কোথায় পাবো তারে?

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

রত্না চক্রবর্তী

যে দিনের পর দিন প্রেমের অভিনয় করে যৌতুকলোভী হয়ে, পরকীয়া হয়ে মনের মানুষটিকে পুড়িয়ে ঝুলিয়ে হত্যা করে, তাকে একটি সুন্দর মনের অধিকারী করতে কোথায় পাবো তাকে, সেই সোনার হরিণ যে মাদককে না বলতে সচেতন করবে, বিভিন্ন দুর্বৃত্তায়ণ… ঘুষ, জমি দখল, জবরদখল, অশিক্ষা, কুশিক্ষা, নারী নির্যাতন, নষ্ট সমাজের বিভিন্ন চিত্র, যার সাহচর্যে এসব দুর্বৃত্তায়ণ ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে একটি সুন্দর শান্তিময় সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে । তখন ছিলো ‘সকালে উঠিয়া আমি মনে মনে বলি, সারাদিন আমি যেন ভালো হয়ে চলি, আদেশ করেন যাহা মোর গুরুজনে, আমি যেন সেই কাজ করি ভালো মনে’। এখন সকালে উঠিয়া কতো দুনম্বরি করা যায়, কাকে চিরকালের জন্য অথর্ব করা যায় তারই ফন্দিফিকির মাথায় ঘুরে । আচ্ছা বলুন তো, কোনো মা-বাবা কি চায় তার সন্তানটি একজন নষ্ট চরিত্রের মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক, কিন্তু তার আশপাশে ভালো থাকার সেই উপাদানগুলো কই ? প্রথমত, যিনি সৎ নন তিনি তার সন্তানকে বুক ফুলিয়ে বলতে পারেন এটা খারাপ করো না! দ্বিতীয়ত, স্কুলগুলোর অবস্থা সারা বাংলাদেশ অবগত । তৃতীয়ত, আমরা যারা সারাদিন সংসারটাকে পাখির বাচ্চার মতো আগলে রেখেও শুধু কড়ি দিতে পারি না বলে বেকার হিসেবে চিহ্নিত যারা তাদের কাজের ফাঁকে একটু মনোরঞ্জনের জন্য একটু টিভি দেখাÑ ওখানেও হতাশ, মাঝে মধ্যে খেলায় জয়ের খবর ছাড়া, শুধু মানববন্ধন আর মারামারি, আর অন্যগুলোতে এক একেকজনকে তিনবার করে বিয়ে, হাসপাতাল জন্মদিন দিয়ে সিরিয়াল শেষ। প্রকৃতি বিভিন্ন প্রাণীদের ভালোবাসা শেখানোর প্রচেষ্টা নেই, তাই বলতেই হয় ‘কোথায় পাবো তারে’। অনেক ভালো লাগার বইয়ের মধ্যে একটা বই ‘ইতি তোমার মা’ এখনো ভুলতে পারিনি, প্রতিটি লাইন মনে রাখার মতো শিক্ষণীয় । আমার লিখাটা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছাবে না, তারপরও আবেদন করছি প্রাইমারি থেকে উচ্চতর, প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনে পুরনো বইয়ের একটি মিনি লাইব্রেরি রাখা বাধ্যতামূলক করা । পুরানো বই দিয়ে শুরু হোক, অভিবাবকরা নিশ্চয়ই এই মহৎ উদ্যোগটি স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে পরিচালিত করবেন। যারা সম্মিলিতভাবে নিজস্ব ফ্ল্যাটে থাকেন, তারা সারি সারি চকচকে গাড়ির পার্কিং লটে নিদেন পক্ষে পুরনো বইয়ের সমন্বয়ে একটি মিনি লাইব্রেরি করতে পারেন। চতুর্থত, বলতে চাই কুসন্তানের মা-বাবা হিসেবে বেঁচে থাকার চেয়ে সন্তানকে জেলে ঢুকিয়ে ইতিহাসে দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই প্রকৃত ধর্ম । সবশেষে বলতেই হয়, সারা বাংলাদেশে সব দলের লাখ লাখ কর্মী আছে বলা হয়, তারা কি সারাজীবন শুধু রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে? ঈদের দিনে বুকে বুক মেলাতে পারলে, সমাজকে উন্নত করার জন্য, দেশের মঙ্গলের জন্য প্রতিটি এলাকার সব দলের কর্মীরা ঈদের দিনের মতো বুকে বুক মিলিয়ে একটি সেবক সংগঠন গড়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে না ? সত্যিকারের কাজ করলে পাঁচ বছর পর এই জনগণই তোমাদের মাথায় করে নিয়ে যথাস্থানে বসিয়ে দেবে । কাউকে মানববন্ধন করতে হবে না, ঘাটে ঘাটে যেসব কর্তা ব্যক্তিরা অনাচার-অবিচারে লিপ্ত, তারা সব গর্তে ঢুকতে বাধ্য! দেশকে সত্যিকারের ভালোবাসলে সবই সম্ভব । আমি এভাবে পাবার স্বপ্ন দেখি তাই শেয়ার করলাম।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]