• প্রচ্ছদ » শেষ পাতা » খাদ্যদ্রব্য আমদানির ক্ষেত্রে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক


খাদ্যদ্রব্য আমদানির ক্ষেত্রে পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

সোহেল রহমান : সকল হাঁস-মুরগী, মাছ ও পশুর খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। তবে মশলা, ওষুধ, কন্সেন্ট্রেটেড এসেন্স, সিগারেট, তামাক ও বিয়ার এসব পণ্য আমদানিতে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। অন্যান্যের মধ্যে হুইস্কিসহ অন্যান্য মদ জাতীয় পানীয় আমদানিতেও তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা এবং পণ্যের মোড়কে মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার তারিখ উল্লেখের প্রয়োজন নেই। এছাড়া মানুষের খাদ্য হিসেবে ‘জেনেটিক্যালি মোডিফাইড অর্গানিজম’ (জিএমও) ও ‘লিভিং মোডিফাইড অর্গানিজম’ (এলএমও) আমদানির ক্ষেত্রে ‘বাংলাদেশ বায়ো-সেইফটি গাইডলাইন্স’ অনুসরণ করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত নতুন ‘আমদানী নীতি ২০১৮-২০২১’-এ এসব কথা বলা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, যে কোনো দেশে উৎপাদিত দুধ, দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য, ভোজ্য তেল ও অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী আমদানির ক্ষেত্রে এগুলোর পারমাণবিক তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। যেসব সবজি, বীজ ও শস্য সরাসরি খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে সেগুলো আমদানির ক্ষেত্রেও এই বিধান প্রযোজ্য হবে। আমদানিকৃত খাদ্যদ্রব্যে নির্ধারিত মাত্রার অধিক তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গেলে কিংবা ‘বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউট’ (বিএসটিআই) নির্ধারিত খাদ্যমানের চেয়ে নি¤œমানের খাদ্যদ্রব্য আমদানি করা হলে তা আমদানিকারকের নিজ খরচে রফতানি উৎস দেশে কিংবা তৃতীয় কোনো দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। খাদ্যদ্রব্য আমদানির ঋণপত্রে এ-সংক্রান্ত শর্ত সংযোজন করতে হবে। ত্রাণসামগ্রী হিসেবে খাদ্যদ্রব্য আমদানি করা হলে খাদ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক পরিচালিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর সেসব খাদ্যদ্রব্য খালাস করা হবে।
আমদানিকৃত দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য বন্দরে পৌঁছবার পর ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন’ কর্তৃক তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার পর সেগুলো ছাড় করা হবে। একই সঙ্গে আমদানিকৃত দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যদ্রব্য যে মেলামাইনমুক্ত এবং যে গাভী থেকে দুধ আহরণ করা হয়েছে সেই গাভীকে ‘এস্ট্রোজেনিক হরমোনস’ এবং ‘হরমোন গ্রোথ প্রোমোটেন্টস ট্রিটমেন্ট’ করা হয়নি এবং ভারী ধাতুর মাত্রা ‘কোডেক্স স্ট্যান্ডার্ড’ অনুযায়ী রয়েছেÑ এসব বিষয়ে রফতানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সনদপত্র লাগবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, সার্কভুক্ত দেশ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশসমূহ থেকে চাল, গম, অন্যান্য খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য আমদানিতে তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষা শিথিলযোগ্য। তবে এক্ষেত্রে আমদানিকৃত এসব খাদ্যশস্য, খাদ্যদ্রব্যের মান ও গুণাগুণ মানুষের উপযোগী এবং সর্ব প্রকার ক্ষতিকর জীবানুমুক্তÑ এই মর্মে রফতানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের সনদপত্র লাগবে।
এছাড়া মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় উৎপাদিত এবং মালয়েশিয়া-ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুর থেকে ‘পাম অয়েল’ ও ‘পাম ওলিন’ আমদানিতে কোনো তেজস্ক্রিয়তা পরীক্ষার প্রয়োজন হবে না। তবে ‘আরবিডি পাম স্টিয়ারিন’-এর বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। ‘বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন’ মাঝে মাঝে বাজার থেকে এসব পণ্যের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করে দেখবে এবং এক্ষেত্রে ক্ষতিকর মাত্রার তেজস্ক্রিয়তা পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে।
আমদানিযোগ্য যেসব খাদ্যদ্রব্য সরাসরি খাওয়া বা পান করা যায় বা প্রক্রিয়াজাত হিসেবে ব্যবহৃত হয় সেসব খাদ্যদ্রব্য আমদানির ক্ষেত্রে সেগুলো কোন্ বয়সের খাওয়ার উপযোগী তা উল্লেখসহ ‘মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর নয়’, ক্ষতিকর কোনো দ্রব্য মিশ্রিত নেই’ এবং ‘সর্ব প্রকার জীবানুমুক্ত’ Ñ মর্মে রফতানিকারক দেশের সনদপত্র লাগবে।
সকল হাঁস-মুরগী, মাছ ও পশুর খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে তেজস্ক্রিয়তার বিষয়ে রফতানিকারক দেশের উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনসহ এসব খাদ্যদ্রব্য হাঁস-মুরগী বা মাছ বা পশুর খাওয়ার উপযোগী মর্মে প্রত্যয়নপত্র লাগবে। এসব পণ্যে তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা, উৎপাদন ও মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে। পাশাপাশি আমদানিকৃত মাছের খাদ্য ক্লোরোমফেনিকল ও নাইট্রোফিউরানসহ ক্ষতিকর ওষুধ এবং হরমোন ও স্টেরয়েড মুক্ত হতে হবে। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]