আমি পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যস্থতাকারী হতে চাই না, বললেন অরুন্ধতী রায়

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

সুস্মিতা সিকদার : অরুন্ধতী রায় গার্ডিয়ান পত্রিকার সাংবাদিক গ্রে ইয়াংকে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে রাজনীতি এবং তার লেখালেখি নিয়ে নানা কথা বলেন। অরুন্ধতী ‘গড অব স্মল থিংকস’ বইয়ের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে জনপ্রিয়তার অর্জন করেন। তবে তিনি ভারতীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও লেখালেখি করেন। গার্ডিয়ান
ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার সাম্প্রতিক নির্বাচনে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। এই প্রসঙ্গে টেনে তাকে প্রশ্ন করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় আসছে কি না। এর উত্তরে তিনি বলেন, আমি খুব অল্প কিছু দিন যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি। এখানকার মানুষদেরকে তাকে নিয়ে যতোটা উপহাস করতে দেখি, তাতে মনে হয় তিনি মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন। তাই তার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার স¤া¢বনা রয়েছে। তবে, মোদী এবং ট্রাম্পের প্রেক্ষাপট একেবারেই আলাদা। মোদীর পেছনে রয়েছে ৯৫ বছরের পুরোনো সংগঠন যেখানে ৬ লাখ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করে। দীর্ঘদিন ধরে মানুষ এই সংগঠনের সাথে কাজ করছে। তাই তার পক্ষে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের সমর্থন রয়েছে।
বামপন্থীরা যখন বিপুল সংখ্যক মানুষ নিয়ে বিভিন্ন ইস্যুতে বিক্ষোভ করে তখন সাধারণ মানুষের মনে করে তারা তেমন উল্লেখযোগ্য কিছুই করতে পারে না। গত দুই বছরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হলেও তিনি বহাল তবিয়তে ক্ষমতায় রয়েছেন। এ ধরনের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে অরুন্ধতী বলেন, ভারতে বামপন্থী বলতে কমিউনিস্ট পার্টিকে বোঝায়। আমি মনে করি, বামেদের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হচ্ছে, তারা সমাজের সকল শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছতে পারেনি। আর যুক্তরাষ্ট্রে বামপন্থীদের ব্যর্থতা হচ্ছে তারা বর্ণবাদী মানসিকতা পরিত্যাগ করতে পারেনি। আমার লেখা ‘দ্য গড অব স্মল থিংকস’ বইয়ে বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করেছি। কারণ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষই হচ্ছে ভারতের মূল চালিকা শক্তি।
নির্বাচনে জনগণ অনেক সময় অযোগ্য এবং বিতর্কিত ব্যক্তিকে নির্বাচিত করে থাকে। এক্ষেত্রে রাজনৈতিক শিক্ষার অভাব নাকি রাজনৈতিক এজেন্ডার দুর্বলতা রয়েছে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ২০০২ সালে গুজরাটে দাঙ্গা থেকে অনেক কিছু শিখেছি। তখন ২০০০ মুসলিমকে হত্যা করা হয়। কিন্তু মানুষ সেই ঘটনা ভুলে গেছে। জনগণ বলেছে, এতে কি হয়েছে। এটা তাদের প্রাপ্য ছিলো।
তার ভাবনা চিন্তার সঙ্গে অন্য দেশের মানুষের চিন্তা ভাবনার মিল পান কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার লেখা বই ‘দ্য গড অব স্মল থিংকস’ এ আমি একটি ছোট্ট গ্রামের গল্প বলেছি। যেখানে আমার শৈশব কেটেছে। সেখানে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট সংস্কৃতি। বইটি ৪২টি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে। আমি যখন এস্তোনিয়ায় বেড়াতে গেছি তখন একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, ‘এটা আমার শৈশব, তুমি কিভাবে জানলে?’ এছাড়া আমাকে অনেক বিদেশী ম্যাগাজিন এবং পত্রপত্রিকা জিজ্ঞেস করেছে, আমি কি তাদের জন্য বইটি লিখেছি কি না। আমি একটি বিষয়ে নিশ্চিত করে বলতে চাই, আমি পূর্ব এবং পশ্চিমের মধ্যস্থতাকারী হতে চাই না। আমি আমার ভাষাকে সম্পাদিত করে অন্য ফরম্যাটে বসাতে চাই না। আমি সেভাবেই লিখি, যা আমি লিখতে চাই। সেটা যদি কারো ব্যক্তিজীবনের সাথে মিলে যায় তাহলে ভালো আর যদি কারো সাথে মিলে না যায় তাও ভালো। সম্পাদনা : রেজাউল আহসান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]