২০ কোটি টাকা চুক্তিতে সংরক্ষিত আসনে জাপার মনোনয়ন!নেতারা বললেন, দলিল করে ‘মনোনয়ন’ লজ্জার ও কলংকের

আমাদের নতুন সময় : 04/06/2019

বাশার নূরু ও ইউসুফ বাচ্চু : একাদশ জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে সংরক্ষিত আসনে চারজন নারী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মনোনয়ন দেওয়ার আগে তারা জনপ্রতি দলীয় তহবিলে ৫ কোটি করে টাকা দেবেন এই মর্মে তিন’শ টাকার ষ্টামে অঙ্গীকার নিয়েছে দলটি। চুক্তি অনুযায়ী তিনজন টাকা পরিশোধ করলেও একজন তা করেননি। এজন্যে তাকে দল থেকে কেন বহিস্কার করা হবে না জানতে চেয়ে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে জাপা। এনিয়ে দলটির অভ্যন্তরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। জাপার একাধিক নেতা বলেছেন, এধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। মনোনয়ন বাণিজ্য কম-বেশি অনেক রাজনৈতিক দলেই হয়ে থাকে। কিন্তু এভাবে লিখিত দলিল করে শর্ত সাপেক্ষে মনোনয়ন দেওয়ার ঘটনা রাজনৈতিক দল ও রাজনীতিবিদদের জন্য লজ্জার ও কলংকের।

লিখিত অঙ্গীকার পূরণ না করায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সদস্য অধ্যাপক মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে কেন বহিস্কার করা হবে না তা জানতে শোকজ নোটিশ পাঠিয়েছেন জাপার মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা এমপি। তিনি বলেছেন, পার্টির চেয়ারম্যান আমাকে বলেছেন ১০ দিনের মধ্যে ওনাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে। বহিষ্কার করলে আমরা নির্বাচন কমিশনে (ইসিতে) চিঠি দিয়ে দেব, যেন ওনার সংসদ সদস্য পদ খারিজ করা হয়। রাঙ্গা আরও বলেন, মাসুদা এম রশীদ চৌধুরী প্রায় দুই বছর ধরে জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে নির্ধারিত দলীয় চাঁদা পরিশোধ করছেন না। এসব কারণেই পার্টি চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাকে গঠনতন্ত্র মোতাবেক নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা-৬ আসনের দলীয় সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ দৈনিক ইত্তেফাককে জানান, যখন সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছিল, তখন আমি ছিলাম সৌদি আরবে। সেখান থেকে দলের তৎকালীন কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাকে ফোন করে বলেছিলাম, আমি পাঁচ কোটি টাকা দেব, আমার মেয়েকে মনোনয়ন দিন। বলেছিলাম-স্যার (এইচএম এরশাদ) অসুস্থ, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি দলের নামে নেই। যে চারজনকে মনোনয়ন দেওয়া হবে প্রত্যেকের কাছ থেকে পাঁচ কোটি করে ২০ কোটি টাকা দিয়ে সেটি পার্টির নামে দলিল করে সেখানে ‘এরশাদ ভবন’ নির্মাণ করার উদ্যোগ নিন। তারা দুজন আমাকে বলেছিলেন-ঠিক আছে। আমি এটাও বলেছিলাম, টাকাটা দলের ব্যাংক তহবিলে আমরা জমা দেব। দেশে ফিরেও তাদের দু’জনকে আমি একই কথা বলি। পাঁচ কোটি টাকার কমে কিন্তু কাউকে মনোনয়ন দেওয়া যাবে না। আমার মেয়ে মনোনয়ন পেতে স্বাক্ষাতকারও দিয়েছিল। কিন্তু তাকে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। সেই কারণে আমি ধরে নিয়েছি, হয়তো আরও বেশি টাকার প্রার্থী পাওয়া গেছে বিধায় আমার মেয়ে মনোনয়ন পায়নি।

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত মহিলা আসনে জাপার এমপি অধ্যাপিকা রওশন আরা মান্নান বলেন, লিখিত অঙ্গীকারে কী আছে কী নেই, সেটা বিষয় নয়। আমার সঙ্গে দলের যে অঙ্গীকার ছিল আমি সেটা পূরণ করে দিয়েছি।

মশিউর রহমান রাঙা বলেন, সংরক্ষিত আসনে মহিলা এমপি হিসেবে যারা মনোনয়ন পেয়েছেন, তাদের কারো কারো সঙ্গে নির্বাচনের আগে দলের কিছু ছোটখাটো কমিটমেন্ট ছিল। বিষয়টি স্যার (এরশাদ), জি এম কাদের এবং ওই মনোনয়নের সঙ্গে আমরা যেই আটজন দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলাম সবাই জানেন।

এবিষয়ে বিবিসি’কে জিএম কাদের বলেছেন, এমপি হওয়ার জন্য কোনো শর্ত দেওয়া বা এ ধরনের বিষয় উল্লেখ করে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে আমার কিছু জানা নেই। কেউ যদি এ ধরনের শর্তযুক্ত চিঠি দিয়ে থাকে আর কেউ যদি সেটি গ্রহণ করে সেটি তাদের বিষয়। এখানে জাপার কোনো দায় নেই। কারণ আইন বহির্ভূত কোনো প্রক্রিয়া আমাদের দল অনুসরণ করে না। জিএম কাদের এটাও বলেছেন, নেতাকর্মীদের মাসিক ফি প্রদানের বিষয়ে একটি চিঠির কথা আমি শুনেছি। তবে এতে অন্য কোনো বিষয় ছিল কি-না সেটি আমি জানি না।

এব্যাপারে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, নোটিশের কোথাও আমি বলিনি যে, আমার সঙ্গে ব্যক্তিগত কোনো দেনাপাওনা আছে। এখানে আমার ব্যক্তিগত কিছু নেই। আটজনের কমিটিই সবকিছু করেছে। দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশেই আমি মাসুদা এম রশীদ চৌধুরীকে নোটিশ দিয়েছি। কাজেই  এখন একা আমার ঘাড়ে দায় চাপানোর কোনো সুযোগ নেই।

 




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]