এবার স¤্রাট আকবরকে ‘নারীলিপ্সু’ প্রমাণের চেষ্টা বিজেপি নেতার

আমাদের নতুন সময় : 08/06/2019

ইকবাল খান : ভারতের রাজস্থান বিজেপির সভাপতি মদনলাল সাইনি দাবি করলেন, মোগল স¤্রাট আকবর ‘নারীসঙ্গ উপভোগ’ করার জন্যই মীনা বাজার চালু করেছিলেন এবং প্রায়ই তিনি সেখানে ছন্দবেশে ঢুঁ দিতেন। বৃহস্পতিবার জয়পুরে মেবারের রাজা মহারাণা প্রতাপ সিংহের জন্মবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিজেপি নেতা সাইনি এ মন্তব্য করেছেন। সাইনির এই মন্তব্যকে ‘ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা’ বলে সমালোচনা করেছে কংগ্রেস। সূত্র : আনন্দবাজার।১৫৪২ সালের ১৫ অক্টোবর অমরকোটে জন্ম নেওয়া আকবর বাবা দ্বিতীয় মোগল সম্রাট হুমায়ুনের মৃত্যুর পর যখন ১৫৫৬ সালের ১১ ফেব্রয়ারি সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৩ বছর। সমাজ সংস্কারমূলক বিভিন্ন অবদানের জন্য ইতিহাসে তাকে ‘মহান আকবর’ বা ‘আকবর দ্য গ্রেট’ও বলা হয়ে থাকে। এই জায়গাটিতেই আপত্তি বিজেপি নেতা মদনলাল সাইনির। তিনি বলেন, মোগল স¤্রাট আকবর মোটেই মহান ছিলেন না। নারীসঙ্গ উপভোগ করতে তিনি প্রায়ই মীনা বাজারে ঢুঁ মারতেন ছদ্মবেশে। সেখানে গিয়ে মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, দুষ্কর্ম করতেন। এসব ঘটনা ইতিহাসে লেখা রয়েছে, সারা বিশ্বই জানে।স¤্রাট আকবরই চালু করেছিলেন মীনা বাজার, যেখানে পুরুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। মীনা বাজার ছিল শুধুই নারীদের কর্মক্ষেত্র। রাজস্থানে বিজেপি ক্ষমতায় থাকার সময় স্কুলের পাঠ্যবই থেকে স¤্রাট আকবরের নামের আগে ‘মহান’ বিশেষণটি বাদ দেওয়া হয়। স্কুলের ইতিহাস বইয়ে তখন এও লেখা হয়, হলদিঘাটের যুদ্ধে আকবর পরাজিত হয়েছিল মেবারের মহারাণা প্রতাপের কাছে, পরে অবশ্য সংশোধন করা হয়।১৫৬৭ খ্রিস্টাব্দে আকবর মেবারের রাজধানী চিতোর আক্রমণ করলে শুরুতেই উদয় সিংহ পালিয়ে পার্বত্য অঞ্চলে আশ্রয় নেন। কিন্তু জয়মল এবং পত্ত নামক দুইজন প্রায় চার মাস ধরে মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধে দুই সেনাপতি নিহত হলে, দুর্গের ভিতরের নারীরা আগুনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। ১৫৬৮ খ্রিস্টাব্দে চিতোর আকবরের দখলে আসে। আসফ খাঁকে মেবারের শাসনকর্তা নিয়োগ করা হয়।১৫৭২ খ্রিস্টাব্দে উদয় সিংহের মৃত্যুর পর তার ছেলে রাণা প্রতাপ সিংহ ফের মোগলদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। খবর পেয়ে আকবর সেনাপতি মানসিংহ এবং আসফ খাঁর অধীনে বিশাল সেনাবাহিনী প্রেরণ করেন। ১৫৭৬ খ্রিস্টাব্দে হলদিঘাটের যুদ্ধের এক পর্যায়ে মোগল বাহিনীর সামনে টিকতে না পেরে বাবার মতোই পার্বত্য অঞ্চলে পালিয়ে যান প্রতাপ সিংহ। তবে বিজেপি নেতা সাইনি দাবি করেছেন, ‘মহারাণা প্রতাপের সঙ্গে আকবরের কোনো তুলনাই হয় না। তিনি বলেছেন, আমি মনে করি, বই থেকে ওর নাম মুছে দিয়ে মহারাণা প্রতাপের সম্মান, কৃতিত্বকে খাটো করা যাবে না। মহারাণা প্রতাপ রয়েছেন মানুষের হৃদয়ে। সেখান থেকে তাকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। তাকে ইতিহাস থেকেও মুছে ফেলা সম্ভব নয়। ওরা (কংগ্রেস) হয়তো বই থেকে চারটি লাইন মুছে দিতে পারে। কিন্তু ওকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়।তবে সাইনির বক্তব্যের নিন্দা করে কংগ্রেস সভাপতি অর্চনা শর্মা বলেছেন, মহারাণা প্রতাপের বীরত্ব, তার গুণের কথা গোটা দেশ জানে। দেশ গর্ব বোধ করে। কিন্তু বিজেপি নেতা ইতিহাসের বিকৃতি ঘটিয়ে সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। এতে সাম্প্রদায়িক অস্থিরতা দেখা দেবে। সামাজিক ঐক্য নষ্ট হবে। তাই তা নিন্দনীয়।কেন্দ্রে ও বিভিন্ন রাজ্যে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার আগেও বেশ কয়েকবার অনেক রাস্তার মোগল আমলের নাম বদলে ফেলেছে। গত বছর বিজেপি এমপি মহেশ গিরি মোগল সম্রাট আউরঙ্গজেবকে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়েছিলেন।




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]