তিনবছর মেয়াদী নতুন ‘আমদানি নীতি’ অনুমোদন

আমাদের নতুন সময় : 02/06/2019

ব্যক্তি  পর্যায়ে সর্বোচ্চ সীমা ১০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য, অনুমতি সাপেক্ষে বেসামরিক বিমান ও হেলিকপ্টার আমদানি করা যাবে

সোহেল রহমান : বিশ্বায়ন ও মুক্তবাজার অর্থনীতির ক্রম বিকাশের ধারায় ব্যবসাবান্ধব নতুন ‘আমদানি নীতি ২০১৮-২০২১’ প্রণয়ন করেছে সরকার। প্রণীত নীতিমালায় বেসামরিক বিমান/হেলিকপ্টার আমদানির বিধান সংযোজনসহ ২১ ক্যাটাগরির পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া শর্ত সাপেক্ষে আমদানি করা যাবে ১২ ক্যাটাগরির পণ্য।

অতি সম্প্রতি ‘অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি’র বৈঠকে তিন বছর মেয়াদী এ নতুন আমদানি নীতি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রসঙ্গত: বিদ্যমান ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০১৫-২০১৮’-এর মেয়াদ গত বছর ৩০ জুন শেষ হয়েছে। কিন্তু নতুন আইন প্রণীত না হওয়ায় বিধান অনুযায়ী সেটিই এতদিন বিদ্যমান ছিল। প্রণীত নতুন নীতিমালার মেয়াদ ২০২১ সালের ৩০ জুন শেষ হবে।

জানা যায়, বিদ্যমান আমদানি নীতিতে বেসামরিক বিমান/হেলিকপ্টার আমদানির কোনো বিধান ছিল না। প্রণীত নতুন আমদানি নীতিতে এটি নতুনভাবে সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতিক্রমে সংশ্লিষ্ট এয়ার নেভিগেশন অর্ডার/সার্কুলার-এর উপযুক্ত ধারা/নিয়মাবলী প্রতিপালন সাপেক্ষে নতুন কিংবা পুরাতন যে কোনো ধরণের এয়ারক্রাফট (এ্যারোপ্লেন/হেলিকপ্টার) এবং এর নতুন কিংবা পুরাতন যন্ত্রাংশ (ইঞ্জিন কিংবা ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, অথবা উভয়েই, এয়ার ক্রাফটের অন্যান্য যন্ত্রাংশ) সংশ্লিষ্ট এইচএস কোড অনুযায়ী আমদানিযোগ্য হবে।’

নতুন আমদানি নীতিতে বিদ্যমান নীতিমালার কিছু কিছু ক্ষেত্রে সংযোজন-বিয়োজন বা সংশোধন করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেÑ বাণিজ্য সহজীকরণের লক্ষ্যে আমদানিকারক, রফতানিকারক ও ইনডেন্টরদের নিবন্ধন ফি ও নবায়ন ফি হ্রাস করা হয়েছে। রফতানি বাণিজ্য সম্প্রসারণে শিল্পখাতের আমদানিকারকদের জন্য নমুনা (স্যাম্পল) আমদানির বার্ষিক মূল্যসীমা ও পরিমাণ বৃদ্ধির পাশাপাশি ব্যাংক কর্তৃক এলসি ইস্যুর তারিখ থেকে জাহাজীকরণের সময়সীমা ১৭ মাস থেকে বাড়িয়ে ২৪ মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। নমুনা ও বিজ্ঞাপন হিসেবে আমদানির ক্ষেত্রে ওষুধ আমদানিকারকরা বিদ্যমান ৩ লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য; সকল আমদানিকারক-ইনডেন্টর ও এজেন্টরা ৩ লাখ টাকার পরিবর্তে ১০ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য; বাংলাদেশে নিয়োজিত বিদেশি প্রস্ততকারকের এজেন্টরা দেড় লাখ টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য এবং উপহার সামগ্রী হিসেবে ব্যক্তি/প্রতিষ্ঠান দেড় লাখ টাকার পরিবর্তে ৫ হাজার ডলারের সমপরিমাণ পণ্য আমদানি করতে পারবে। এছাড়া রফতানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি প্রতি ১২টির পরিবর্তে ১৫টি এবং সর্বোচ্চ ৭০০টি নমুনার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০০টি আমদানি করতে পারবে।

অন্যদিকে আমদানিকারক হিসেবে নিবন্ধিত নন এমন ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে সর্বোচ্চ আমদানি সীমা ৭ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিদ্যমান নীতিমালায় এনজাইমস (ফুড গ্রেড) আমদানির ক্ষেত্রে কোনো পূর্বানুমতির বিধান ছিল না। এখন থেকে এনজাইমস (ফুড গ্রেড) আমদানিতে ‘বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ’-এর পূর্বানুমোদন লাগবে এবং রিসাইকেলকৃত লুব অয়েল ও রিসাইকেলকৃত লুব বেজ অয়েল আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]