পিতার যুদ্ধাপরাধের দায় মোচনে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন হিলদে শ্রাম

আমাদের নতুন সময় : 02/06/2019

আসিফুজ্জামান পৃথিল : হিলদে শ্রাম। একজন জার্মান, একজন রাজনীতিবীদ একজন সমাজসেবী। কিন্তু তার এতোসব পরিচয় হারিয়ে গেছে একটি কলঙ্কময় পরিচয়ের আড়ালে। তিনি এক যুদ্ধাপরাধীর সন্তান। একজন দ-প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী তার বাবা। এই ৮৩ বছর বয়সেও তাকে এই লজ্জা তাড়িয়ে বেড়ায়। বাবার যুদ্ধাপরাধ মোটেও অস্বীকার করেন না শ্রাম। বরং বাবার জন্য লজ্জিত তিনি। কিন্তু পিতৃদায় চাইলেও এড়ানো যায় না। তাই পিতার যুদ্ধাপরাধের দায় শোধে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন হিলদে। তিনি বিশ^জুড়েই আজ ইহুদীদের বন্ধু বলে বিবেচিত।

হিলদে শ্রামের বাবা অ্যালবার্ট স্পির ছিলেন একজন জেষ্ঠ্য নাৎসি নেতা এবং হিটলারের মন্ত্রী। দ্বিতীয় বিশ^যুদ্ধের সময় ছিলেন তিনি গোলাবারুদ এবং যুদ্ধ উৎপাদন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে। হিটলারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে তিনি যুক্ত ছিলেন নানাবিধ যুদ্ধাপরাধের সঙ্গে। নাৎসি জার্মানির পতনের পর স্পিরকে নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনাল ২০ বছরের কারাদ-ের সাজা দেয়। ১৯৪২ সালে মন্ত্রীত্ব পাওয়ার আগে পেশায় স্থপতি স্পির ছিলেন মিউনিখের প্রধান ভবন পরিদর্শক। তিনি এসময় ইহুদী বসতির তালিকা বানিয়েছেন। যে তালিকা ধরে হিটলারের গেস্টাপো ইহুদীদের খুঁজে খুজে কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে প্রেরণ করে। ১৯৪৪ সালে যুদ্ধ বিমান তৈরীর জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেন সিপার। যেখানে যুদ্ধবন্দীদের জোর করে কাজ করানো হতো। দেওয়া হতো না কোন পারিশ্রমিক। তারা ততদিন কাজ করতেন যতদিন মৃত্যু না হয়। নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালে স্পির বলেছিলেন, তিনি জানতেন না, হিটলার এতো বড় পরিসরে মানবতা লঙ্ঘন করছেন। তাই তিনি হিটলারের সঙ্গে ছিলেন। নাৎসী পার্টির অপরাধের বিষয়েও তিনি কিছু জানতেন না বলেও জবানবন্দী দেন।

স্পির এর এই বক্তব্য এতোটাই অবিশ^াস্য খোদ তার কন্যা শ্রাম এই কথা বিশ^াস করেন না। সম্প্রতি সিএনএন এর ক্রিশ্চিয়ান আমানপোরকে দেওয়া এক স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমার বাবা একজন যুদ্ধাপরাধী। তিনি বিষয়টি অস্বীকার করলেও অন্তত আমি তা বিশ^াস করি না। তিনি হিটলারের অতি ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এতোটা ঘনিষ্ঠতার পরেও তিনি কিছু জানতেন না, এরচেয়ে বড় মিথ্যা আর কি হতে পারে। তবে এটিও সত্য আমি আমার বাবাকে ভালোবাসি। তার অপরাধী স্বত্তাকে আমি যতোটা ঘৃণা করি, ব্যক্তি তাকে ততোটাই ভালোবাসি।’ কৈশর থেকেই বাবার অপরাধের জন্য অনুত্তপ্ত হিলদে। তিনি শুরু থেকেই ইহুদী পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করছিলেন। কিশোর বয়সে তিনি একটি মার্কিন বৃত্তি পেয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীর সন্তান হওয়ায় ভিসা পাননি। পরে প্রভাবশালী ইহুদী পরিবারগুলোই তার জন্য সুপারিশ করলে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত বদল করে। তিনি ইহুদিবিদ্বেষ এবং নাৎসী জাতিয়তাবাদ বিরোধী ইউরোপের প্রধান মুখ। ১৯৯৪ সালে তিনি মোসেস মেন্ডালোসেন পুরস্কারে ভূষিত হন। তিনি গ্রীন পার্টির প্রধান নেতার দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দুবার জার্মান হাউজ অব রিপ্রেজেন্টিটিভের সদস্য এবং একবার ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]