• প্রচ্ছদ » » বিবেক কী? বিবেকই কি মুর্শিদ, রাসূল?


বিবেক কী? বিবেকই কি মুর্শিদ, রাসূল?

আমাদের নতুন সময় : 03/06/2019

ড. এমদাদুল হক

বিবেক হলো আবেগের লাগাম। আবেগ বেগ উৎপন্ন করে, কিন্তু বেগের দিক নির্ধারণ করে না। বেগের দিক নির্ধারণ করতে পারে বিবেক। আবেগ গতি বৃদ্ধি করে। এই অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণের জন্যও বিবেক অত্যাবশ্যক। নিয়ন্ত্রণহীন গতি দুঃখের কারণ। গতিহীন নিয়ন্ত্রণও মূল্যহীন। গতি ও নিয়ন্ত্রণের সমন্বয়ে জীবন এগিয়ে যায়। আবেগ থেকে উদ্ভ‚ত শক্তির প্রভাবে শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি পরিবর্তিত হয়, রক্তসঞ্চালন ও দেহের তাপমাত্রার হ্রাস-বৃদ্ধি হয়, হাত-পায়ে কম্পন অনুভ‚ত হয়, পেশির সংকোচন ও প্রসারণ হয়, চোখ বড়-ছোট কিংবা প্রশস্ত-মুদিত হয়, গায়ের লোম খাড়া হয়। ভয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হওয়া, ঘৃণায় আড়ষ্ট হওয়া, আনন্দে উচ্ছ¡সিত হওয়া, কান্নায় ভেঙে পড়া, দুর্ঘটনায় চিৎকার ও চেঁচামেচি করা ইত্যাদিও আবেগের জৈবিক প্রকাশ। আবেগের অতিরিক্ত শক্তি প্রবাহে বিবেকের বিচারশীলতা হ্রাস পায়। ফলে দেখা দেয় আবেগ ও বিবেকের সমন্বয়হীনতা। আবেগকে বিবেক দ্বারা চালিত না করতে পারলে আবেগ দিশাহারা হয়ে যায়, জীবনে নেমে আসে বিপর্যয়। অবশেষে আবেগ বেগ হারিয়ে প্রশমিত হয় বটে, কিন্তু রেখে যায় বিভ্রান্তির ছাপ। আবেগ ও বিবেকের সমন্বয় থাকলে শক্তির উদয়ে স্থির থাকা যায়, আন্তরিক ও গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা যায়, প্রতিক‚ল পরিবেশেও উদ্বেগহীন থাকা যায়। আবেগীয় স্বাস্থ্য ভালো রাখতে হলে বিবেকের প্রতি যতœবান হওয়া চাই, সতর্ক থাকা চাই সেসব আবেগের প্রতি যা আত্মবিকাশের পথে প্রতিবন্ধকতা উৎপন্ন করে। আবেগের উৎস সম্বন্ধেও সতর্কতা প্রয়োজন। যদি আবেগ দ্ব›দ্ব থেকে উৎপন্ন হয়, তাহলে তা আগ্রাসী হতে পারে। পরস্পরবিরোধী আবেগে বিকাশধারা অবরুদ্ধ হয়। যারা আবেগ দ্বারা বিক্ষুব্ধ হয়, তারা কোনো একটি দিকে ধাবিত হয় এবং পরিণামে পতন ঘটে।
নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়ি যেমন খাদে পতিত হয়, জীবনও তেমনি। নিয়ন্ত্রণহীনতাই দুর্বলতা। দুর্বল নিয়ন্ত্রণ শুরু না করা পর্যন্ত দুর্বলই থাকে। নিয়ন্ত্রণ শুরু করলেই শক্তির উন্মেষ ঘটতে থাকে। আবেগ সবসময় ভালো পথ নাও দেখাতে পারে। বিবেক সবসময় ভালো পথ দেখায়। আবেগ ভালো-মন্দ বিচার করার সময় দিতে চায় না। আবেগের প্রবণতা হলো ভালো-মন্দ যাই হোক দ্রæত সাড়া দেয়া। তাই আবেগকে বিবেকের নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে ধীরতা অত্যাবশ্যক। আবেগে থাকে প্রবৃত্তির খেয়াল মেটানোর তাড়না। তাই বিবেক দ্বারা আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলে প্রবৃত্তির সবগুলো বৃত্তি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। যে আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে, হতাশা কখনো তাকে গ্রাস করে না। সুখ ও জ্ঞান তার সঙ্গে থাকে। যে আবেগকে বিবেকের উপর কর্তৃত্ব করতে দেয় সে দুঃখ ও অজ্ঞতার সঙ্গে থাকে। বিবেকের নিয়ন্ত্রণ ছাড়া জ্ঞানের স্পর্শ পাওয়া যায় না। জ্ঞানবৃক্ষের অঙ্কুরোদগম হয় নিয়ন্ত্রিত চিত্তভ‚মিতে, আর ফুল-ফলে ভরে উঠে শুদ্ধতার আকাশে। যা নিজে নিজেই বেড়ে উঠে, তা আগাছা। যা অনেক যতেœর পর বেড়ে উঠে, তা ফুলের চারা। আগাছা অনিয়ন্ত্রিত বেড়ে উঠলে যেমন ফুলের চারাগুলো মরে যায় তেমনি প্রবৃত্তি বেড়ে উঠলে সৃজনীশক্তি মরে যায়। নিয়ন্ত্রিত জীবনই শুদ্ধ জীবন। শুদ্ধ জীবনই মুক্ত জীবন। মুক্ত জীবনই আনন্দের জীবন। আনন্দের জীবনই আলোকিত জীবন। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]