আওয়ামী লীগের পথের কাঁটা-ছাত্রলীগ

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

বিভুরঞ্জন সরকার

রাজনীতিতে বড় কোনো খবর না থাকলেও ছোট ছোট কিছু ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া রাজনীতির মাঠ কিছুটা সচল রাখছে। আগে ঈদের পরে আন্দোলনের হুমকি থাকতো বিএনপির। এবার তা নেই। দলীয় প্রধানকে কারামুক্ত করে গণতন্ত্রকে মুক্ত করার কথা বিএনপির দু-একজন নেতা বলছেন। কিন্তু তার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ঈদের আগে খালেদা জিয়ার মুক্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার, সরকারের সেক্ষেত্রে কিছুই করার নেই। তাই এবার খালেদা জিয়া ঈদ উদযাপন করবেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায়।
আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঈদও এবার দেশের বাইরে কাটছে। ঈদ উদযাপন নিয়ে বড় কোনো টেনশন নেই সরকারের। ট্রেনের সময়সূচিতে বিপর্যয়ের কারণে ঘরমুখী মানুষের কিছু ভোগান্তি হলেও সড়ক পথে এবার এখন পর্যন্ত বড় কোনো জট বা ঝামেলার খবর নেই। সড়ক ও নৌপথে স্বস্তি থাকলে সরকারকে বিব্রত হতে হবে না। তবে সরকারকে বিব্রত করার জন্য মাঠে আছে সরকারি দলের সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ। আওয়ামী লীগকে অস্বস্তি দেয়ার জন্য যেন পণ করে আছে ছাত্রলীগ।
আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে টানা তিন মেয়াদে। এই সময়কালে নানা সময় ছাত্রলীগের কোনো না কোনো অপরাধমূলক কাজের জন্য লজ্জায় পড়তে হয়েছে সরকারকে, আওয়ামী লীগকে। ছাত্রলীগকে বাগে আনতে বা নিয়ন্ত্রণ করতে আওয়ামী লীগ তথা সরকার সফলতা দেখাতে পারেনি। সরকারের সাফল্যের, উন্নয়নের বেলুন ফুটো করার দায়িত্ব ছাত্রলীগ পালন করে আসছে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। সহকর্মী হত্যা, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দখলদারি, ধর্ষণ- অপহরণসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে ছাত্রলীগের নাম জড়িয়ে গেছে। ফলে একসময়ের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্যবাহী এই ছাত্র সংগঠনটির নাম আর কেউ সপ্রশংসভাবে উচ্চারণ করেন না।
এবার ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়েও কেলেঙ্কারি করেছে। সম্মেলনের প্রায় এক বছর পরে ছাত্রলীগের ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা কর হলেও এই কমিটির বিরুদ্ধে শুরু হয়েছে আন্দোলন। বলা হচ্ছে নানা কারণে ‘বিতর্কিত’ হয়েছেন, এমন অনেকেই এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে ছাত্রলীগের কমিটি পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু পুনর্গঠন কাজটি শেষ হচ্ছে না। বিক্ষুব্ধরা ক্যাম্পাসে কর্মসূচি পালন করছেন।
সর্বশেষ গত ১ জুন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের জানিয়েছেন, ছাত্রলীগের কমিটি গঠন নিয়ে যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে অচিরেই তা মিটে যাবে। বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। সমাধানে আর দেরি নেই।
ছাত্রলীগ সমস্যা থেকে আওয়ামী লীগ মুক্তি পাক, এটা অনেকেই চান। কিন্তু একটি ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনকে কেন জঞ্জালমুক্ত করা যাচ্ছে না। এটাই অনেকের কাছে বোধগম্য নয়। ছাত্রলীগের সংকট শেষ হবে, নাকি শেষ হইয়াও হইবে না শেষ?
লেখক : গ্রুপ যুগ্ম সম্পাদক, আমাদের নতুন সময়




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]