• প্রচ্ছদ » » নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : শেখ হাসিনার অবদান


নারীর অগ্রযাত্রায় সমৃদ্ধ বাংলাদেশ : শেখ হাসিনার অবদান

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন

নারী মানুষ। লিঙ্গভেদের কারণে মানুষ হয় নারী ও পুরুষ। প্রজাতি হিসাবে নারী ও পুরুষ আসলে মানুষ। মোটা দাগে বললে, নারী-পুরুষের আনুপাতিক হার ৫০:৫০, অনুপুঙ্খ হিসাবে হেরফের আছে। তাহলে মানুষের মানবীয় যা কর্মকাÐ তার আবর্তন-বিবর্তন নারী ও পুরুষ উভয়কে ঘিরে, কেউ বাদ পড়ার কথা নয়। আর যদি কেউ বাদ পড়েই তাহলে তা হবে বিকৃতি বা স্বাভাবিক রীতির পরিপন্থী। কিন্তু সভ্যতার আদি¯্রষ্টা হলেও কালপরম্পরায় নারী সভ্যতার বয়ান থেকে বাদ পড়ে পুরুষ প্রাধান্যের কাছে নতি স্বীকার করেছে, আর এতেই তৈরি হয়েছে নারীর অধঃস্তনতা তথা সামগ্রিক পশ্চাদপদতা। কিন্তু এটা সাধারণীকৃত ইতিহাসের বয়ান, যথার্থ ইতিহাসের বয়ান নয়। এ কারণে ১৯৭৩-এ কেম্ব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোজালিন্ড মাইল্স লিখলেন সাড়া জাগানো বই ওমেন্স হিস্ট্রী অব দ্য ওয়ার্লড। প্রতিপাদ্য হলো বিশ্বের তাবৎ কর্মকাÐের পেছনে নারীর অবদান বাস্তব সত্য হলেও তা ইতিহাসে অস্বীকৃত। অর্থাৎ কিনা চোখ খুলে দেয়ার মতো ইতিহাসের পুনর্পাঠ। ব্যাপারটি তো আসলেই তাই। স্মর্তব্য এই অধ্যাপক তথ্য-উপাত্ত-বিশ্লেষণ দিয়ে যা বলেছেন তা তো কবি নজরুল ১৯৩০-এর দশকে কাব্যিক আবেগ দিয়ে বলেছিলেন, সৃষ্টির কল্যাণকর যা তার অর্ধেক নারীর, অর্ধেক পুরুষের। নৈয়ায়িকভাবে নারী-পুরুষের সমতা যুক্তি ধারণ করলেও বাস্তবে তা গুরুত্বহীন। নইলে কেন এখনো বিশ্বে প্রতি তিনজন নারীর একজন নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। তবে নারীর দিনবদলের শুরু হয়েছে, দিন সম্পূর্ণ বদল না হলেও। বাংলাদেশে নারীর দিনবদলের কাÐারি জননেত্রী শেখ হাসিনা।
শুধু নারী প্রধানমন্ত্রী বলে নয়, একজন মানবীয় মানুষ হিসাবে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের অর্ধাংশ নারীর কথা ভেবেছেন। উন্নয়নের নানাবিধ চটকদার নাম দেয়া হোক না কেন কোনো কিছুই যে অর্জিত হবে না যদি অর্ধেক মানুষ নারী পশ্চাদপদতার অচলায়তনে আবদ্ধ থাকে। বিষয়টি রাজনীতিক শেখ হাসিনার রাজনীতির কোনো ইস্যু নয়, বিষয়টি মানবিক শেখ হাসিনার মানবীয় ব্যাপার। মনে হয় ইউরোপীয় রেনেসাঁর লাতিন কবির মতো শেখ হাসিনাও কি বলেন, যড়সড় ংঁস যঁসধহর ধ সব ধষরবহঁস ঢ়ঁঃড়- মানুষ আমি, মানুষ সংক্রান্ত কোনো কিছু আমার কাছে অবহেলার নয়। বাংলাদেশের এ যাবতকালের দীর্ঘতম মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে দৃশ্যত শেখ হাসিনা নারী-পুরুষ কাউকে অবহেলা করেননি।
বাংলাদেশে এখনো অবরোধ আছে, আছে অবরোধবাসিনীও। কিন্তু তা সত্তে¡ও বাংলাদেশের নারী এখন জীবনের সামগ্রিক ক্যানভাসে দৃশ্যমান। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডঊঋ) তথ্য দেয়, সমগ্র এশিয়ায় লিঙ্গ-সমতায় বাংলাদেশ এখন দ্বিতীয় অবস্থানে, দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে এবং গেøাবাল জেন্ডার গ্যাপ সূচকে ১৪৪টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৪৭তম।
