কেমন টিম-মেট গড়লেন মোদী?

আমাদের নতুন সময় : 02/06/2019

বিভুরঞ্জন সরকার : নির্বাচনে বিপুল বিজয়ের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন নরেন্দ্র মোদী। ৫৮ সদস্যের এই মন্ত্রিসভার সদস্যদের গড় বয়স ৬০। মোদীর গত মন্ত্রিসভার সদস্যদের গড় বয়স ছিলো ৬২। এবার  সবচেয়ে কম বয়সী মন্ত্রী হলেন স্মৃতি ইরানী, তার বয়স ৪৩ বছর। সবচেয়ে বেশি বয়সের মন্ত্রী হয়েছেন রাম বিলাস পাসোয়ান। তার বয়স ৭৩। গত মন্ত্রিসভার উল্লেখযোগ্য দুইজন সদস্য অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি (৬৬) এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ (৬৭) এবার মন্ত্রিসভায় নেই। অরুণ জেটলি নিজেই তার অসুস্থতার কারণে মন্ত্রিসভায় না থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছিলেন। সুষমা স্বরাজও শারীরিকভাবে অসুস্থ। তবে এই দুজনকে নিয়ে  মোদী সন্তুষ্ট ছিলেন বলেই জানা যায়। তাদের কর্মদক্ষতা নিয়ে কোনো প্রশ্ন বা সমালোচনা ছিলো না।

এবার মন্ত্রিসভায় নবীন-প্রবীণ মিলিয়ে যারা ঠাঁই পেয়েছেন তাদের ব্যাপারে মোদী আশাবাদী বলেই হয়তো তাদের টিম সদস্য হিসেবে বেছে নিয়েছেন। চারটি মন্ত্রণালয়কে ভারতে সবচেয়ে গুরুত্ব দেয়া হয়। কেবিনেটে তারা ‘বিগ ফোর’ হিসেবে পরিচিত। প্রধানমন্ত্রীসহ বিগ ফোরের সদস্যদের নিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠিত। এবার এই বিগ ফোরে আছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতরমণ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ যে এবার মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হবেন সেটা প্রায় সবারই জানা ছিলো। বিজেপির এবারের নির্বাচন জয়ের অন্যতম কারিগর অমিত শাহ। নরেন্দ্র মোদী- অমিত শাহ জুটি বিজেপিকে দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আনতে জাদুকরী প্রভাব রেখেছেন বলে মনে করা হয়। অমিত শাহ মন্ত্রিসভায় যুক্ত হওয়ায় বিজেপির সভাপতি পদে পরিবর্তন আসবে। বিজেপির নীতি হলো- এক নেতা, এক পদ।

মন্ত্রিসভায় বড় চমক হলো পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব এস জয়শঙ্করের নিয্ুিক্ত। মন্ত্রী হিসেবে তিনি কোনোভাবেই আলোচনায় ছিলেন না। তিনি লোকসভা নির্বাচনেও প্রার্থী হননি। এখন মন্ত্রী হওয়ায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে তাকে লোকসভা বা রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে আসতে হবে। সুষমা স্বরাজের মতো দক্ষ ও বিচক্ষণ মন্ত্রীর শূন্যস্থানে এস জয়শঙ্করকে পছন্দ করে মোদী তার পরবর্তী কূটনৈতিক অবস্থানেরও কিছুটা ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।  চীন, রাশিয়া এবং আমেরিকার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে জয়শঙ্করের। মোদী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল বৈশিষ্ট্য হলো- প্রতিবেশী প্রথম। প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার সাথে সাথে বিশে^র উন্নত ও প্রভাবশালী দেশগুলোর মিত্রতাকেও ভারত গুরুত্ব দিয়ে থাকে। জয়শঙ্কর এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারবেন বলে মনে করা হচ্ছে। গতবারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং এবার প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলির স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন আগের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। তিনি ভারতের প্রথম নারী অর্থমন্ত্রী। অবশ্য ইন্দিরা গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কিছু সময় অর্থমন্ত্রণালয়েরও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আমেথিতে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধীকে পরাজিত করে আলোচনায় এসেছেন স্মৃতি ইরানী। তিনি ‘বিগ ফোরে’ জায়গা পেতে পারেন বলে আলোচনা ছিলো।  তিনি আগের বারও পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন, এবার তার মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা বেড়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে এবার বিজেপি অস্বাভাবিক ভালো ফল করেছে। মমতা ব্যানার্জির মতো জাঁদরেল নেত্রীকে মোকাবেলা করে মাত্র দুটি আসন থেকে ১৮টি  আসন পাওয়া অবশ্যই বিজেপির জন্য বড় অর্জন। আশা করা হয়েছিলো, কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় এবার পশ্চিমবঙ্গের প্রতিনিধিত্ব বাড়বে। পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্ণ মন্ত্রী নেয়া হবে বলে অনেকেই আশা করেছিলেন। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ ভাগে পেয়েছে দুজন প্রতিমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে নরেন্দ্র মোদীর হয়তো আলাদা পরিকল্পনা ও হিসাব- নিকাশ আছে।

মোদীর  মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে বড় চমক প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গী। উড়িষ্যার বালাসোর থেকে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত লোকসভার এই সদস্যকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অর্থবিত্তহীন প্রতাপ সারঙ্গী একটি কর্ণকুটিরে বাস করেন। একটি বাইসাইকেল ছাড়া তার আর কোনো সম্পদ নেই। তিনি সাধু হওয়ার জন্য সংসার ত্যাগী হয়েছিলেন। কিন্তু বেলুড়মঠ থেকে তাকে গৃহেই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছিলো। তিনি সাধু হতে পারেননি কিন্তু নিজেকে মানুষের সেবায় নিয়োজিত করেছেন, রাজনীতিকেই বেছে নিয়েছেন জীবন চলার পাথেয় হিসেবে। সাধু হতে চেয়ে তিনি এবার হয়েছেন মন্ত্রী। তিনি পেয়েছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং পশু পালন দপ্তরের  প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর অন্তত পছন্দের মানুষ  প্রতাপ চন্দ্র সারঙ্গী। মোদীও প্রথম জীবনে সংসার ত্যাগী হতে চেয়ে  শেষপর্যন্ত হয়েছেন রাজনীতিবিদ। সারঙ্গীও তাই।

এখন  দেখার বিষয় ‘টিম-মোদী’ আগামী পাঁচ বছরে ভারতকে কোথায় নিয়ে যায়।

 

লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]