বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাই সেমিস্টারের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে আমি

আমাদের নতুন সময় : 08/06/2019

কামরুল হাসান মামুন

২০১৭ সালে ব্র্যাক এনজিওর প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদ ঢাকা ট্রিবিউনে ‘ঝরী ৎবধংড়হং ধ ঃৎর-ংবসবংঃবৎ ংুংঃবস ড়িৎশং’ শিরোনামে একটি আর্টিকেল লিখেন। সেই তখন থেকেই বিষয়টা নিয়ে লিখবো লিখবো করে পরে একদম ভুলে যাই। এবার ঈদ প্রাক্কালে ব্র্যাক আড়ং নিয়ে নাটকের পর হঠাৎ লেখাটির কথা মনে পড়লো। প্রথমেই বলে নিই স্যার আবেদ ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কেউ নন। যদিও ব্র্যাক নামের সব প্রতিষ্ঠানেই উনার পরিবারের সদস্যদের জোরালো অবস্থান আছে আর উনার তো আছেই। উনার ওই আর্টিকেলটিও তারই প্রমাণ।
প্রথমেই বলে নিই সেমেস্টার শব্দটির উৎপত্তি ল্যাটিন ভাষা থেকে যার অর্থ হলো ‘ংরী সড়হঃযষু’! ঞৎর-ংবসবংঃবৎ শব্দটিই সঠিক নয়। অর্থাৎ এক বছরে তিনটি সেমেস্টার থাকতে পারে না। হতে পারতো ঃৎরসবংঃবৎ! এটিও ল্যাটিন

শব্দ যার অর্থ ‘ড়ভ ঃযৎবব সড়হঃযং’! এই বিচারে আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও আমেরিকার কিছু কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন মাসের বছরে তিনটি টার্ম বোঝায়। অর্থাৎ সেমিস্টার মানে ১০ মাসের দু’টি সেমেস্টার দুই মাসের একটি লম্বা ছুটি থাকে আর ঃৎরসবংঃবৎ মানে হলো তিন মাসের তিনটি সেমেস্টার যার ফলে বছরে তিন মাসের লম্বা ছুটি থাকে। কিন্তু স্যার ফজলে হাসান আবেদরা যেটা বোঝাচ্ছেন সেটা চার মাসের বছরে তিনটি টার্ম। অর্থাৎ এখানে শিক্ষকদের কোনো ছুটিছাটার বালাই নেই।

উনি এই ছুটিবিহীন ট্রাই সেমেস্টারের পক্ষে মোট ছয়টা যুক্তি দিয়েছেন যেগুলো হলো ১. ছাত্রদের এৎধফঁধঃরহম ড়হ ঃরসব ২. চৎরাধঃব ঁহরাবৎংরঃরবং ধৎব ঃঁরঃরড়হ-ফৎরাবহ! অর্থাৎ টাকা কামাই না করলে বিশ্ববিদ্যালয় চলবে কি দিয়ে? ৩. ঝধষধৎু ংপযবসব! অর্থাৎ কর্মকর্তাদের বসিয়ে খাওয়ানো তো যায় না! ৪. ঝপযবফঁষরহম সধুযবস! এটা খুবই ফঁনরড়ঁং যার সঠিক মিনিং আমার বোধগম্য নয়। ৫. টহঢ়ৎড়ফঁপঃরাব ফড়হিঃরসব! ৬. ঞযবৎব রং ধষৎবধফু ঢ়ষবহঃু ড়ভ ঃরসব ঃড় ৎবংঃ! অর্থাৎ ২১ দিনের ম্যান্ডেটরি সরকারি ছুটিকেই এনাফ ধরে নিচ্ছেন।

এই যে ছয়টি কারণ উনি দেখালেন এখানে কোথাও শিক্ষকদের গবেষণা এবং ছুটির কোনো কথা নেই। একটি বিশ্ববিদ্যালয় মানেই হলো জ্ঞান সৃষ্টি ও সৃষ্ট জ্ঞান ছড়ানোর ব্যবস্থা। সারা পৃথিবীতে শিক্ষকরা একনাগাড়ে বিরামহীন অন্তত ১.৫ থেকে দুই মাসের একটি লম্বা ছুটি পান। এ সময়টা তারা সাধারণত গবেষণা, গবেষণাপত্র লেখা, বই লেখা, কনফারেন্সে যোগদান এবং পরিবারকে সময় ও তাদের নিয়ে বেড়ানো ইত্যাদি কাজে ব্যয় করেন। আমাদের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের কর্মচারী মনে করে তাদের ৯-৫টা অফিস করায়। তারা সদা চেষ্টা করে কোনো শিক্ষক যেন এই সময়ের মাঝের সময়টি কোনো না কোনো কাজে ব্যয় করে। অর্থাৎ বিশ্রামে অলস সময় যেন না কাটায়। এই ট্রাই-সেমেস্টার চায় তার মূল কারণ হলো টাকা কামানো। এই মনোবৃত্তি নিয়েই চলছে আমাদের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এজন্যই আমি এদের বিশ্ববিদ্যালয় বলতে চাই না। আর আপনি স্যার ফজলে হাসান আবেদ কেন এই বিষয়ে লিখবেন। লিখতে পারতো ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য কেউ। এতে বোঝা যায় উনি নিজেকে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিক মনে করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রাই সেমেস্টারের সম্পূর্ণ বিরুদ্ধে আমি। এর প্রধান আরেকটি কারণ হলো তিন মাসের সেমেস্টার হলে ছেলেমেয়েরা দ্রুত খাবে পরীক্ষায় বমি করবে আর ভুলে যাবে। পরীক্ষা যদি বছরের শেষে হয় তাহলে ছাত্রছাত্রীরা প্রায় একটি বছর ধরে বিষয়গুলোকে আমাদের মাথায় রাখতে হয়। দীর্ঘ সময় হওয়ার কারণে এটি মাথায় গেঁথে যাওয়ার এনাফ সময় পায়। আর অন্য যেই বড় কারণ সেটাতো বলেছি যে, শিক্ষকরা গবেষণার জন্য সময় পায় আর ছাত্রছাত্রীরাও এক্সট্রা কাররিক্যুলার ধপঃরারঃরবং-এর জন্য সময় পায়। ফেসবুক থেকে




সর্বশেষ সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক ঃ নাঈমুল ইসলাম খান
বার্তা ও বাণিজ্য বিভাগ ঃ ১৯/৩ বীর উত্তম কাজী নুরুজ্জামান সড়ক , পশ্চিম পান্থপথ, ঢাকা থেকে প্রকাশিত
ছাপাখানা ঃ কাগজ প্রেস ২২/এ কুনিপাড়া তেজগাঁও শিল্প এলাকা ,ঢাকা -১২০৮
ই- মেইল : [email protected]