লক্ষণীয় নারীর ক্ষমতায়ন ও তার সামগ্রিক উন্নয়ন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দশটি বিশেষ উদ্যোগের অন্যতম। উল্লেখ্য, এই দশটি উদ্যোগ তিনি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পর্যায়ে দেখভাল করেন এবং যার সূচনা ২০০৯ থেকে। অবশ্য স্মর্তব্য যে, নারী-উন্নয়নের দিশারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু। তার সর্বশ্রেষ্ঠ অবদান ’৭২-এর সংবিধানের ২৮(২) ধারায় নির্দেশিত হলো, ‘রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী-পুরুষ সমান অধিকার লাভ করিবেন।’ জাতির জনককন্যা শেখ হাসিনা এই নির্দেশ রূপায়িত করার লক্ষ্যে ২০১১তে জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি প্রণয়ন ও গ্রহণ করেন। নারী উন্নয়ন সংক্রান্ত এটাই প্রথম ব্যাপক ও অনুপুঙ্খ নীতি। অবশ্য ভুলে গেলে চলবে না যে, ধর্মান্ধ ও গোঁড়া সম্প্রদায়ের রোষানলের শিকার হয়েছে এই নীতি। এতে অবশ্য শেখ হাসিনার দৃঢ়তায় কোনো চিড় ধরেনি বলেই নারীর ক্ষমতায়নে শনৈঃ শনৈঃ এগিয়েছে বাংলাদেশ এবং সমস্ত ভ্রƒকুটিকে উপেক্ষা করে এগোবে।
নারীর ক্ষমতায়নের মৌল উপাদান হিসাবে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। শিক্ষা খাতে বর্তমান সরকারের উদ্যোগ বিশেষভাবে লক্ষণীয়। শিক্ষার্থীর বিনামূল্যে শিক্ষা, বৃত্তি-প্রদান, বিনামূল্যে বই, বিনামূল্যে স্কুলে খাবার… ইত্যাদি উদ্যোগগুলোর বিশেষ দিক। উপরন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রীদের জন্য পৃথক শৌচাগারের ব্যবস্থা বর্তমান সরকারের আমলে প্রথম করা হয়। আর মহিলা শিক্ষকের নিয়োগও ক্রমান্বয়ে বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় নারী শিক্ষকের অনুপাত ৬০-এর বেশি। এমন সব সুপরিকল্পিত উদ্যোগের অনিবার্য ইতিবাচক ফল দৃশ্যমান। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লিঙ্গ-সমতা অর্জিত হয়েছে। আর ২০০৮-এ প্রাথমিক শিক্ষায় ছাত্রী ভর্তির অনুপাত ছিলো ৫৭ শতাংশ, ২০১৭তে তা ৯৬তে উন্নীত হয়, এখন দেখা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে ৫১ শতাংশ, মাধ্যমিক পর্যায়ে ৫৩ শতাংশ ছাত্রী। অনেক বিদ্যালয়ে ছাত্রের চেয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা বেশি। বিগত ১০-১১ বছরে ছাত্রী ঝরে পড়ার হার প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে কারিগরি শিক্ষায় ছাত্রী ভর্তি বেড়েছে প্রায় ৪৪ শতাংশ।
নারীর উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নে শেখ হাসিনার কোন চেতনা-প্রণোদনায় কাজ করেন তা তিনি ব্যাখ্যা করেছেন ২০১৫-র ফেব্রæয়ারি মাসে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে। তিনি বলেছিলেন যে, তার লক্ষ্য হলো নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও আর্থিক ক্ষমতায়ন, কারণ ‘নারী অর্থ উপার্জন করলে অনিবার্যভাবে পরিবার ও সমাজে তার দাম থাকে।’ সুতরাং অশিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত বা শিক্ষিত সব নারীকে শ্রমবাজারে সম্পৃক্ত করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। ফল হয়েছে এই যে, ২০০৭-এ শ্রমবাজারে নারীর অনুপাত ছিলো ২৯.২, আর ২০১৭তে তা হয় ৩৬, এবং যা দক্ষিণ এশিয়ার প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের অগ্রগতি। বিগত প্রায় এক দশকে ২.৩ মিলিয়নের বেশি নারী শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছে। ২০১০-এ মোট নারী কর্মীর সংখ্যা ছিলো ১৫.২ মিলিয়ন, ২০১৬-১৭তে তা হয় ১৮.