতি বিস্ময়কর। আমাদের অনুসরণ করে বিশ্বের বহু দেশ। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এখনো আমাদের এখানে দরিদ্র মানুষ আছে। এখনো ক্ষুধার জ্বালা পোহাতে হয়। এটা হচ্ছে কেন? বৈষম্য এখনও আমাদের সমাজে বিরাজমান। আমাদের যাদের টাকাপয়াস আছে, তার আরও হয়। যার নেই, তার হয়ই না। অথচ হওয়ার কথা উল্টোটি। যার নেই, তার আর্থিক সামর্থ্য বাড়ার কথা। গরিব মানুষ হয়তো সামর্থ্যবান হয়, তবে সেটা খুব ধীরগতিতে। অনেক ক্ষেত্রে অনেকেরই কিছু হয় না। কোনো পথ খোঁজে পায় না। পেলেও ন্যায্য পাওনা পায় না। যার ফলে পিছিয়ে থাকে তারা।
আমাদের যারা প্রবাসে আছেন তারা হয়তো উঠে আসার চেষ্টা করছেন। শ্রম ও ঘামে আর্থিক দৈন্য দূর করার প্রয়াসের ফল আমরা দেখি গ্রামে গেলে। পরিবর্তন অনেক। তবে আবার অনেক কিছুই এখনো অপরিবর্তিত আছে। আমার কৃষক ভাই, আমাদের দিনমজুর তার প্রাত্যহিক কাজ করেও সচ্ছলতা অর্জন করতে পারছেন না। দিনে আনে দিন খায় অবস্থা। তারাও হয়তো চালিয়ে নেয়। কিন্তু তারা একেবারে হতদরিদ্র মানুষ, তাদের কি অবস্থা? যাদের ঠাঁই হয় রেললাইনের বস্তি, রাস্তার পাশে কিংবা বিভিন্ন অনাথ জীবনযাপন করে। তাদের অবস্থার পরিবর্তন হয় না বললেই চলে। কারণ তাদের পাশে কি আমরা থাকছি প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিয়ে? তাদের পড়ালেখা নেই বললেই চলে। কীভাবে হবে পড়ালেখা ক্ষুধার জ্বালা যেখানে বড়, সেখানে পড়ালেখা তো অনর্থক। এসব জায়গায় সরকার কাজ করছে। কিন্তু সবখানে পৌঁছাচ্ছে কি সরকারি সুবিধা? সমাজকে পাশে দাঁড়াতে হবে তাদের।
বলছিলাম ঈদ উদ্যাপনের কথা। বলছিলাম, দরিদ্রদের অসহায়ত্বের কথা। দারিদ্র্যতা সম্পূর্ণ দূর হলে হয়তো আজকে লিখতে হতো না ঈদে দরিদ্রদের কি হবে। ধনীরা যে নতুন নতুন জামা-কাপড় কিনবে, দরিদ্ররা অসহায়ে মুখ লুকাবে আড়ালে। সব দরিদ্র মানুষ যে সহযোগিতার জন্য ধনীদের কাছে, সহযোগিতা চায় বিষয়টি সত্য নয়। সবখানে সব জায়গায় তাদের অনেকের মধ্যেই দেখা যায় প্রবল ব্যক্তিত্বের প্রকাশ। দরিদ্র হলেও ব্যক্তিত্ববান। সহজে কারও কাছে বিকিয়ে দেয় না, যায় না কারও কাছে। কষ্টে দিনযাপন করে বা ঈদ পালন করলেও মাথা নোয়াবার নয়। এখানেই বাঙালি জাতির দৃঢ় চরিত্রের উন্মোচন ঘটে। দৃঢ়তার কাছে সব প্রতিক‚লতা পরাজিত হয়, এখানেই এ জাতির বিশেষত্ব।
সব কথার সারমর্ম… দরিদ্র-অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে হবে আমাদের। রাষ্ট্র একা পারবে না, আমাদেরও এগিয়ে আসতে হবে। দরিদ্র মানুষেরা সহযোগিতা চাইবে না, অথবা চাইবে… তবে কিছু চাওয়ার আগেই আমাদের তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। শুধু ঈদ উদ্যাপনেই নয়, সবসময় সবখানে তাদের উঠে আসতে সহযোগিতা করতে হবে। সবার সহযোগিতায় পিছিয়ে পড়া মানুষদের দৃঢ় পদচারণ দৃশ্যমান হোক। অঙ্গীকার হোক বৈষম্যহীন সমাজ বাস্তবায়ন করবোই। চাইলেই তা সম্ভব। আর্থিকভাবে সামর্থ্যবানদের সুদৃষ্টিতেই বৈষম্যহীন প্রাণবন্ত বাংলাদেশ আমরা পেতে পারি। ঈদ উৎসবে একাত্ম হয়েই শুরু হোক বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা।লেখক : সদস্য, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]