• প্রচ্ছদ » » আগে ছিলাম দারিদ্র্যসীমার নিচে, এখন চরিত্রসীমার নিচে!


আগে ছিলাম দারিদ্র্যসীমার নিচে, এখন চরিত্রসীমার নিচে!

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

এমএএস ইমন

দেশে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের নৈতিকতার অবক্ষয়ও বেড়ে চলছে। মনুষ্যত্ব হারিয়ে পশুত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছি। বলা হয়, আগে ছিলাম দারিদ্র্যসীমার নিচে এখন চরিত্র সীমার নিচে। অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিয়ে ভাবনার পাশাপাশি নৈতিকতার অবক্ষয় নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। কীভাবে এ ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন দূর করা যায়। সুশিক্ষা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ও আইনগতভাবে কঠোর শাস্তিই হতে পারে পরিত্রাণের উপায়। কঠোর শাস্তি বলতে বোঝাচ্ছি ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা মৃত্যুদÐ। এক্ষেত্রে অপরাধীদের প্রতি মানবিকতা বা শৈথিল্যতার সুযোগ নেই। অনেকের মতে, মৃত্যুদÐ হচ্ছে বর্বর আইন। কিন্তু তাদের প্রিয়জন যদি ধর্ষিত হয় তারাও কিন্তু মৃত্যুদÐ দাবি করে। অন্যের ক্ষেত্রে তারা এটাকে বর্বর হিসাবে গণ্য করে।
খেয়াল করে দেখবেন, যে দেশে ধর্ষণ আইনে মৃত্যুদÐ বহাল আছে সেদেশে ধর্ষণের ঘটনা কম। যারা মৃত্যুদÐকে বর্বর বা অমানবিক গণ্য করে তাদের দেশে ধর্ষণের হার বেশি। আমেরিকাতে প্রতিবছর প্রায় তিন লাখ একুশ হাজার নারী ধর্ষণের শিকার হয়। প্রতি ৯৮ সেকেন্ডে একজন আমেরিকান মহিলা ধর্ষিত অথবা সেক্সুয়াল হ্যারাসের মুখে পড়ে। অবস্থা এতোই সংকটজনক যে সেখানে ৬৫+ বছরের বৃদ্ধারাও নির্যাতনের শিকার এবং এই হার শতকরা তিন ভাগ। আর সব থেকে বেশি ধর্ষণের শিকার হয় আঠারো থেকে চৌত্রিশ বছরের নারীরা ( ৫৪ শতাংশ)। বিশ্বের দশটা ধর্ষণ প্রধান দেশের মধ্যে আমেরিকার নাম সবার উপরে।
ভারতে প্রতি বাইশ মিনিটে একটা করে র্ধষণ হয়। সেখানে চব্বিশ হাজার চারশো সত্তরটি কেস শনাক্ত করা হয়েছে যেখানে ভিক্টিম তার পরিবারের সদস্য যেমন পিতা, ভাই, কাজিন, দাদা অথবা পরিচিত কারো দ্বারা নির্যাতনের শিকার। ইউরোপিয়ান দেশগুলোর মধ্যে সুইডেনে ধর্ষণের হার সব থেকে বেশি। সুইডেনে বিগত দশ বছরে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে ৫৮ শতাংশের মতো। এই লিস্টে ইংল্যান্ডের অবস্থান পাঁচ নম্বরে। শুধু ইংল্যান্ডেই প্রতি বছর ধর্ষণ হয় ৮৫ হাজারের মতো। পুরো ইউনাইটেড কিংডমে এ সংখ্যা চার লাখেরও বেশি। কানাডাতে মাত্র ছয় শতাংশ ধর্ষণ কেস পুলিশের খাতায় আসে। বাকিগুলো আসে না। ভিক্টিমদের অবস্থা এতোই করুণ যে তাদের বেশিরভাগই ফিজিক্যালি অক্ষম হয়ে যায়।
জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুসারে শ্রীলঙ্কাতে গ্যাং ধর্ষণ বেশি হয়। ৬৪ শতাংশ ধর্ষক জীবনে একাধিকবার ধর্ষণ করে থাকে। ফ্রান্স এবং জার্মানি প্রযুক্তির দিক দিয়ে এগিয়ে গেলেও ধর্ষণের ক্ষেত্রে আরো বেশি এগিয়েছে। ফ্রান্সে প্রতিবছর ৭৫ হাজার ধর্ষণ হয়। কেস ফাইল হয় মাত্র দশ শতাংশ ক্ষেত্রে। জার্মানিতে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ মহিলা ধর্ষণের কারণে মারা গেছে। ইথিওপিয়ার মতো দেশে ষাট শতাংশ মহিলা ধর্ষণের শিকার! অনেকে মনে করে পতিতাবৃত্তি বৈধ করলে ধর্ষণ কমে যবে।
জার্মানিতে প্রতি দশ হাজার মেয়ের মধ্যে ৪৯ জন সেক্স ওয়ার্কার হিসাবে কাজ করে। আমেরিকাতে শুধু বেশ কয়েকটা প্রদেশেই আছে যেখানে প্রস্টিটিউট বিজনেস বৈধ। উদাহরণ নেভাদা। ভারতে পতিতাবৃত্তি কাগজে-কলমে অবৈধ। অথচ এটার ব্যাপ্তি পুরো ভারতজুড়েই। শুধু মুম্বাই শহরেই প্রায় এক লাখের উপর সেক্স ওয়ার্কার আছে। মুম্বাই হচ্ছে এশিয়ার সব থেকে বড় সেক্স বাজার। কলকাতা শহরে ১১টি রেড লাইট স্পট আছে। পুরো শহরে কাজ করে বিশ হাজার সেক্স ওয়ার্কার। বাংলাদেশে ফিরে আসুন। ঢাকা শহরের ফার্মগেট, সংসদ ভবন এলাকা, কাকরাইলসহ বিভিন্ন জায়গাগুলো মিডল ক্লাস লেভেলের পতিতাদের জন্য প্রসিদ্ধ। এতো উপকরণ থাকার পরও বাংলাদেশে ধর্ষণ হয়। নৈতিকতা স্খলনের জন্য আমরা যদি প্রচুর প্রমাণ ব্রোথেলও করে দিই এরপরও কিন্তু ধর্ষণ কমবে না। নীল ছবির বিজনেস সব থেকে বেশি হয় আমেরিকা, চীন এবং ফিলিপাইনে। থাইল্যান্ডের রাস্তায় রাস্তায় এসবের জন্য বিজ্ঞাপন দেখা যায়।
এতো কিছুর পরও সেই দেশগুলোতে কিন্তু ধর্ষণের হার অনেক বেশি। অর্থাৎ পাবলিক টয়লেটের মতো পাবলিক ব্রোথেল বা পতিতালয় করে দিলে লোকে সেখানে গিয়ে প্রয়োজন মিটিয়ে এসে আবার ধর্ষণ করবে না ,এই কথা নিশ্চিত করে বলা যায় না। অর্থাৎ ব্রোথেল থাকলে ধর্ষণ কমে… এ ধারণাটাই ভুল। আমি যখন লজিকগুলো নিয়ে কাজ করতে শুরু করলাম তখন সামগ্রিক বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নিলাম, ধর্ষণ আচমকা উড়ে এসে জুড়ে বসা কোনো বিপর্যয় নয়। ধীরে ধীরে বিস্তারশীল কুশিক্ষা, সামাজিক মাধ্যমের অপব্যবহার, নীতি-নৈতিকতা অবক্ষয়, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রতি উদাসীনতা, আইনের দুর্বলতার কারণে সামাজিক অবস্থা করুণ পরিণতির দিকে ধবিত হচ্ছে। উপায় হচ্ছে সুশিক্ষা, ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা ও আইনগতভাবে কঠোর শাস্তিই হতে পারে পরিত্রাণের উপায়। কঠোর শাস্তি বলতে বোঝাচ্ছি ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট বা মৃত্যুদÐ। এক্ষেত্রে অপরাধীদের প্রতি মানবিকতা বা শৈথিল্যতার কোনো সুযোগ নেই। সূত্র : মেহেরপুর প্রতিদিন




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান

১৩২৭, তেজগাঁও শিল্প এলাকা (তৃতীয় তলা) ঢাকা ১২০৮, বাংলাদেশ। ( প্রগতির মোড় থেকে উত্তর দিকে)
ই- মেইল : [email protected]