৬ মিলিয়ন। বর্তমানে ৪ মিলিয়নের উপর নারী শ্রমিক তৈরি পোশাক শিল্পে সম্পৃক্ত আছে, যাদের বেতন ২০১০-এ ছিলো মাসে ৩ হাজার টাকা, তারা এখন পায় ৮ হাজার টাকা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কৃষিবান্ধব হবার কারণে এবং নারীদের বিশেষ প্রণোদনার উপস্থিতির কারণে কৃষি খাতে নারীর সম্পৃক্ততা বেড়েছে। বর্তমানে প্রায় ৪৩ শতাংশ গ্রামীণ নারী মাছ চাষ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। তবে দেখা যাচ্ছে যে, মাছচাষি হিসাবে আছেন প্রায় ৬০ শতাংশের উপর নারী । নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা শেখ হাসিনা সরকারের বিশেষ লক্ষ্য। এজন্য নারীদের বিশেষ ছাড়ে ঋণ দেয়া হয়। উপরন্তু জয়িতা ফাউন্ডেশন প্রায় আঠারো হাজার নারী উদ্যোক্তাকে পোষকতা দেয়। বর্তমানে স্থানীয় সরকারে মহিলা সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন হয়। উপজেলায় আছে একজন মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানের পদ। জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নে অন্তত ৩৩ শতাংশ নারী প্রার্থী দেয়ার নির্দেশ আছে। বর্তমানে রাষ্ট্রীয় জীবনের সব ক্ষেত্রে নারীর উপস্থিতি লক্ষণীয়। বাংলাদেশের সংসদে সর্বোচ্চ সংখ্যক মহিলা সংসদ সদস্য দৃশ্যমান।
পেশাদার মহিলা এখন ছ’মাসের মাতৃত্বকালীন ছুটি পান। মাতৃমৃত্যুর সংখ্যা ২০১০-এ ছিলো ২৪২, ২০১৬তে হয় ১৭৬। সারাদেশে ষোলো হাজার কমিউনিটি ক্লিনিকের (যা শেখ হাসিনার নিজস্ব উদ্ভাবন) সেবা গ্রহণকারীর ৮০ শতাংশ নারী ও শিশু। তেরো হাজার মেটারনিটি সেন্টার এবং ত্রিশ হাজার স্যাটেলাইট ক্লিনিক তৈরি করা হয়েছে মা ও শিশুর স্বাস্থ্য পরিচর্যার জন্য। উপরন্তু সারাদেশে প্রায় দেড় লাখ নারী মেটারনাল হেল্থ ভাউচার স্কিমের অধীনে স্বাস্থ্যসেবা পাচ্ছেন। গত দশ বছরে নারী উন্নয়ন খাতে বাজেট বরাদ্দ ক্রমেই বেড়েছে। ২০১৮-১৯-এ বরাদ্দ ১৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা জিডিপির ৫.৪৩ শতাংশ, এবং মোট বাজেটের ২৯.৬৫ শতাংশ। উপরন্তু সম্প্রতি উইমেন ডেভেলপমেন্ট স্পেশাল ফান্ডে অতিরিক্ত দুইশো পঞ্চাশ মিলিয়ন টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে একাধিক আইন ও বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। ২০১০-এ প্রণীত হয়েছে পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ ও সুরক্ষা আইন। এছাড়া আছে ন্যাশনাল হেলপলাইন ফর ভায়োলেন্স এগেইন্স্ট উইমেন, ডিভিশনাল ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার এবং ট্রমা কাউন্সেলিং সেন্টার তৈরি করা হয়েছে নারীকে সহায়তা দেয়ার জন্য।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকারের দিকনির্দেশনায় নারী প্রগতির সর্বশেষ সুসংবাদ দুটো। এক, শেখ হাসিনার পরামর্শে এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় পৈত্রিক সম্পত্তিতে নারী-পুরুষের সমানাধিকার নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ শুরু করেছে। কাজটি কঠিন। কারণ শরীয়াহ আইনের ভ্রƒকুটি আছে। উল্লেখ্য, শরীয়াহ আইন আল্লাহর আইন নয়, যদিও তা প্রচার করা হয়। শরীয়াহ আইন কোরআনের মনগড়া ব্যাখ্যার উপর তৈরি করা। কাজেই একেক দেশে একেক রকম শরীয়াহ্ আইন। আল্লাহর আইন হলে তা অভিন্ন ও অমোঘ হতো। সুতরাং শরীয়াহ্ আইনের দোহাই দিয়ে নারীকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টা আসলে পুরুষতান্ত্রিক মতলববাজি। দুই, সম্প্রতি