অধ্যাপক মমতাজউদ্দিনের প্রতি অন্তিম শ্রদ্ধা

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

বিভুরঞ্জন সরকার

অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদ আর নেই। ২ জুন অপরাহ্নে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ^াস ত্যাগ করেন। বহু গুণের অধিকারি ছিলেন তিনি। পেশাগতভাবে ছিলেন শিক্ষাবিদ, বাংলার অধ্যাপক। এছাড়াও তিনি নাটক লিখতেন, নির্দেশনা দিতেন, অভিনয়ও করতেন। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় এবং হাসিখুশি মানুষ। তার মধ্যে কোনো অহঙ্কার ছিলো না। তিনি ছিলেন অত্যন্ত বিনয়ী। তিনি জ্ঞানী ছিলেন কিন্তু জ্ঞানের বড়াই করতেন না। একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ অসংখ্য সম্মাননা তিনি পেয়েছেন।
মমতাজ স্যারের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় ছিলো। বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে আমি ‘মুক্তকণ্ঠ’ নামে একটি লিটল ম্যাগাজিন বের করতাম। গত শতকের সত্তরের দশকের শেষ দিকে। মুক্তকণ্ঠে স্যারের লেখা ছাপা হয়েছিল। সে সূত্রেই পরিচয়। পরে ঘনিষ্ঠতা। লেখা আনতে গেলে তিনি লেখা হাতে ধরিয়ে বিদায় করে দিতেন না, অনেকক্ষণ কথা বলতেন। চা-সিঙ্গারা খাওয়াতেন। আমি যেহেতু বাংলা সাহিত্যের ছাত্র ছিলাম এবং ছিলাম ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী, স্যার সেটা জানতেন, সেহেতু আমার সঙ্গে তিনি সাহিত্য বিষয়ে যেমন আলোচনা করতেন তেমনি রাজনীতিও বাদ যেতো না। তিনি তার মতামত ব্যক্ত করতেন স্পষ্টভাবে কিন্তু তার মতকে চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতেন না।
বঙ্গবন্ধু-হত্যা পরবর্তী চরম দুঃসময়ে তিনি নানা ঘটনায় আমাদের সঙ্গে ছিলেন। ইতিহাসের পাতা থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার যে ঘৃণ্য অপচেষ্টা শুরু হয়েছিলো মমতাজ স্যার তার তীব্র সমালোচক ছিলেন। ‘সচিত্র সন্ধানী’র ঈদসংখ্যায় আশির দশকের মাঝামাঝি আমার একটি লেখা ছাপা হয়েছিলো ‘বালখিল্য যে তুলনা’ শিরোনামে। লেখাটিতে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে জিয়ার তুলনামূলক আলোচনা যে কতো বড় আহাম্মকি সেটাই আমি তুলে ধরেছিলাম। লেখাটি পড়ে মমতাজ স্যার আমাকে অভিনন্দিত করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নৃশংস হত্যাকা- তাকে বিষাদ আক্রান্ত করেছিলো। তিনি বঙ্গবন্ধুকে অকৃত্রিমভাবে ভালোবাসতেন। সামরিক স্বৈরাচার ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধেও তার স্পষ্ট অবস্থান ছিলো। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে যে ‘জনতার মঞ্চ’ স্থাপিত হয়েছিলো সেখানেও অধ্যাপক মমতাজউদ্দিন আহমেদের উজ্জ্বল উপস্থিতি সবাইকে উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছিলো।
টেলিভিশনে তিনি ছিলেন একজন জনপ্রিয় অভিনেতা। তার অভিনয়ে কোনো কৃত্রিমতা ছিলো না। তিনি বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় নাটকও লিখেছেন। এই মুহূর্তে মনে পড়ছে ‘হৃদয়ঘটিত ব্যাপারস্যাপার’ এবং ‘সাতঘাটের কানাকড়ি’র নাম। তিনি নাটক বিষয়ে কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার দুএকটি রচনা বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যসূচিতেও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
মমতাজউদ্দিনের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৫ বছর। পরিণত বয়সেই তিনি আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। কিন্তু তার এই চলে যাওয়ায় যে শূন্যতা তৈরি হলো তা সহজে পূরণ হবে না। অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনে তাকে স্মরণ করছি, শ্রদ্ধা নিবেদন করছি।
লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]