• প্রচ্ছদ » গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ » সরকারের বিরুদ্ধে যারাই আওয়াজ তুলবে, তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতে আপত্তি নেই, সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা


সরকারের বিরুদ্ধে যারাই আওয়াজ তুলবে, তাদের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হতে আপত্তি নেই, সাক্ষাৎকারে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা

আমাদের নতুন সময় : 04/06/2019

শাহানুজ্জামান টিটু : জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বৈঠকের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি আসলেই কিছু জানি না। আমার কোন ধারণা নেই। তবে আমি মনে করি, যে বা যারাই এই ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলবে- সেটা দল হতে পারে, ব্যক্তি হতে পারে, কোনো সংগঠন হতে পারে, কোনো আন্দোলন হতে পারে। যাই হোক না কেনো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আপত্তি নেই।

প্রশ্ন : তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে সরকার, এটা কতটুকু সম্ভব?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : দেখুন, ব্রিটিশ সরকার স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছে যে, ব্রিটেনের আইন অনুসারে সরকারের কিছু করার নেই। আরেকটি বিষয় হচ্ছে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা, দুঃখ লাগে বলতে, উনি যে মামলায় খালাস পেলেন সেই বিচারককে দেশত্যাগ করতে হলো। সুতরাং উনার জীবনের নিরাপত্তা নেই বাংলাদেশে। এই বিষয়গুলো যখন আন্তর্জাতিক বিশ্ব জানে, তখন এটা খুবই স্বাভাবিক তাদের আইন অনুযায়ী কখনোই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে ফিরিয়ে দেবে না।

প্রশ্ন : কিন্তু তার নেতৃত্ব নিয়ে বির্তক আছে দলের মধ্যে ও বাইরে। শোনা যায়,  কোনো কোনো দেশেরও। এর সত্যতা কতটুকু?

ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা : দেখুন দলের মধ্যে তারেক রহমানকে নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই। কোন বিভক্তি নেই। বিভ্রান্তি নেই। কোনো বিভেদ নেই। আমাদের যে শীর্ষ নেতৃবৃন্দ আছেন, তাদের মধ্য থেকেই দলীয় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এবং যে ব্যাপারটি আপনি বলছিলেন, আমরা একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। আমরা আগে নিজেদেরকে প্রশ্ন করি, যদি আমরা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হয়ে থাকি তাহলে বাংলাদেশের নেতা কে হবেন তা পার্শ্ববর্তী দেশ ঠিক করে দেবে না, বাংলাদেশের মানুষ ঠিক করবে।

প্রশ্ন : লন্ডনের একটি ঘটনায় বিএনপি নেতাকর্মীরা বলছেন, একারণেই খালেদা জিয়ার মুক্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আপনিও কি তাই মনে করেন?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : দুঃখ লাগে, আমাকে নিজে থেকেই এই প্রসঙ্গটি আনতে হয়েছে। কোনো সাংবাদিক, না কোনো টিভি চ্যানেল আমাকে এই ধরনের প্রশ্ন করেনি, আমরা দেখেছি, এই সরকারের সময়ে মানুষ বিচার চায়। বিচার কি চাওয়ার ব্যাপার? এটাতো স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় হওয়ার কথা। একটা অন্যায় যদি হয় তাহলে সে ক্ষেত্রে দেশে আইন আছে, আদালত আছে, প্রশাসন আছে বিচার করার। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিচার চাইতে হবে। অর্থাৎ বিচার বিভাগ ও আইন আদালত এখন সবকিছু চলে গেছে প্রধানমন্ত্রীর কাছে।

যে অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, এটার কথা বহু টকশোতে আমি বলেছি, আমার ইন্টারভিউতে বলেছি। ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার আগে রিপোর্ট তৈরি করে প্রচার করার সাহস বাংলাদেশের কোনো মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার হয়নি। এতো ভয়ের সংস্কৃতিতে আমরা থাকি। এই অডিওটি আপনি যদি মনোযোগ সহকারে শোনেন, নিশ্চয়ই আপনি তা শুনেছেন। সেখানে আপনি শুনবেন, সেখানেই তো খালেদা জিয়ার মুক্তির ব্যাপারটি খুব স্পষ্ট হয়ে গেছে। এক ব্যক্তি যিনি নির্বাহী বিভাগের প্রধান প্রধানমন্ত্রী যদি মুক্তির ব্যাপারে অনুমতি না দেন তাহলে বাংলাদেশে কেউ মুক্তি পাবে না। মুক্তি পেতে পারে না। বেগম খালেদা জিয়াও নয়।

এই জন্যই আমি বলছি যে, মামলার মেরিট, তার বয়স, শারীরিক অবস্থা, সামাজিক অবস্থান ও জেন্ডার বিবেচনায় বাংলাদেশের আইনে তিনি জামিন লাভের হকদার, জামিন তার হক। তাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে রাজনৈতিকভাবে অপদস্ত করার জন্য তাকে একটা নির্জন কারাগারে বিনা চিকিৎসায় বন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি যখন কারাগারে গেছেন, তিনি হেঁটে গেছেন। আজকে তিনি হুইল চেয়ার ছাড়া চলতে পারেন না। আজকের বিছানা থেকে উঠতে তার দুজন সাহায্যকারী দরকার হয়। তার স্বাস্থ্যের এই অবনতির জন্য সরকার দায়ী। একমাত্র সরকার দায়ী এবং যদি কোন খারাপ কিছু ঘটে, তার স্বাস্থ্যের যদি আরো অবনতি হয়, তাহলে এই সরকারকে বাংলাদেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।

প্রশ্ন : আপনারা বলছেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সরকার বলছে তিনি সুস্থ। জনগণ কোনটি বিশ্বাস করবে?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা : আপনারা সাদা চোখে যেটা দেখবেন সেটাই বলবেন। আপনারা গণমাধ্যমে কাজ করেন, আপনাদের সুযোগ হয় তাকে দেখার। উনি যখন আদালতে যান কিংবা হাসপাতালে যান তাকে আপনারা দেখেন। কী অবস্থায় তিনি জেলে গেছেন আপনারা দেখেছেন। সেই সময়ের ছবি দেখেছেন, তুলেছেন। আজকে তার চেহারা দেখুন, তার আগের ছবিগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে সেই দুটি ছবির পার্থক্য আপনারা করেন। বাংলাদেশের মানুষ অতো বোকা না। কাউকে রামছাগল ভাববেন না।

প্রশ্ন : নতুন সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদে আপনার ভূমিকা কী হবে?

ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা: এটা অনেক বড় দায়িত্ব। আমি আমার সর্বোচ্চ মেধা যোগ্যতা এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে এ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবো। আমাদের মূল এজেন্ডা হচ্ছে, বেগম খালেদা জিয়ার ওপর যে নির্মম অত্যাচার নিপীড়ন চলছে, যে বিচারহীনতার মধ্যে তিনি পড়েছেন, যে ন্যায়বিচার তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে এবং দিনের পর দিন তার উপরে যে অত্যাচার চলছে, সেই বিষয়গুলো নিশ্চয়ই আমি সংসদে তুলে ধরবো। আমি আইনের ধারা দিয়ে, তথ্য উপাত্ত দিয়ে স্পষ্টভাবে সংসদে বলবো, জামিনের হকদার তিনি। এই জামিন থেকে তাকে বঞ্চিত করে রেখে সরকার ন্যায়বিচারের বরখেলাপ করছে। এবং প্রমাণ করছে দেশে আসলে বিচার বলতে কিছুই অবশিষ্ট নেই। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]