একে খন্দকার : মার্জনা কি আসলেই প্রাপ্য আপনার?

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

অজয় দাশগুপ্ত, অস্ট্রেলিয়া থেকে

মিডিয়াজুড়ে ভেসে বেড়াচ্ছে এ কে খন্দকারের মাফ চাওয়ার খবর। এ নিয়ে নতুন করে বলাও আসলে এক ধরনের পাপ। এই ভদ্রলোক আমাদের ইতিহাসের একটি বড় ঘটনার একমাত্র সাক্ষী। আত্মসমপর্ণের ঘটনায় সেদিন কেবল তিনিই এসেছিলেন হাজির ছিলেন আমাদের হয়ে। মেলবোর্ণ এজ পত্রিকার সাংবাদিক ব্রুস উইলসনকে একবার আমি ইন্টারভিউ করেছিলাম। তিনি তখন লন্ডনের এক হাসপাতালে শয্যাশায়ী। জানি না এখনো বেঁচে আছেন কিনা? ভদ্রলোক মুক্তিযুদ্ধের সময় মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে সঙ্গে থাকতেন। কষ্ট করে শ্রম দিয়ে কভার করতেন খবর। তিনি বলছিলেন একে খন্দকার পারেন অনেক বিতর্কের উত্তর দিতে। এই খন্দকারই কিনা মোশতাকের পথ ধরে বেঈমানী করতে ভুল করলেন না। শেষ বয়সে একটি বই লিখে নিজেকে তো বিতর্কিত করলেনই আমাদের ইতিহাসেরও বারোটা বাজানোর সংকেত দিয়ে রাখলেন। কেন তারা এমন করেন কে জানে? এখন তো মনে হয় কোথাও কি কোনো ভুল ছিলো আসলে?
বিচারপতি সাত্তারকে মনে পড়ে? বিএনপি আমলের প্রেসিডেন্ট। মরার আগে বলেছিলেন, ইতিহাস বিকৃতির জন্য দুঃখিত। তাদের আরেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস। জীবনভর অবিশ্বাসের কাজ করলেও শেষ সময় টুঙ্গিপাড়া গিয়ে মাফ চেয়ে বলেছিলেন, ভুল হয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবই স্বাধীনতার মূল নায়ক।
এমনকি মোশতাক, সেই খুনিও বারবার বলতো, তার হাতে নাকি রক্তের কোনো দাগ নেই। এরা সবাই শেষ বয়সে মানসিক রোগী হয়ে গিয়েছিলো। মোশতাক নাকি মলও খেয়ে ফেলতো ভুলে। এবার সে তালিকায় যোগ হলেন একে খন্দকার। অনেক বছর আগে সাংবাদিক ব্রুস উইলসনের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। তখন তিনি বিলেতে শয্যাশায়ী। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ কভার করা মেলবোর্নের এই সাংবাদিক কম করে হলেও তিন-চারবার একে খন্দকারের প্রসঙ্গ টেনে বলেছিলেন, সে বেঁচে থাকতে এতো বিকৃতি হয় কি করে? সে তো ষোলো ডিসেম্বরের জীবন্ত সাক্ষী।
সে খন্দকারও একসময় প্রমাণ করে দিলেন মোশতাকই একমাত্র খন্দকার নয়। আরো আছে। মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারদের নেতা ছিলেন। জিয়ার দূত এরশাদের মন্ত্রী সবসময় ভোগীদের দলে। তারপর আওয়ামী লীগের এমপি এবং মন্ত্রী। পরের দফায় বাদ পড়ার পরই বই লিখে ফেললেন। জানালেন মুক্তিযুদ্ধ নাকি জনযুদ্ধ ছিলো না। সব কৃতিত্ব সেনাদের। বঙ্গবন্ধুর ভাষণের শেষ জিও পাকিস্তান আছে বলার মতোও ধৃষ্টতা দেখালেন। তখন আমরা প্রতিবাদ করলাম, লিখলাম। টনক নড়লো না। চলে যাবার আগে এখন নব্বই বছর বয়সে বউকে সঙ্গে নিয়ে বলাচ্ছেন দোষ নাকি প্রথমার। দায়ী অন্য কেউ। কেউ লিখিয়ে নিলেই আপনি লিখে ফেলবেন? আহা খোকাবাবু যে হাউজ যে লোকগুলোর নাম এসেছে তারা যেমন চলে ডালে ডালে আপনার মতো বেঈমানরাও চলে পাতায় পাতায়।
আহা রে বান্দর। বুড়াকালে ভুল গাছে চড়ে এখন গাছের দোষ দেয়। তার স্ত্রীর ভাষ্যে সাংঘাতিক একটা সত্য আছে। এই যে বললেন তিনি মানসিক রোগী প্রায় উন্মাদ এর মানে বোঝা কঠিন? আবার সময় সুযোগমতো যেন বলা যায়, পাগল বলে তখন মাফ চেয়েছিলেন। আসলে যা লিখেছেন তাই সত্য। আরেকটা কথা, আপনাকে দেখে কি মনে হচ্ছে আপনি পাগল হয়ে গেছেন? জানি না এ কোন অভিশাপ। এ কোন পাপ। এদেশে এই সমাজে ইতিহাসে খন্দকারের দল মীরজাফর হয়েই থেকে যায়।
লেখক : কলামিস্ট ও বিশ^বিদ্যালয় পরীক্ষক




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]notunshomoy.com