পিরিয়ডের কথা

আমাদের নতুন সময় : 26/05/2019

রাহুল আফ্রীদি

পৃথিবীর সব ছেলেরা একবার, মাত্র একবার যদি পিরিয়ডের তিন দিনের যন্ত্রণা ভোগ করতো তাহলে মেয়েরা নিত্যদিনের বেঁচে থাকা আর একটু অপমানের হাত থেকে রেহাই পেতো…! ‘যদি বুঝতো তলপেট চেপে ধরে শরীর উল্টানো ব্যথার কান্না কতোটা ভয়ংকর তাহলে খুড়িয়ে হাঁটতে দেখে মুচকি হাসি দিতো না। হাতটা ধরে রাস্তা পার করে দিতো।’ যদি টের পেতো কি সাংঘাতিক কষ্ট নিয়ে একটা মেয়ে মাসচক্রের এই পাঁচ-ছয় দিনের সময়টা পার করে! চিটচিটে, গা ঘিনঘিনে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা নিয়ে ক্লাস, অফিস, সংসার, মাটিকাটা, ইটভাঙা,সবকিছু রুটিন মেনেই করে যায়।তাহলে অন্তত এটাকে নিয়ে উপহাস করতো না।
‘কালচে রক্তের ছাপ শাড়িতে, কামিজে, প্যান্টে দেখলেই খুব মজা লাগে। হেসে গড়াগড়ি খেয়ে এ ওর গায়ে পড়ে বলতে শুনেছি মামা তোর কি মাসিক চলতেছে? আজকে কয় দিন…? কিন্তু একটাবারো ভেবে দেখে না এই সময়টা আসে বলেই, এই কষ্টটা হয় বলেই কিন্তু আমাদের মতো সন্তানদের জন্ম হয়। আর আমরাই এটাকে হাসির খোরাক বানায়। কোনো দোকান থেকে ন্যাপকিন বা প্যাড কিনতে দেখলেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা বলে উঠে,পাউরুটির প্যাকেট নাকি ওটা, বলেই অট্টহাসিতে গড়িয়ে পড়ে। কিন্তু একটাবার যদি বুঝতো ওই পাউরুটির মতো ন্যাপকিন বা প্যাডটা ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের কতোটা বিরক্তিকর অবস্থার ভেতর দিয়ে কাটাতে হয়।
‘একটা মেয়েকে ন্যাপকিন কিনতে দেখে মজা করছেন তো মাত্র দুই ঘণ্টা একটা ন্যাপকিন আন্ডারওয়ারে লাগিয়ে বাইর দিয়ে হেঁটে আসলেই বোঝা যেতো সে কতো বড় বাঘের বাচ্চা। আমার বড় মায়ের পিরিয়ড হয়েছে বলেই আমার নানীর জন্ম, আমার নানীর পিরিয়ড হয়েছে বলেই আমার মায়ের জন্ম, আমার মায়ের পিরিয়ড হয়েছে বলেই আমার জন্ম। এটা চক্র! এটাকে নিয়ে ঠাট্টা বা উপহাস করার মতো কোনো বিষয় নয়। সবশেষে পুরুষ হয়েও একটা কথাই বলতে চাই…। একজন নারী যে পরিমাণ শারীরিক কষ্ট বা যন্ত্রণা ভোগ করে থাকে তার অর্ধেকটা যদি কোনো পুরুষ পেতো তবে বেঁচে থাকার নামও মুখে নিতো না আর। তাই এটাকে নিয়ে হাসিঠাট্টা না করে তাদের দিকে সাহায্যের হাত এগিয়ে দিন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]