পড়াশোনার প্রাথমিক স্তরে প্রাথমিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত চিন্তক তৈরি করা!

আমাদের নতুন সময় : 04/06/2019

কামরুল হাসান মামুন : মনে রাখতে হবে চিন্তার ফসল বিজ্ঞান! বিজ্ঞানের ফসল টেকনোলজি। তাই পড়াশোনার প্রাথমিক স্তরে প্রাথমিক উদ্দেশ্য হওয়া উচিত চিন্তক তৈরি করা! ভারতের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী অধ্যাপক বিকাশ সিনহা বলেছেন, বিজ্ঞান টেকনোলজির রসদ/খাবার জোগায়। এর উল্টোটা সত্যি নয়। টেকনোলজি স্বাধীন বা স্বায়ত্তশাসিত নয়। যেদিন বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা বন্ধ হয়ে যাবে সেদিন থেকে টেকনোলজির উৎকর্ষও বন্ধ হয়ে যাবে। ঘুণাক্ষরেও যেন কেউ মনে না করে আমি টেকনোলজিকে ছোট করার চেষ্টা করছি বরং আমাদের জীবনযাত্রার মানের উৎকর্ষতার জন্য আমি এর কাছে কৃতজ্ঞ। টেকনোলজি হলো বিজ্ঞানের বাহক। আগে বিজ্ঞান আসে এবং সেই মোতাবেক টেকনোলজি তৈরি হয়।

হিগ্স বোসন বা গড পার্টিকেলের কথাই ধরুন। এটা পার্টিকেল ফিজিক্সের স্ট্যান্ডার্ড মডেলের একটি এলিমেন্টারি বস্তু। ব্রিটিশ পদার্থবিদ পিটার হিগ্স ১৯৬৪ সালে অঙ্ক কষে এই বস্তুর অস্তিত্বের কথা প্রথম সুপারিশ করেন। তারপর অন্য পদার্থবিদরাও এটির অস্তিত্ব স্বীকার করেছেন। পদার্থবিদদের কথা পরে রাজনীতিবিদরাও বুঝতে পেরেছেন এবং এর ফলেই এটি প্রমাণের জন্য তারা প্রায় ৫০ বিলিয়ন ডলার খরচ করে ঈঊজঘ-এ খধৎমব ঐধফৎড়হ ঈড়ষষরফবৎ (খঐঈ) তৈরিতে খরচ করতে রাজি হয়েছে। আর এটি সম্ভব হয়েছে অনেক বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার আর এক্সপেরিমেন্টাল পদার্থবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অর্জিত টেকনোলজির কারণে।

একই কথা সাজে গ্রাভিটেশনাল ওয়েভের ক্ষেত্রে। এটি ১৯০৫ সালে ঐবহৎর চড়রহপধৎল্ক প্রথম এর ধারণা দেন পরে ১৯১৬ সালে স্বয়ং আইনস্টাইন এটি প্রেডিক্ট করেন। এর অস্তিত্ব প্রমাণের জন্য প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার খরচ করে খধংবৎ ওহঃবৎভবৎড়সবঃবৎ এৎধারঃধঃরড়হধষ-ডধাব ঙনংবৎাধঃড়ৎু (খওএঙ) স্থাপন করা হয় যার উদ্দেশ্য হলো গ্রাভিটেশনাল ওয়েভকে সরাসরি ড়নংবৎাব করা। এ রকম বিজ্ঞানের অনেক কিছুই প্রথম অঙ্ক বা তত্ত্বীয়ভাবে প্রথম প্রেডিক্ট করা হয় তারপর এটিকে প্রমাণের জন্য টেকনোলজি আবিষ্কার করা হয়। অনেক সময় অনেক কিছু প্রথমে বীঢ়বৎরসবহঃধষষু পাওয়া হয় যেমন সুপারকন্ডাক্টিভিটি যেটি ১৯১১ ঐবরশব কধসবৎষরহময ঙহহবং তার ল্যাবে পেয়েছিলেন কিন্তু সেটি ছিলো ৪ ডিগ্রি কেলভিনে। এখন পৃথিবীজুড়ে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ করছে এটিকে রুম তাপমাত্রায় পাওয়ার জন্য। ধঢ়ঢ়ৎড়ঢ়ৎরধঃব টেকনোলজি অর্জনের জন্য।

