• প্রচ্ছদ » গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ » ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানী বাহিনীর নির্মমতার প্রতিবাদে লন্ডনের হাইড পার্কে পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলি, পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই’


ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘পাকিস্তানী বাহিনীর নির্মমতার প্রতিবাদে লন্ডনের হাইড পার্কে পাসপোর্ট ছিঁড়ে ফেলি, পরে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিই’

আমাদের নতুন সময় : 08/06/2019

দেবদুলাল মুন্না: মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব প্রসঙ্গে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘ পাকিস্তানী বাহিনীর নির্মমতার প্রতিবাদে লন্ডনের হাইড পার্কে যে কয়েকজন বাঙালি পাসপোর্ট ছিঁড়ে আগুন ধরিয়ে ‘রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকে’ পরিণত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে আমি একজন। তারপর ব্রিটিশ স্বরাষ্ট্র দপ্তর থেকে ‘রাষ্ট্রবিহীন নাগরিকের’ প্রত্যয়নপত্র নিয়ে সংগ্রহ করি ভারতীয় ভিসা। আমি ও ডা. এমএ মোবিন আমরা তখন ব্রিটেনে এফআরসিএস পড়ছিলাম। এফআরসিএস পরীক্ষার ঠিক আগে বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। আমরা দুজন পাকিস্তানী নাগরিকত্ব বর্জন করি, ভারতীয় ট্রাভেল পারমিট যোগাড় করে দিল্লিগামী প্লেনে চড়ে বসি। উদ্দেশ্য ওখান থেকে কলকাতা হয়ে রণাঙ্গনে যাওয়া। প্লেনটা ছিল সিরিয়ান এয়ারলাইন্স-এর। দামাস্কাসে পাঁচ ঘণ্টা প্লেন লেট, সবযাত্রী নেমেছে। আমরা  দুইজন আর প্লেন থেকে নামিনি। এয়ারপোর্টে এক পাকিস্তানী কর্নেল উপস্থিত ছিল আমাদের দুজনকে গ্রেপ্তার করার জন্য। প্লেনের মধ্য থেকে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায় না, কারণ প্লেন হলো ইন্টারন্যাশনাল জোন। দামেস্কে সিরিয় এয়ারপোর্ট কর্মকর্তা আমাদের জানিয়েছিলেন আমাদের জন্যই প্লেন পাঁচ ঘণ্টা লেট। এমনিভাবে আমরা বিপদের ভেতর দিয়ে শেষ পর্যন্ত মে মাসের শেষের দিকে সেক্টর টু রণাঙ্গনে গিয়ে হাজির হই।

যুদ্ধক্ষেত্রে হতাহত যোদ্ধা, উদ্বাস্তু ও নির্যাতনের শিকার অসংখ্য নর-নারীর জরুরি চিকিৎসাসেবায় প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয় একটি হাসপাতালের। মুক্তিযুদ্ধের ২ নং সেক্টরের কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফ ও  ভারতের জিবি হাসপাতালের প্রধান সার্জন ডা. রথিন দত্তের সহযোগিতায় চট্রগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্র সংসদের প্রথম জিএস ডা. এমএ মবিনকে নিয়ে আগরতলার বিশ্রামগঞ্জের মেলাঘরে হাবুল ব্যানার্জির আনারস বাগানে গড়ে তুলি প্রথম ফিল্ড হাসপাতাল- ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’। হাসপাতালটির কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলেন ডা. সিতারা বেগম বীরপ্রতীক। সেই হাসপাতালের দুই স্বেচ্ছাসেবী ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও তার বোন সাঈদা কামাল। মুক্তিযুদ্ধের সময় অসংখ্য মানুষের প্রাণ বাঁচিয়েছে আমাদের ৪৮০ শয্যাবিশিষ্ট ফিল্ড হাসপাতাল। এসব কারণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাকে পছন্দ করতেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি আমাকে ডেকে বিভিন্ন সময়ে উপদেশ দিতেন। আমিও উনাকে পছন্দ করতাম।কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শিক অবস্থান থেকে আমি ছিলাম বামপন্থী। আমি এখনও সমাজতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী সমাজ চাই। সম্পাদনা : ইকবাল খান




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]