বিদিশার ঈদ কাটবে একা, এরশাদ ও এরিকের জন্য কিনবেন ম্যাচিং পাঞ্জাবি

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

দেবদুলাল মুন্না: আপনার জীবন এতো ঘটনাবহুল, একটা টাফ জার্নি। এসবের পর এখন এসে জীবনে কি একাকীত্ব অনুভব করেন এমন প্রশ্নের জবাবে বিদিশা বলেন, ‘আমি কখনোই লোনলিনেসে ভুগি না। এরিক তিন/চারদিন আগে ফোন করেছিল। ইফতারির ঠিক আগে। তার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে আমি কান্না করে ফেললাম। সে বলল, মাম্মি তুমি কাঁদছো কেনো? আব্বু (এরশাদ)অসুস্থ বলে থাকছি। কিন্তু সারাজীবন তো তুমি আমিই থাকবো। আমার চার সন্তান। প্রথম পক্ষের আমার এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলেটি উইলিয়াম উইলসন। ব্রিটেনে থাকে। ভাল মিউজিশিয়ান। মেয়ে ইসাবেলা। সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি বেসরকারি সাহায্য সংস্থায় কাজ করে। এরিক তো রয়েছেই। আর মায়া ।
মায়া কে-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তাকে আমি দত্তক নিয়েছি। দার্জিলিং এর মাউন্ট হারম্যান বোর্ডিং স্কুলে পড়ে। বয়স আট। তারা চার ভাইবোনের মধ্যেই একজনের আরেকজনের প্রতি তীব্র দরদ। সেই হিসেবে আমি মা হিসেবে আমি গর্বিত। কিন্তু এবার ঈদে তারা চারজনই আমার পাশে নেই। মনটা একটু খারাপ। মায়ার কাছে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ জানালো এ মূহূর্তে আমার গিয়ে দেখা করাটা ঠিক হবে না। সামনে পরীক্ষা তাই। ইচ্ছে আছে ঈদের আগে এরিক ও তার ড্যাডির(এরশাদ) দুটো ম্যাচিং পাঞ্জাবি কিনে পাঠাবো। একটা সময় উনার জন্য ঈদের সময় আমি পাঞ্জাবি কিনতাম। আমার পছন্দের উনি তারিফ করতেন। এবারও দেওয়ার ইচ্ছা আছে। সত্যি কথা কি, আমার এখনও বিশ^াস এবং মনেপ্রাণে চাই উনি( এরশাদ)এরিকের জন্য হলেও আরও অনেকদিন বেঁচে থাকুন। অনেক আলতু ফালতু মিডিয়াই তো দেখছি উনাকে মরে যাওয়ার আগেই মেরে ফেলার মতো নিউজ করছে। এসব ঠিক নয়। উনি খুব শক্ত মনের এবং নিয়মমাফিক জীবন যাপন করেন। ফলে তিনি আরও বেঁচে থাকবেন।’
বিদিশা বলেন, ‘জীবনের বাঁকে বাঁকে চমক, ঘটনা-দুর্ঘটনা। আমি ব্রিটেনে নিরুপদ্রব জীবন কাটাতে পারতাম। কিন্তু জীবনে কতো কি গটে গেলো, নতুন করে উনার( এরশাদ) সাথে প্রেমে পড়া, বিয়ে, বিচ্ছেদ, জেল, কিছু নি¤œরুচির মানুষের আমাকে না বোঝে ব্লেইম দেওয়া এসবই আমি মোকাবেলা করেছি একা, বলতে পারেন নি:সঙ্গ শেরপার মতোন। এখন অনেকে ফোন করে বলেন, জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে সক্রিয় হতে। যদি দলের ও দেশের প্রয়োজনে নেতৃত্ব নিতে হয় তবে নিবো। আমার ব্যাক্তিগতভাবে চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই। আমি তো আর এলিয়েন না। মানুষ তো। মানুষের পাশেই বাকি জীবন কাটাতে চাই। আমি হিউম্যান সাফারিং নিয়ে কেন জানি খুব ভাবি। তাই ‘বিদিশা ফাউ-েশন’ নামে একটি সংস্থা করেছি। নারী ও শিশুদের পক্ষে এ সংগঠন এখন কাজ করছে। আমি মানুষের পাশেই তাদের মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই। কাজ করতে চাই। এর বেশি কোনো চাওয়া পাওয়া নেই। রাজনীতি করলেও লুটপাটের নয়। মানুষের জন্যই করতে চাই।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]