ভারতের ঔধসংবঃলর ঞধঃধ ধহফ ঝধিসর ঠরাবশধহধহফধ একবার একসঙ্গে জাহাজে করে পশ্চিমা দেশে যান। ওখানে গিয়ে টাটা পশ্চিমাদের বিজ্ঞান এবং টেকনোলজির হাত ধরাধরি করে এগিয়ে যাওয়া দেখে তিনি ভাবলেন ফিরে গিয়ে বিজ্ঞানী সৃষ্টি ও তাদের বেড়ে উঠার জন্য একটি ইনস্টিটিউট খুলবেন। তিনি মনে করেছিলেন আগে বিজ্ঞান আসতে হবে এবং এর ফলে টেকনোলজি আসবেই। সত্যি সত্যি উনি ফিরে এসে উনি বেঙ্গালোরে ১৯০৯ সালে ওহফরধহ ওহংঃরঃঁঃব ড়ভ ঝপরবহপব প্রতিষ্ঠা করেন যেটি এখন ভারতের এক নম্বর গবেষণা প্রতিষ্ঠান। আবার ভারতের প্রখ্যাত বিজ্ঞানী হোমি ভাবা প্রস্তাবে ১৯৪৫ সালে স্যার দোরাবজি টাটা আরেকটি ইনস্টিটিউট করেন যার নাম টাটা ইনস্টিটিউট অফ ফান্ডামেন্টাল রিসার্চ বা সংক্ষেপে ঞওঋজ!

জ্ঞান-বিজ্ঞানে ভারতের আজকের অবস্থানে আসার পেছনে এই দুটি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অপরিসীম। আফসোস আমাদের ভাভার মতো বিজ্ঞানীও নেই আর জামশেদজি টাটা কিংবা দোরাবজি টাটার মতো ব্যবসায়ীও নেই। আমাদের স্কুলের শিক্ষা কাররিক্যুলাম তৈরির ক্ষেত্রে এসব বিষয় মাথায় রাখতে হবে। বেসিক বিষয়কে অবজ্ঞা করে গড্ডালিকায় গা ভাসালে ফল খুব ভালো হবে না।

স্কুল লেভেলে আইসিটি বা প্রোগ্রামিং কোর্স বড়জোর এক্সট্রা কাররিক্যুলার এক্টিভিটিজ হিসাবে চালু করা যায়। যাদের শহধপশ আছে তারা আনন্দ সহকারে করবে ঠিক সংগীত নাটক খেলাধুলায় তারাই যায় যাদের ওসব দিকে মেধা এবং উৎসাহ আছে। কিন্তু পড়াশোনা মানে কেবল সবাইকে একমুখী বানিয়ে দেয়া নয়। ছোটবেলার শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনাটা একমুখী হওয়া উচিত যেখানে কোর বা ফান্ডামেন্টাল বিষয় শেখানো হবে। যেমন : গণিত বিজ্ঞান ইত্যাদি। আমাদের একটি সমস্যা হলো আমরা হুজুগে মাতাল জাতি। ক্লিনিকের যুগ আসলো একদম ভাসাইয়া ফেলেছি, এ্যাপার্টমেন্টের যুগ আসলো একদম ভাসাইয়া ফালাইছি, ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল আসলো একদম ভাসাইয়া ফালাইছি, শপিংমল আসলো একদম ভাসাইয়া ফালাইছি, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় আসলো একদম ভাসাইয়া ফালাইছি বিবিএ এমবিএ আর সিএসই আসলো একদম ভাসাইয়া ফেলতেছি! এই ভাসাইয়া ফেলা আমাদের বন্ধ করতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের গিনিপিগ না ভেবে একটি সিস্টেম চালু করার আগে অনেক অনেক ভাবা উচিত। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]