• প্রচ্ছদ » » ধান কাটা কৃষকের কাজ, ছাত্রের নয়


ধান কাটা কৃষকের কাজ, ছাত্রের নয়

আমাদের নতুন সময় : 26/05/2019

শাহীন কামাল

কৃষিনির্ভর দেশের কৃষকদের সিংহভাগই কৃষি শ্রমিক। হিসাবের খাতায় আমরা দেশের জনসংখ্যার ৮০ শতাংশকেই কৃষক বলি সত্যি মূলত তাদের বেশিরভাগ অন্যের জমিতে কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। এখন তাদের কাজ যদি ধরে নেই অন্যের দ্বারা সম্পন্ন হবে তবে তারা কি হঠাৎ করে কর্মহীন হয়ে যাবে না! ধানের মূল্য কমে যাওয়ার সংবাদে দেশজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। দেশের মূল জীবিকা শক্তি কৃষকরা যদি স্বীয় পেশায় হতাশ হয়ে মুখ ফিরিয়ে নেন তবে এ বড় হতাশার সংবাদ। ধানক্ষেতে আগুন দেয়ার সংবাদে গণমাধ্যমসহ দেশের সব মানুষকে হকচকিয়ে দিয়েছে। নড়েচড়ে বসেছে পুরো দেশ। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার উত্তম পন্থা কার্যকর উপায় খুঁজে বের করা। দেশের যেকোনো অনিবার্য বাস্তবতায় শিক্ষার্থীরা মানুষের পাশে দাঁড়াবে, এ ইতিহাস আমাদের বেশ সমৃদ্ধ। প্রাকৃতিক দুর্যোগসহ নানাবিধ অতীত প্রয়োজনে শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ ইতিহাসের পাতায় চিরকাল আলো ছড়াবে। ইদানীংকালে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো ছাত্রদের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কিন্তু এই যে ছাত্রদের ধান কাটা কৃষকের কোনো উপকারে আসবে কি? নাকি লাভের চেয়ে তাদের লোকসানের পাল্লা ভারি করবে? ছাত্ররা কি কৃষকের মতো দায়িত্ব নিয়ে পরম মমতায় সবটুকু ধান কাটতে পারবে? আদৌ তাদের দ্বারা সম্ভব কিনা? ছাত্রদের বিরাট অংশ কৃষক পরিবারের। এখানে তাদের আবেগ কিংবা বাস্তবতা থাকছে সত্যি, কিন্তু কার্য সমাপনের যে কোনো অভিজ্ঞতা নেই, সেই সত্য এড়িয়ে যাবে কীভাবে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় কৃষকের কাজ ছাত্ররা এতো সহজেই করে দিতে পারবে তা ভাবা কতোটুকু যুক্তিযুক্ত। তাছাড়া বহুসংখ্যক কৃষি শ্রমিক যে বেকার হচ্ছে, সেদিকে কি ভাবতে হবে না। অন্য কেউ ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দেয়া সমাধান নয়। ধানের ন্যায্যমূল্য নির্ধারণে কার্যকর ভ‚মিকাই হতে পারে সমস্যা সমাধানে উত্তম পন্থা। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ধান কেনার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের মনোযোগ আকর্ষণ করা যেতে পারে। ব্যবসায়ী যদি এ ধারণায় আসতে পারে যে, ধান সংরক্ষণে মুনাফা আসবে, তবে এক্ষেত্রে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ী তৈরি হবে। মিল মালিকরা লাভের আশা দেখতে পেলে এক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবে। বাজারে পণ্যের বিক্রি না বাড়াতে পারলে মূল্য বৃদ্ধির কোনো সম্ভাবনা নেই। বিদেশ থেকে চাল আমদানির ঘটনা কাকতালীয় হলেও এ সময় কাটা ঘায়ে নুনের ছিটার মতো। চাল আমদানি নিরুৎসাহিত করে রপ্তানির চিন্তা করা যেতে পারে। কৃষককে মানাবে ফসলে সমৃদ্ধ মাঠে আর ছাত্রদের নিয়মিত পাঠে। এর ব্যত্যয় হলে লোক দেখানো হতে পারে, এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠবে, কিন্তু কাজের কাজ কিছু হবে না।লেখক : শিক্ষক ও সাংবাদিক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]