হাইকোর্টের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে যে, সন্তানের বাবার নামের পাশাপাশি মার নামও থাকতে হবে। কারণ সন্তান শুধু বাবার নয়, মা-রও। উল্লেখ্য, ১৯৯৬তেই শেখ হাসিনা এমন নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামগ্রিক প্রগতির লক্ষ্যে শেখ হাসিনার অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে অনেক। প্রাপ্ত স্বীকৃতির তালিকা এমন : ২০১১ : প্যারিসের ডফিন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বর্ণপদক। ২০১৪ : ইউনেস্কোর ‘ট্রি অব পিস এওয়ার্ড।’ ২০১৬ : জাতিসংঘ ‘উইমেন্স প্ল্যানেট ৫০-৫০ চ্যাম্পিয়ন এওয়ার্ড। ২০১৬ : গেøাবাল পাটনারশিপ ফোরামের ‘এজেন্ট অব চেঞ্জ এওয়ার্ড।’ ২০১৬ : ফরচুন ম্যাগাজিন শেখ হাসিনাকে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের মধ্যে দশম স্থান দেয়। প্রাসঙ্গিক মন্তব্য ছিলো : অং ঃযব ড়হষু ভবসধষব ষবধফবৎ ধসড়হম ঃযব ঙৎমধহরুধঃরড়হ ড়ভ ওংষধসরপ ঈড়ড়ঢ়বৎধঃরড়হ সবসনবৎ ংঃধঃবং, ঐধংরহধ যধং ফবভঃষু হধারমধঃবফ ঃযব পড়সঢ়বঃরহম ফবসধহফং ড়ভ ওংষধসরপ ঃৎধফরঃরড়হ ধহফ ড়িসবহ’ং ৎরমযঃং. ঝযব যধং পড়সসরঃঃবফ ইধহমষধফবংয… ঃড় ংবপঁৎরহম ষবমধষ ঢ়ৎড়ঃবপঃরড়হং ভড়ৎ ড়িসবহ ধহফ যবষঢ়রহম ঃযবস ধঃঃধরহ সড়ৎব বফঁপধঃরড়হ, ভরহধহপরধষ ভৎববফড়স ধহফ ঢ়ড়ষরঃরপধষ ঢ়ড়বিৎ.’ ২০১৮ : সিডনি থেকে গেøাবাল উইমেন্স লিডারশিপ এওয়ার্ড। ২০১৯ : জার্মানির ইনস্টিটিউট অব সাউথ এশিয়ান উইমেনের আজীবন সম্মাননা ‘উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট এওয়ার্ড।’ মোটা দাগে বললে, বাংলাদেশের নারী এখন রাষ্ট্রপতি ছাড়া আর সব পদেই দৃশ্যমান। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের সূচকে অবস্থান অষ্টম। কিন্তু তবুও প্রশ্ন আছে। মাত্র ৩৬ শতাংশ নারী কর্মবাজারে যুক্ত। আর ৭০ শতাংশ নারী বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেন। সমাজে বাল্যবিবাহ (যার বিরুদ্ধে আইন থাকা সত্তে¡ও) যৌতুক, নারী নির্যাতন, ব্যাপক ধর্ষণ আছে, যা নারীর সামাজিক প্রশ্নবিদ্ধ করে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো জানায় যে, দেশের ৭২.৬ শতাংশ নারী বিবাহিত জীবনে স্বামীর দ¦ারা এক বা একাধিক ধরনের সহিংসতার শিকার হন। আরো জানা যায়, ৪৯.৬ শতাংশ নারী শারীরিক সহিংসতার শিকার হন। সমস্যা হলো ৩২.৫ শতাংশ নারী মনে করেন যে, স্বামী স্ত্রীকে মারধর করতেই পারে। ধর্মের বিকৃত ব্যাখ্যা সমাজকে কীভাবে কলুষিত করে তার দৃষ্টান্ত এমন মানসিকতা। তবে বাংলাদেশের নারীর দিনবদল শুরু হয়েছে, তার অচলায়তন ভাঙবেই। কারণ এই দিনবদলের কাÐারি শেখ হাসিনা ২০১৮’র এপ্রিল মাসে লন্ডনে কমনওয়েল্থ উইমেন্স ফোরামে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছিলেন, ‘আমরা এমন এক ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে চাই যেখানে বিশ্বশান্তি ও নারীর ক্ষমতায়ন হবে মৌল লক্ষ্য এবং যার মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে দারিদ্র্য, বৈষম্য ও সংঘাতমুক্ত সমাজ।’ সর্বজন স্বীকৃত যে, বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। এটাও স্বীকৃত হওয়া উচিত যে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন নারী উন্নয়নেরও রোল মডেল।
লেখক : বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি)




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]