দেশের ৫ কোটি লোক থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দাবি

আমাদের নতুন সময় : 26/05/2019

তাপসী রাবেয়া : বিশ্ব থাইরয়েড দিবস উপলক্ষ্যে রাজধানীর বারডেম হাসপাতাল মিলনায়তনে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করে থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটি। থাইরয়েড বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দাবি করেছেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার ৩০ শতাংশের কাছাকাছি মানুষ বিভিন্ন ধরনের থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্ত। সে হিসাবে, দেশের ৫ কোটি মানুষ এ সমস্যায় ভুগছেন। এদের মধ্যে ৩ কোটি মানুষই এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার কথা জানেন না ও তাদের বেশিরভাগই গ্রামে বসবাস করেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের দাবি,  বিপুল সংখ্যক মানুষ এ সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার পরও নীতি-নির্ধারক, চিকিৎসা সেবাদানকারী ও চিকিৎসাগ্রহণকারী সবার মধ্যেই রোগগুলো সম্পর্কে সচেতনতা, উদ্যোগ ও পদক্ষেপের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে আক্রান্ত হওয়ার আগেই এটি প্রতিরোধ সম্ভব বলেও মনে করেন তারা।

বাংলাদেশকে আয়রন ঘাটতির অঞ্চল উল্লেখ করে তারা বলেন, এ ভূখন্ডে প্রচুর পরিমাণে আয়রন ঘাটতি থাকার পরও মাত্র ১৫০ জন এন্ডোক্রাইনোলজিস্ট রয়েছেন। অথচ আয়রন ঘাটতির ফলে থাইরয়েড সমস্যার মতো মারাত্মক সব রোগের প্রকোপ দেখা দিচ্ছে। এ সম্পর্কে জনগণ খুব বেশি জানেও না। এ কারণে নন-কমিউনিকেবল ডিজিজের তালিকায় দ্রুত থাইরয়েড সম্পর্কিত রোগগুলোকে সংযুক্ত করা ও উন্নতমানের ল্যাব প্রতিষ্ঠার দাবি জানান তারা।  চিকিৎসকরা বলেন, বর্তমানে দেশের মানুষের শরীরে অতিরিক্ত অ্যান্টিবডির সংখ্যা ব্যাপক হাওে বেড়ে গেছে। এটা ক্ষতিকর। থাইরয়েডজনিত সমস্যা বিশ্বের এক নম্বর রোগ। এ রোগ প্রতিরোধ কিংবা চিকিৎসার ক্ষেত্রে জনসচেতনতাই মুখ্য। থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি নিঃসৃত হওয়া উভয়ই নানান রোগের সৃষ্টি করে।। তাই বিয়ের ও গর্ভধারণের আগে নারীদের অবশ্যই থাইরয়েড পরীক্ষা ও এ রোগের সম্ভাবনা থাকলে যথাযথ চিকিৎসা পদ্ধতি গ্রহণ করে তারপর গর্ভধারণ করা উচিৎ। নাহলে, বাচ্চাও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। থাইরয়েড রোগের সুনির্দিষ্ট কোনো লক্ষণ না থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। একজন পুরুষের বিপরীতে ১০জন নারী থাইরয়েড রোগে আক্রান্ত।

দেশে থাইরয়েড রোগের পরিস্থিতি সম্পর্কে চিকিৎসকরা বলেন, বাংলাদেশে সবধরনের থাইরয়েড সমস্যা একসঙ্গে হিসাব করলে, তা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশের কাছাকাছি হবে। ভারতের অবস্থাও অনেকটা এমনই। প্রাপ্তবয়স্ক নারীদের প্রাায় ২ শতাংশ ও পুরুষদের প্রায় ০.২ শতাংশ হাইপারথাইরয়েডিজম (থাইরয়েড ও হরমোনের বৃদ্ধিজনিত সমস্যা) রোগে ভোগেন। ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। বাংলাদেশ এন্ডোক্রাইন সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. ফারুক পাঠানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন  বারডেম হাসপাতালের ডিরেক্টর জেনারেল অধ্যাপক ডা. জাফর এ লতিফ।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]